প্রয়াত সাংবাদিক রাহাত খানকে স্মরণ

রাহাত খানকে স্মরণ করছেন সাংবাদিক নেতারা
রাহাত খানের স্মরণ অনুষ্ঠান

সুমন দত্ত: প্রখ্যাত সাংবাদিক ও কথা সাহিত্যিক রাহাত খানকে নিয়ে বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিশোরগঞ্জ সাংবাদিক ফোরামের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান হয়।

এদিন রাহাত খান সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করেন তার স্ত্রী অর্পনা খান, তার সহকর্মী জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন ও দৈনিক স্বদেশ প্রতিদিনের বার্তা সম্পাদক খায়রুল আলম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুল, জাতীয় প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ সভাপতি ওমর ফারুক, প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি আজিজুল ইসলাম ভূইয়া, উত্তম চন্দ্র দেব মন্টু, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিউজে) একাংশের সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ।

একই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আবদুল হমিদের এপিএস মো. আব্দুল হাই ও স্বাস্থ্য সচিবের প্রয়াত স্ত্রী কামরুন নাহার জেবুকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করা হয়। তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সবাই দোয়া পড়েন।

সাংবাদিক খায়রুল আলম বলেন, রাহাত খান ছিলেন আমার সাংবাদিক জীবনের প্রথম সম্পাদক। দৈনিক ইত্তেফাকে তিনি আমার সঙ্গে কাজ করেছেন। পরে দৈনিক বর্তমানে তাকে আমি পেয়েছি। তিনি ছিলেন আমার অভিবাবক, আর্দশ ও ফিলোসফার। তিনি চলে যাওয়ায় আমি অভিবাবক হারিয়েছি। রাহাত খানই আমাকে দৈনিক বর্তমানে বার্তা সম্পাদক করেন। তার আদর্শ আমাদের ধরে রাখতে হবে।

অপর্ণা খান বলেন, রাহাত খানকে নিয়ে আমেরিকা গেলে নিউইয়র্কের জেএফকে এয়ারোপোর্টে তার পরিচিত এক ব্যক্তিকে পাই। তিনি মানুষের প্রিয় ছিলেন। সেটা সুদুঢ় আমেরিকাতে গিয়েই টের পেয়েছি। মিথুন নামের সেই ছেলেটি বিমানবন্দর ত্যাগ করতে সহায়তা করল। তা না হলে আমাদের ইমিগ্রেশনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টার এক হাজার লোকের পিছনে দাড়িয়ে থাকতে হতো।

তিনি আরো বলেন, আজ রাহাত খান বেচে থাকলে আমাদের বিবাহের ২৪ বছর হতো। তিনি নেই। আমার ২১ বছরের একটি ছেলে আছে। সে এখনো তার বাবা স্মৃতির দিকে তাকিয়ে থাকে। রাহাত খানের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে অনেকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আজ তারা আমাদের কোনো খোঁজ নেয় না। সবার কাছে ভালো থাকার জন্য দোয়া চেয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।

মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, রাহাত খানের সঙ্গে রমনা পার্কে আমরা কয়েকজন শরীর চর্চা করতাম। ওই পার্কে আরো অনেক ভিআইপি ছিল। তারাও হাটতো। “কিছুক্ষণ” নামে রাহাত খান একটা গ্রুপ বানিয়েছিল। আমাকে রাহাত খান সেই গ্রুপে টেনে নিয়ে গিয়েছিল। রাহাত খান জন্মদিনের উসিলায় একেক দিন একেক সময় চা খাওয়াতেন। এভাবে বছরে একজনের চার পাচবার জন্মদিন হয়ে যেত। সে এক আনন্দের স্মৃতি। তিনি রাহাত খানকে স্মরণ করার জন্য আরো উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেন। মনি সিং মেলার মতো রাহাত খানের নামে কোনো অনুষ্ঠান করার প্রস্তাব করেন তিনি।

ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, রাহাত খানকে আমার কর্মস্থলে পেয়েছি। তিনি আমাকে বহুভাবে সহায়তা করেছেন। আমার স্বামী নঈমকে তিনি বলতেন, ফরিদার কিছু হলে তোমার খবর আছে। রাহাত খানকে হারিয়ে আমি আমার অভিবাবককে হারিয়েছি। আমি তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি।

ওমর ফারুক চৌধুরি বলেন, রাহাত খানের সঙ্গে আমার কাজের সুত্রে যোগাযোগ হয়নি। প্রেসক্লাবে নির্বাচন সূত্রে ২০০২ সালে তার সঙ্গে আমার পরিচয়। ভোট চাইতে ইত্তেফাকে গেলে মনে মনে ভয় হচ্ছিল তার রুমে ঢুকব নাকি। তিনি কাজে ব্যস্ত ছিলেন। পরে সেখানকার লোকজন বলল ঢুকে যান। আমি সাহস করে ঢুকে গেলাম। তারপর তার কাছে ভোট চাই দোয়া চাই বললে তিনি বুকে জড়িয়ে মাথায় হাত দিয়ে আর্শীবাদ করে দিলেন। তোমার জয় হবে।

কুদ্দুস আফ্রাদ বলেন, এই স্মরণ সভায় যারা এসেছেন তারা রাহাত খানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এসেছেন। রাহাত খান লেখালিখির জগতে এক বিশাল কিংবদন্তি। জ্ঞানীর কদর আমরা কমই করি। কিশোরদের নিয়ে তিনি বহু জনপ্রিয় উপন্যাস লিখেছেন। সাংবাদিকদের নিয়ে সংগঠন তৈরি করতে রাহাত ভাইয়ের সাহায্য পেয়েছি।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম