পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পের শ্লিপার ফ্যাক্টরির উৎপাদন শুরু

নিউজ ডেস্ক:    সিআরইসি’র তত্ত্বাবধানে নির্মাণাধীন বাংলাদেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের শ্লিপার ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানা এলাকা পরিদর্শন করেছে সরকার ও সিআরইসি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। ভাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন (সিআরইসি ট্র্যাক-লেইং বেস’এ একই এলাকায় অবস্থিত) এলাকায় অবস্থিত এই প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যান তারা।

শ্লিপার ম্যানুফেকচারিং কারখানা পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন এমপি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা; বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক শামসুজ্জামান; পিবিআরএলপি প্রকল্প পরিচালক ফখরুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ও সিআরইসি’র প্রকল্প পরিচালক ওয়াং কুন সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প বাংলাদেশের মধ্য পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। এই রেলপথ নির্মাণের কাজ শেষ হলে এটি বাংলাদেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলকে সংযুক্ত করবে এবং এটিই তখন এই দু’টি অঞ্চলের মধ্যে যাত্রী ও পণ্যবাহী বাহনের পরিবহনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রেলপথটি ঢাকা স্টেশন থেকে শুরু হয়ে মাওয়া, পদ্মা বহুমূখী সেতু (নির্মাণাধীন) এবং ভাঙ্গা হয়ে যশোরে গিয়ে শেষ হবে। নতুন লাইনের সর্বমোট দৈর্ঘ্য হবে আনুমানিক ১৬৮.৮ কি.মি.। এছাড়াও, চীনের এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে পিবিআরএলপি দেশের সর্ববৃহৎ জিটুজি ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রকল্প।

পিবিআরএলপি’র জন্য শ্লিপার ফ্যাক্টরিটি নির্মাণ করেছে পিবিআরএলপি’র ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সিআরইসি। কারখানাটি ১.৮১৫ একর এলাকাজুড়ে অবস্থিত, ফ্যাক্টরিতে ১০৪ মোল্ড সেট, ১৬টি স্টেশন, ৬টি স্টিম কিউরিং পিটস এবং ২টি স্কাই ক্রেন ব্যবহার করা হয়েছে। শ্লিপার ফ্যাক্টরিটি পুরোপুরি স্টিল স্ট্র্যাকচারে ঘেরা ও অটোমেটিক অ্যাসেম্বলি লাইন অপারেশনের মাধ্যমে এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই কারখানার সবগুলো ইক্যুইপমেন্ট সিআরইসি সরবরাহ করেছে এবং এগুলো বাংলাদেশ রেলওয়ে নির্মাণ উপযোগী করে ব্যবহার করা হয়েছে; যেখানে এশিয়া ও ইউরোপের স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করা হয়েছে। এই কারখানা থেকে প্রতিদিন গড়ে পাঁচশ’রও বেশি শ্লিপার তৈরি করা যাবে। এই শ্লিপার ফ্যাক্টরটির (এই কারখানাটির পিবিআরএলপি’র জন্য ৩ লাখ ৭০ হাজার শ্লিপার তৈরি করবে) বিভিন্ন ধরণের শ্লিপার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১,৬৭৬ মিমি ব্যালেস্টেড ব্রড গেজ (বিজি) শ্লিপার, ব্যালাস্ট-লেস ব্রড গেজ শ্লিপার এবং ডুয়াল গজ শ্লিপার, যা বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই শ্লিপার ফ্যাক্টরিটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অত্যাধুনিক ইক্যুইমেন্ট, স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন ও অটোমেশন সমৃদ্ধ।

বৈশ্বিক মহামারি চলাকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিআরইসি’র অসাধারণ অগ্রগতিতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।এ উপলক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং এক বার্তায় সিআরইসিকে ধন্যবাদ জানান।

পিবিআরএলপি’র জন্য সিআরইসির প্রকল্প পরিচালক ওয়াং কুন জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের অনুমতি সাপেক্ষে বর্তমান প্রতিক‚ল পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক প্রকিউরমেন্ট অনিশ্চয়তা দূর করতে, গুণগতমানের শ্লিপার প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে, দ্রæততম সময়ের মধ্যে শ্লিপার তৈরি ও সরবরাহ করতে, নির্মাণ ব্যয় কমাতে এবং চীন থেকে অত্যাধুনিক ও উন্নতমানের প্রযুক্তি পণ্য আমদানির জন্য সিআরইসি শ্লিপারফ্যাক্টরিটি তৈরি করেছে। শ্লিপার ফ্যাক্টরিটি শ্লিপারলেইং বেজের অংশ।

ওয়াং কুন বলেন, ‘শ্লিপার-লেইং বেসটিতে বর্তমানে দুইশ’ স্থানীয় কর্মী কাজ করছেন, যারা সিআরইসি’র সিনিয়র চীনা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পেশাদার প্রশিক্ষণ লাভ করেছেন। চলতি বছরের ২২ আগস্ট শ্লিপার ফ্যাক্টরিটি ছোট পরিসরে উৎপাদন শুরু করে। এখন পর্যন্ত ফ্যাক্টরিটি খুব ভালোভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং এখান থেকে উৎপাদিত শ্লিপার গুলো বেশ উন্নতমানের।’

ফ্যাক্টরিটি সফলভাবে নির্মাণ ও পিবিআরএলপি’র বিভিন্ন মাইলফলক অর্জনে সহায়তা প্রদানের জন্য ওয়াং কুন বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকা কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালটেন্ট, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস ও চায়না এক্সিম ব্যাংকে ধন্যবাদ জানান।

চলমান বৈশ্বিক মহামারিতেও বাধাহীনভাবে এই মেগা প্রকল্পের কাজ চালিয়ে নেয়া কীভাবে সম্ভব হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াং কুন বলেন, ‘বৈশ্বিক মহামারির শুরু থেকে বাংলাদেশ ও চীনা কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে সিআরইসি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

তিনি আরো বলেন, ‘কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সিআরইসি প্রতিনিয়ত প্রশিক্ষণ, সার্বক্ষণিক নজরদারি, প্রতিদিন জীবাণুনাশকরণ, কঠোর কোয়ারেন্টিন সিস্টেম (যেখানে চীন থেকে আমদানিকৃত পর্যাপ্ত মেডিকেল উপকরণ ব্যবহার করা হয় এবং এই প্রকল্পে অভিজ্ঞ চীনা চিকিৎসকরা কাজ করেন) বজায় রাখে।’

ওয়াং কুন বলেন, ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অর্জনের মাধ্যমে সিআরইসি পুরোদমে পিবিআরএলপি’র তৈরির কাজ সম্পন্ন করতে পারবে।’