বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন সমাবেশ অনুষ্ঠিত

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে ১৮ ডিসেম্বর ২০২০ শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। রাজু আহমেদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জহিরুল ইসলাম, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় কার্যপরিচালনা কমিটির সদস্য কমরেড মানস নন্দী, শ্রমিক নেতা মানিক হোসেন, ভজন বিশ্বাস প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ সমাবেশে বলেন, “রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের মাধ্যমে সরকার প্রায় ৫৭ হাজার কর্মক্ষম শ্রমিকের হাতকে বেকারের হাতে পরিণত করেছে। একইসাথে পাটশিল্প ও পাটচাষের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত খাতকে ধীরে ধীরে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার রাষ্ট্রীয় চক্রান্তের অংশ হিসেবে এবার তাদের চোখ পড়েছে চিনিকলের দিকে। লোকসানের মূলে দায়ী দুর্নীতিবাজ প্রশাসনকে না হটিয়ে শ্রমিকদের উপর মিথ্যা দায় চাপিয়ে দিয়ে সরকার দেশের ১৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। অথচ চিনিকলগুলো বন্ধ হলে ১ লাখেরও বেশি শ্রমিক-কর্মচারী চাকুরি হারাবে। চিনিকলগুলোকে ঘিরে গড়ে ওঠা লোকালয়, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বহু কিছুই বেসরকারি খাতে চলে যাবে। এভাবে সরকার শ্রমিকদের জীবনের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ না ভেবে একের পর এক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে ধনিকশ্রেণির স্বার্থে বন্ধ করে দিচ্ছে।

গার্মেন্টস’সহ বিভিন্ন কারখানায় ছাঁটাই, লে-অফ, হয়রানি থেমে নেই। ন্যায্য পাওনার দাবিতে আন্দোলন করলে শ্রমিকদের উপর পুলিশ লেলিয়ে দেওয়া হয়। তাজরীন ফ্যাশনের অগ্নিকাণ্ডে আহত শ্রমিকরা প্রায় দুই মাস জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছিল। অসুস্থ হয়ে একজন মৃত্যুবরণও করেছে। অথচ, তাদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিকে সরকার গুরুত্ব দেয়নি। বরং ভোর রাতে তাদের উপর পুলিশি আক্রমণ চালিয়েছে। এর মতো আর নির্মম রাষ্ট্র কী হতে পারে?”

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “আজকে আমরা যদি প্রবাসী শ্রমিকদের জীবনের দিকে তাকাই, তাহলে তাদের প্রতি সরকারের দায়িত্বহীনতাই দেখতে পাই। বিশ্বের ১৬৯টি দেশে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ প্রবাসী শ্রমিক আছে। এর ৭৫ শতাংশই আছে মধ্যপ্রাচ্যে। এর বাইরে আমেরিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় শ্রমিকরা আছে। প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ দক্ষ শ্রমিকদের সংখ্যা মাত্র ২ শতাংশ। বাকি শ্রমিকরা অদক্ষ বা আধা-দক্ষ। নির্মাণ শ্রমিক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী-এরকম বিভিন্ন ছোটখাটো শ্রমের সাথে তারা যুক্ত। করোনাকালে প্রবাসী শ্রমিকদের অনেকেই কাজ হারিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছে। প্রচণ্ড দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ভীতির মধ্যে তাদের দিন কাটছে। এই প্রবাসী শ্রমিকদের রেমিট্যান্সই তো দেশের প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, অথচ তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকার নিচ্ছে না। প্রবাসী নারী শ্রমিকদের উপর যৌন নির্যাতনের কথা বিভিন্ন সময়ে পত্রিকায় ছাপা হলেও তা সরকারের নজর এড়িয়ে যায়। কেননা, প্রবাসী শ্রমিকদের ভিসা সুবিধা ও সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকানাধীন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী নিয়োগের পরিবর্তে আউটসোর্সিং-এর মাধ্যমে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের মাধ্যমে শ্রম আইনে প্রদত্ত অধিকার থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। মালিকশ্রেণির স্বার্থে বিশ^ব্যাংক, আইএমএফ-এর পরামর্শে গ্যাটস্ (GATS) চুক্তির ভিত্তিতে দেশে দেশে পরিষেবা খাতকে বেসরকারিকরণের চক্রান্তের অংশ হিসেবে এদেশের সরকারও সেই পথে হাঁটছে। ফলে শ্রম আইনে যতটুকু অধিকার আছে, সেটুকুও আজ তারা দিতে রাজি নয়। এর বিরুদ্ধে শ্রমিক-কর্মচারীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বিকল্প নেই।”

ঢাকানিউজ২৪ডটকম