আমিরের সুরক্ষা নেই, ইসলামের হেফাজত কিভাবে করবে: তথ্যমন্ত্রী

আমিরের সুরক্ষা নেই, ইসলামের হেফাজত কিভাবে করবে: তথ্যমন্ত্রী
আমিরের সুরক্ষা নেই, ইসলামের হেফাজত কিভাবে করবে: তথ্যমন্ত্রী

সুমন দত্ত:   যারা নিজেদের আমিরের হেফাজত করতে পারে না, তারা ইসলামের কি হেফাজত করবে? ইসলাম ধর্ম কোনো ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠীর নির্দেশে পরিচালিত হবে না। দেশের জনগণই ঠিক করবে তারা কীভাবে তা পালন করবে। 

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ। মৌলবাদী গোষ্ঠীকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ইস্যু থেকে সরে আসার আহবান জানান তিনি। তা না হলে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের মোকাবিলা করবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এই মৌলবাদী শক্তি ৭১ এ ফতোয়া দিয়েছিল, যারা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে তারা ইসলামের দুশমন। তারা কাফের। এই একই শক্তি এখন ভাস্কর্য নিয়ে হুমকি দিচ্ছে। আর এরা আছে বিএনপি নামক রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে। তাই বিএনপিকে সতর্ক করে মন্ত্রী বলেন, সাপ নিয়ে খেলবেন না। এই সাপ একদিন আপনাদের ছোবল মারবে।

তিনি বলেন, পৃথিবীতে বহু দেশে ভাস্কর্য আছে। সৌদি আরবে তাদের দেশের বাদশাহর ভাস্কর্য আছে। সেখানে সৌদি নাগরিকরা জোব্বা টুপি পড়ে ভাস্কর্যের নিচে দাড়িয়ে ছবি তোলে। তেমনি তুরস্কে আছে এরদোগানের ভাস্কর্য। পাকিস্তানে আছে কায়েদে আযমের ভাস্কর্য। বাংলাদেশেও আছে বহু মানুষের ভাস্কর্য। সেই সব না দেখে তারা দেখলেন শুধু বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য। আমার কাছে মনে হয় এর কোনো রাজনৈতিক দূরভিসন্ধি। এরা একটি দলের ক্রীড়নক হিসেবে কাজ করছে। তাই অবিলম্বে এই ইস্যু থেকে সরে দাঁড়াতে বলে তিনি মৌলবাদী গোষ্ঠীকে। তা না হলে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে তা প্রতিরোধ করা হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, দেশে এই মৌলবাদী শক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করেছে বিএনপির স্থপতি জিয়াউর রহমান। যারা এই দেশটাকে মানেনি সেই শাহ আজিজকে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে বসিয়েছিলেন। এই শাহ আজিজ মুক্তিযুদ্ধকে গোন্ডগোল ও ভারতীয় চরদের কর্মকান্ড বলেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের তিনি পুরস্কৃত করেছিলেন। তাদের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত বানিয়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। সেই একই মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিরোধী শক্তি বিএনপির ছায়াতলে আছে। এদের দিয়েই ভাস্কর্য ইস্যু তৈরি করা হয়েছে।

যারা নিজেদের আমিরের মুখ থেকে অক্সিজেন মাস্ক খুলে নেয়, তারা করবে ইসলামের হেফাজত। তারা শফি হুজুরের ছেলেকে তার পিতার জানাযা পড়তে দেয়নি। বাংলাদেশের আইন একজন আসামিকেও প্যারোলে মুক্তি দিয়ে মা বাপের জানাযা পড়তে দেয়। আর এরা তার সন্তানকে জানাযা পড়তে দেয়নি। এরা করবে ইসলামের হেফাজত। এদের হাতে ইসলাম সুরক্ষিত নয়।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম