বাংলাদেশের গনতান্ত্রিক আন্দোলন, শেষ পর্ব – মুস্তাফা হুসেন

বাংলাদেশের গনতান্ত্রিক আন্দোলন, শেষ পর্ব – মুস্তাফা হুসেন
বিগত তত্ত¡াবধায়ক সরকারের আন্দোলনের বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পুতন রাজনৈতিক শক্তির সমােেবশ যেমন লক্ষ্য করা যায়। তেমনি আন্দোলনের পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কেও প্রশ্ন দেখা দেয়।
অনুষ্ঠান শ্রেনী ও সামাজিক গোষ্ঠী

এবারকার আন্দোলন গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছিল। থানা ও জিলা পর্যায়ের সকল সরকারী ও বেসরকারী অফিস বন্ধ ছিল। ডেপুটি কমিশনারের কক্ষ ব্যতিত তার নিজের অফিস ও অন্য সকল অফিস আদালত সর্ম্পূন বন্ধ ছিল। প্রথম দিকে কিছু কিছুকাজ চললেও পরবর্তী সকল সংস্থা প্রকৃত পক্ষে কার্যকম বন্ধ হয়ে যায় । এই বন্ধকরনের পিছনে কতিপয় তরুনের পিকোটিং অথবা ধর্ম, হুমকি, বল প্রয়োগ ও ….অথবা ইংরেজিতে যাকে বলা হয় কো- এরশন-ই কেবল মাত্র দায়ী ছিলনা।নেতৃত্বদানকারী শক্তি ও বহুলংশে এই ঘটনা ঘটানোর জন্য অলক্ষ্যে কাজ করেছিল। এই অলক্ষ্য শক্তিটি কারা ? মফঃস্বলও গ্রাম পর্যায়ের এরা হলো বর্গামালিক জোতদার ধনী কৃষক ও ব্যবসায়ী মহাজনদের লোকজন। এদের বৈশিষ্ট্য হলো বিগত অর্ধ শতাব্দী কাল এবং তারপর থেকে নতুন প্রজন্মের সময়কাল অর্থাৎ গত বিশ বছর যাবৎ এরা নিজেদের অধিকার আদায় এবং ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার জন্য অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে এসেছিল। শ্রেনি হিসাবে এরা প্রাতি- সামন্ত শ্রেনির নিচেকার স্তর এবং প্রাতি -বুর্জোয়া হওয়ার পক্ষে অথবা বুর্জোয়া হওয়ার প্রবল আকাংখা করে। সময় বিশেষ ধাওরামী, মাস্তানি করে। ভালো সামাজিক কাজকর্ম ও করে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান- মেম্বার হয়। গ্রামাঞ্চলে অথবা মফঃস্বলে ‘অসহযোগ’ কে কার্য্যকরী করার প্রক্রিয়ায় এরাই ছিল দিক থেকে মদদ যোগায়। গ্রামের শিক্ষকদের অধিকাংশ এদের পক্ষে। এবং এদের পক্ষর পাতি-সামন্ততান্ত্রিক ও ধনী কৃষকদের একাংশের জোর (শক্তি) যে এলাকায় বেশী। সে এলাকায় অসহযোগ কারী এবং আন্দোলন কারীদের প্রভাব ও বেশী।

তদনুপাতে ক্ষেত মজুর ও গরীব কৃষক ও প্রভাবশালী লোকদের পথে সমর্থন যোগায়। এ সমর্থন টা অনেকটাই প্রভাব এবং উৎপাদন সম্পর্কেরা সাথে সম্পর্কীত। সহুতাত ক্ষেতমজুর ও গরীব কৃষক অথবা প্রান্তিক বাজর্নী বন্ধনের নিজেদের ভিতরে বা পরিমন্ডলে নিরপেক্ষ থাকে। তারা তত্বাবধায়ক আন্দোলন ব্যাপারে যোক্তিকতার প্রশ্নে সমর্থন জানালে ও কার্য্যক্ষেত্রে তাকে সমর্থন জানায়নি অর্থাৎ তারা চাষবাস ঠিকই চালিয়ে যেতো উৎপন্ন দ্রব্য বিক্রয়ের জন্য গ্রাম্য হাট গুলোতে গেছে। তাদের স্ত্রী কন্যাসহ রিকশায় চেপে বা হেঁটে হেঁটে তাদের গন্তব্য স্থলে গেছে। সফল প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা বন্ধ হয় দোষ কিন্তু গ্রামাঞ্চলে অসহযোগ কে কার্য্যকারী করার প্রক্রিয়া অন্য কেউ প্রতি পক্ষ হয়ে এদেরকে প্রতিরোধ করেনি। প্রতিরোধ করার সাহস পায়নি। থানা পর্য্যায়ের অফিস গুলোতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অনুরোধ করেছে। হুমকি ধমকি দিয়েছে। ককটেল ফাটিয়েছে; কিন্তু প্রতিপক্ষ হয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। থানা নির্বাহী কর্মকর্তা পালিয়েছে; পুলিশ থানার ভেতরে আশ্রয় নিয়েছে। সরকারী অফিসের সম্পদ সুরক্ষাঅথবা সরকারী কর্মচারীদের নিরাপত্তার পুলিশ ও মিলিটারী নিরাপত্তার জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। ব্যাংকগুলো দু‘এক ঘন্টা খোলা রাখার জন্য বলা হলেও; তারা খোল রাখেনি।

সামান্য কিছু লেনদেন হয়েছে নিরাপত্তার কারনে অথবা বিশেষ প্রয়োজনে কিছু লোক টাকা জমা রেখেছে’ আবার কেবল মাত্র সেই জমাা থেকেই নেহায়েত প্রয়োজন বশরই টাকা উত্তোলন করেছে। অন্য প্রান্তের সাথে ব্যাংকের যোগাযোগ সম্পূর্ন বন্ধ ছিল। নদীপথে জল পরিবহন মাঝে মাঝে চালু ছিল কিন্তু তা ছিল অত্যন্ত বিপদসংকুল। সরকারী যানবাহন ছিল সম্পূর্ন বন্ধ। যখনে এম্বুলেন্স ও গোপন অস্ত্র স্থানান্তরে ব্যবহার হতে লাগলো বলে অনুমতি হলো। তখন কোন কোন সঠিক পথে এম্বুলেন্সও বন্ধ করে দেওয়া হলো, এটা ছিল চরম ব্যবস্থা। পুলিশ প্রশাসন ছিল সম্পূর্ন নিস্ক্রিয়। সামরিক বাহিনী ছিল সম্পূর্ন নিশ্চুপ। গ্রামাঞ্চলে সমান্তরিক প্রশাসন কায়েম না হলেও’ নিরব অতচ সমান্তরাল শক্তির আঁচ অনুভ‚ত হচ্ছিল। বর্গামালিক ধনী কৃষক,ব্যবসায়ী মহাজনদের অধিকাংশ নেতৃত্বে, পাল্টা প্রশাসন অথবা কর্তৃত্ব কায়েম হলে, অসহযোগ আন্দোলন জাত সংঘাতটা সন্দেহই গৃহযুদ্ধের রুপ নিতে পারতো গ্রাম্য- দোকানগুলোর ব্যবসায়ী-মহাজনদের একটা অংশ ছিল অসহযোগ আন্দোলনের প্রতি ক্ষুদ্ধ আবার অন্য অংশ ছিল বিরোধী দলের প্রতি। শেনী ও সামজিক গোষ্ঠীর প্রতিক্রিয়া

বিরোধীদলের প্রতি সহানুভ‚তিশীল। ছিন্নমূল সর্বহারাদের মধ্যে রিকশায় যাওয়ার অসুবিধায় পড়েনি। কিন্তু শহরে বন্দরে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক ও নি¤œ-কর্মচারী গ্রামের বাড়ীতে যাওয়া আসা করতে গিয়ে দারুন অসুবিধার সম্মুখিন হয়েছে। নি¤œ বিত্ত দোকান খোলা রেখেছে। বিভিন্ন অঞ্চলে গম কাটার ও ধান বীজ কেনার পুরা মওসুম। জমিতে সার দেওয়ার জন্য মাঝারী ও ধনী কৃষক অন্য হয়ে ঘুড়ছে; হাতুতাশ করেছে। সারের অত্যধিক দামে সার কিনে যে জমি চাষ না করলেই নয়, সেই জমিতেই সার দিয়েছে। জোতদার ঝুঁকি নেয়নি, তেলের দাম বাড়ার কারনে পানি সেচের অনুবিধা হয়েছে পরিবহনের অচলতার কারনে তেলের দাম ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি এবং সে ব্যক্তি ক্ষুদে মালিকদের জোতদার, বর্গামালিক ও অনুপস্থিত ভ‚স্বামীর তেমন গরজ ছিলনা বর্গাচাষীর কর্তৃক জমি চাষের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়ার। সুকরাং তেলের দাম, সারের দাম বাড়লো কি কমলো তাতে তার খুব একটা কিছু যায় আসেনি। রাজধানী ও বড় নগরের আমলা ও ব্যবসায়ী, যারা আবার অনুপস্থিত ভ‚স্বামী ও বটে, তার জমি পতিত থাকলো অথবা বর্গাচাষীর জমি চাষ করলো কিনা সেই খবরে ভয়ানক বিচলিত হওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেনি।

তবে অনেক বুদ্ধিজীবি বিশেষত্তই চিন্তা করেছেন অসহযোগ আন্দোলনের কারনে শাসক গোষ্ঠীর আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে ডিলার-ব্যবসায়ীগন কর্তৃক, দাম বৃদ্ধির াকারনে সার ও তেলের অভাবে কি পরিমান ফসল কম জন্মাবে- তার উপর গবেষনার জন্য বিদেশী সাহায্যে নূতন কোন গবেষনা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায় কিনা! বিদেশী সাহায্য দাতাগন আশংকা প্রকাশ করেছেন যে অসাহযোগের কারনে কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার বিঘœ সৃষ্টির ফলশ্রæতিতে দেশে খাদ্যাভাব দেখা দিতে পারে। তাতে ক্ষেত মজুর গরিব কৃষক ও মাঝারী কৃষক ছাড়া আর কারো শংকিত হওয়ার কোন কারনা নেই। পাতি-সামন্ততন্ত্রী আমলা সৎসুদ্দী বুর্জোয়াদের আশীর্বাদ। অসহযোগের কারনে উৎপাদন বিঘœ ঘটার বিষয়টি রাজনৈতিক প্রচারনার একটি মোক্ষম অস্ত্র হয়ে তাদের স্বপক্ষে কাজে লাগাতে পারে। এভাবে কেউ কাজে লাগাবে, সারের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে আবার কেউ কাজে লাগালে আবার কেউ কাজে লাগায় হরতাল অসহযোগের রাজনৈতিক ঘটনার কারনে অর্থনৈতিক ক্ষতির দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে, ক্ষেত মজুর গরীব চাষী এবং মাঝারী কৃষকের কোন বক্তব্য সংগঠিত আকারে প্রকাশিত হয়নি।

শ্রমজীবিদের সচেতন কর্মপ্রয়াসের বৈশিষ্ট্য ঃ প্রধান দ্বন্দের প্রকাশ। সার কালো বাজারির ফলে বিক্ষোভ ও অসন্তষের আগুন শাসক-গোষ্ঠীর উর্দি পড়া ব্যাখ্যানরে- বাহিনীর সংগ্রামের ফলে ঠান্ডা হয়ে যায়। পাতি-সামন্ততন্ত্রী আমলা মুৎসদী বুর্জোয়া সরকারের নেতৃবৃন্দ রাজনৈতিক বক্তৃতায় যতো কুম্ভীরাশ্রæই বর্ষন কর কনা কেন, কৃষি উৎপাদনের প্রতি বিন্দুমাত্র সহানুভ‚তি বা মাথাব্যথা তাদের ছিলনা। এবং উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষক যতো সংগ্রামই করুকনা কেন (সার তেল ক্রয়ের আকাংখা তো নির্ভেজাল উৎপাদন আকাংখা ছাড়া আর কিছু নয়) শাসক গোষ্ঠী তাদের সশস্ত্র সংরক্ষিত বাহিনী দিয়ে, কৃষকের উৎপাদন আকাংখাকে স্তব্দ করে দিতে কুন্ঠিত হয়নি। গুদামে অথবা ট্রাক থেকে সারের বস্তা যখন লুট হয় তখন বিক্ষুব্ধ সমবেত জনতার মধ্যে কৃষকেরা যেমন থাকে, সন্ত্রাসী মাস্তান রাত্র তেমনি থাকে। বিগত দু“দুটি সার সংখ্যাটি তাই-ই পরিলক্ষিত হয়। পাতি-সামন্ততন্ত্রী আমলা-মুৎসদ্দী বুর্জোয়া শাসক গোষ্ঠী সার কালো বাজারীকেও শাস্ত্রি দেয়নি। কৃষক হত্যার জন্য দায়ী উর্দিপরা ব্যাথারেঁ বাহিনীর ব্যক্তি-কেও শাস্তি দেয়নি।

কৃষি উৎপাদনে শতকরা একশত ভাগ আন্তরিক উৎপাদনাকাংখী কৃষক। তাদের উৎপাদন আকাংখা মিটারে গিয়ে সরকার কৃষকের উৎপাদন আকাংখার বিক্ষোভকে দমানোর জন্য প্রতিরোধ করে। কৃষকের সাথে পাতি-সামন্ততন্ত্রী, আমলামুৎন্নেস বুর্জোয়া শাসক-গোষ্ঠীর সংঘাত ও দ্ব›দ্ব সার -সংকচের মধ্য দিয়েই প্রকাশিত হয়। এই দ্ব›েদ্ব ক্ষুদে স্বত্ব গোষ্ঠীরা পরিপূর্ন ও আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করেনি।

সাইফ শোভন, চিফ রিপোর্টার,ঢাকা নিউজ২৪.কম