শ্রীমঙ্গলে বিষাক্ত পটকা মাছ খেয়ে বউ ও শ্বাশুড়ির মৃত্যু

মো.জহিরুল ইসলাম,স্টাফ রিপোর্টার:  মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিষাক্ত পটকা মাছ খেয়ে একই পরিবারের দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সম্পর্কে তারা বউ ও শ্বাশুড়ি হন।

বুধবার রাতে উপজেলার উত্তর ভাড়াউড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল থেকে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। নিহতরা হলেন, সদর ইউনিয়নের উত্তর ভাড়াউড়া গ্রামের জয়নাল আবেদিনের স্ত্রী সাহিদা বেগম (৪০) ও তার পুত্রবধু নুরুন্নাহার (২৯)। নিহত নুরুন্নাহারের শিশুপুত্র নাঈম (৯) গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

চেয়ারম্যান ভানুলাল রায় আরো বলেন, এই পোটকা মাছটি (ব্যাঙ নমুনার) এটি একটি বিষাক্ত মাছ, যা মানব দেহে প্রবেশের ৬ ঘন্টার মধ্যে মানুষ মারা যায়। তিনি জানান, গতকাল দুপুরে তাদের বাড়িতে এ মাছ রান্না হয়। মাছগুলো এ জনেই খান। জয়নাল মিয়া ও তার বড় ছেলে রুবেল মিয়া ফটকা মাছ না খাওয়ায় তাদের কিছু হয়নি। জয়নাল মিয়া জানান, বিকেল সাড়ে ৩টা ৪টার দিকে তারা দুপুরের খাবার খায়। রাত ৮টার দিকে শরীরে জালাপুড়া শুরু হয়। রাত ১০টার দিকে দুইবার বমি হয় এর পর পরই তারা মারা যান।

এ বিষয়ে প্রতিবেশি রুমান জানান, সকাল সাড়ে নয়টায় এক জেলে এই পটকা মাছ নিয়ে আসে, কেউ মাছ না রাখায় অনেক বার ঘুরাঘুরি করে আবার এই বাড়িতে এসে মাছ বিক্রি করে। এই জেলে তিন/চারদিন পরপর এসে এই এলাকায় মাছ বিক্রি করে যায়।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, রাতে আমরা খবর পেয়েছি উত্তরভাড়াউড়া গ্রামে দুজন মানুষ ফুটপয়জিং এ মারা গেছেন। এবং একজন শিশু আমাদের হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। শিশুটি শঙ্কা মুক্ত রয়েছে। আমরা তার চিকিৎসা দিচ্ছি। আমরা জানতে পেরেছি তারা ফোটকা মাছ খেয়েছে। মরদেহ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সেখানে জানা যাবে তারা পটকা মাছের বিষক্রিয়ায় মারা গেছে , নাকি অন্য কোন কারনে মারা গেছে। আমরা জনগণকে বলবো পটকা মাছ একটি বিষাক্ত মাছ। এই মাছ না খাওয়ার জন্য নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

মরদেহ মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সেখানে জানা যাবে তারা পটকা মাছের বিষক্রিয়ায় মারা গেছে , নাকি অন্য কোন কারনে মারা গেছে।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ) সার্কেল আশরাফুজ্জামান বলেন, আমরা লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেছি, ঘটনা রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।