‘আলোর স্মরণে কাটুক আঁধার’- ২০২০

নিউজ ডেস্ক: মুক্তিযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মরণে নারীপক্ষ’র আয়োজনে ‘আলোর স্মরণে কাটুক আঁধার’ অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৮৮ সাল থেকে প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে বিজয় দিবসের প্রাক্কালে মুক্তিযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মরণে বিভিন্ন প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে নারীপক্ষ নিয়মিতভাবে “আলোর স্মরণে কাটুক আঁধার” অনুষ্ঠানটি উদযাপন হয়ে আসছে। এবারের প্রতিপাদ্য “মুক্তিযুদ্ধ ও ইহজাগতিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন”।

এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ‘আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানের সাথে সাথে প্রতিকী মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের স্মরণে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন নারীপক্ষ’র সদস্য রেহানা সামদানী। গান পরিবেশন করেন অনিমা মুক্তি, আাবৃত্তি করেন ইকবাল আহমেদ, স্মৃতিচারণ করেন মুক্তিযোদ্ধা মো: শফিকুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা শাহীন আনাম, মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মাশরুকুর হক এবং বীরাঙ্গনা রোকেনা বেওয়া।

স্মৃতিচারণের সময় মুক্তিযোদ্ধা মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের কিছু ঘটনা। তিনি আহবান জানান, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তি যুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানানোর ব্যবস্থা করা হোক যেন ভবিষ্যতে কোন রকম ধর্ম, সংস্কৃতি, গান নিয়ে কোন রকম ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ না থাকে।

আরো বলেন, এখনও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে মানুষকে অনেক কিছু জানানো হয়নি। অনেক কিছু অমিমাংশিত রয়েছে, আরো অনেক ঘটনা রয়েছে। বাংলাদেশকে আমরা আমাদের দেশ বানাতে চই, ধর্ম, সংস্কৃতি অন্যান্য নিয়ে বতর্ক যেন না হয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়েই বাঁচতে চাই। মুক্তিযোদ্ধা শাহীন আনাম তিনি বলেন, আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্তু শহীদ রুমীর স্বপ্ন আমরা আমাদের দেশকে আমাদের মতো করে গড়ে তুলবো তা আজও পূরণ হয়নি।

যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের কিছু ঘটনার সাথে যুদ্ধের প্রতিটি দিনের ঘটনা যেন মনে আছে, মনে একেবারে গেথে আছে এভাবে বর্ণনা করেন। মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মাশরুকুর হক তিনি স্মৃতি চারণকালীন সময় বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ফলে আমরা একটা স্বাধীন জাতি হিসাবে বিশেষ মাথা উচু করে আছি এটাই আমার পরম পাওয়া।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ের ঘটনা বর্ণনা করেন, বিশেষকরে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার ঘটনা বর্ণনা করেন, যুদ্ধে প্রশিক্ষণ সম্পর্কেও বর্ণনা করেন। তিনি রাজশাহীর চারঘাটের বীরাঙ্গনা, তিনি বলেন সরকারের কাছে আমাদের দাবী আমরা যেন সম্মানের সাথে বাঁচতে পারি এবং এখন আমাদেও বয়স হয়েছে, এই বয়সে যেন আমরা ভালোভাবে চলতে পারি তার একটা ব্যবস্থা করে।

নারীদের ক্যাম্পে আটকে রাখার ঘটনা ও রাজাকারদের কিছু ঘটনা বলেন। পাকবাহিনীর নৃশংসতার কথা ও তাঁর বিয়ে ও জীবনের অন্যান্য ঘটনা বলেন। চারঘাটে যে ক্ষতির হয়েছে তাও বর্ণনা করেন। এলাকার যুবকদের কিভাবে মারা হয়েছে তাও বর্ণনা করেন। সরকারের কাছে চলাফেরার জন্যও দাবি করেন। অংশগ্রহণকারীরা অনেতে দাঁতে মেসেজের মাধ্যমে স্যালুট জানায়। সূত্র: নারীপক্ষ

ঢাকানিউজ২৪ডটকম