বেনিন শহীদ শান্তিসেনা দিবসের স্মরণ সভা

নিউজ ডেস্ক:   সারাবিশ্বের সংঘাতময় অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের শান্তিসেনাদের আত্মত্যাগ বিশ্বে সর্বজনস্বীকৃত বলে দাবি করেছেন কোয়ালিশন অব লোকাল এনজিও’স, বাংলাদেশ (সিএলএনবি) এর চেয়ারম্যান হারুনূর রশিদ।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১:৩০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘বেনিন শহীদ শান্তিসেনা দিবস’ এর ১৭তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে স্মরণসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

হারুনূর রশিদ বলেন, “জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সব চেয়ে বেশি সংখ্যক সামরিক ও পুলিশ সদস্য প্রেরণকারী দেশ বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রায় ৭ হাজার শান্তিরক্ষী জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন। এ পর্যন্ত বিশ্বের ৪০টি দেশে ৫৪টি মিশনে প্রায় ১ লাখ ৭৩ হাজার বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে বিশ্বের ১১টি দেশে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আয়ের খাত হলো জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন।”

তিনি আরো বলেন, “আমাদের গৌরব বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশ। জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তারা শান্তির জন্য কাজ করছেন। সংঘাতময় দেশে শান্তি স্থাপন করতে গিয়ে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশের ১৫১ জনকে প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে। তাঁদের এ আত্মত্যাগ দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনছে। আমরা এই শান্তিরক্ষী সেনাসহ শান্তিরক্ষা মিশনে নিহত/মৃত্যুবরনকারী দেশের সকল শান্তি সেনা ও মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের রুহের মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করছি।”

সিএলএনবি’র চেয়ারম্যান বলেন, আজ বেনিন শহীদ শান্তিসেনা দিবস ১৭তম বর্ষপূর্তি। ২০০৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর মধ্যরাতে (বাংলাদেশ সময় ২৫ ডিসেম্বর) পশ্চিম আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়া ও সিয়েরালিওন থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন সমাপ্ত করে দেশে ফেরার পথে বেনিন সাগর উপকূলে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন বাংলাদেশের ১৫ সেনা কর্মকর্তা। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত অবস্থায় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশ এর আত্মদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশের শান্তি রক্ষা মিশন দ্যাগ হেমারসোল্ড (উধম ঐধসসধৎংশলড়ষফ) জাতিসংঘ শান্তি পুরস্কার লাভ করেছে। আমরা আশা করি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অবদানের জন্য বাংলাদেশ একদিন নোবেল শান্তি পুরস্কার অর্জন করবে।”

নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দিনের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় আরো বক্তব্য রাখেন কর্ণেল (অবঃ) দিদারুল আলম বীরপ্রতীক, সুপ্রীমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জি. এম. জাবির, কর্ণেল (অবঃ) আশরাফ উদ্দিন, পিডিপি’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুন আল রশিদ, শ্রমিক নেতা এ.এ.এম ফয়েজ হোসেন, বজলুর রহমান বাবলু, সুলতানা বেগম, ইলিয়াস হোসেন, ডিপিবি’র মহাসচিব আমান উল্যাহ মাহফুজ, সাবেক ছাত্রনেতা হাসান মঞ্জুর, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক জোটের চেয়ারম্যান মোঃ খাইরুল ইসলাম প্রমুখ।

উল্লেখ্য, বেনিনে দুর্ঘটনায় নিহত সেনা কর্মকর্তারা হলেন লেঃ কর্নেল আরেফিন, মেজর রওনক, মেজর রহিম, মেজর মুস্তাফিজ, মেজর মোশাররফ, মেজর ইমতিয়াজ, মেজর বাতেন, ক্যাপ্টেন আব্দুল মাবুদ, ক্যাপ্টেন রাকিব, ক্যাপ্টেন আরিফ, ক্যাপ্টেন রফিক, ক্যাপ্টেন ফরিদ, ক্যাপ্টেন জাহিদ, ক্যাপ্টেন আলাউদ্দিন ও সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার শফিক।