রাঙামাটিতে কঠিন চীবর দান সম্পন্ন

নিউজ ডেস্ক:   রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ডানের আঠারকছড়া করল্যাছড়ি এলাকায় আর্যগিরি বনবিহারে দু’দিনব্যাপী তৃতীয় দানোত্তম কঠিন চীবর দান সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার আর্যগিরি বনবিহার প্রাঙ্গণে ধর্মীয় আলোচনা সভায় তক্ষশীলা বনবিহারের অধ্যক্ষ করুণা বন্ধন মহাস্থবিরের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন লংগদু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বারেক সরকার। ধর্ম দেশনা দেন করুণা কুঠিরের অধ্যক্ষ কণ্টক মহাস্থবির।

শত শত পুণ্যার্থী ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বিশাখা প্রবর্তিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা ও কাপড় তৈরি করা কঠিন চীবর উপস্থিত ভিক্ষু সংঘের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

এর আগে সকালের দিকে বুদ্ধপূজা, বুদ্ধমূর্তিদান, সংঘদান, অষ্টপরিস্কার দান, কঠিন চীবর দান, পঞ্চশীল প্রার্থনাসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়। এ ছাড়া অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে সোমবার গৌতম বুদ্ধের প্রধান সেবিকা মহাপুণ্যবতী বিশাখা প্রবর্তিত নিয়মে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা ও সুতা থেকে কঠিন চীবর তৈরি করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপংকর তালুকদার বলেন, সন্ত্রাস-অস্ত্রবাজি কখনও মানুষের উপকারে আসে না। কোনো ধর্মই সন্ত্রাস-অস্ত্রবাজি সমর্থন করে না। এ সময় করোনা পরিস্থিতিতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে, রাঙামাটি সদর উপজেলার বন্দুক ভাঙ্গা ইউনিয়নের যমচুগ বনাশ্রম ভাবনা কেন্দ্রে দু’দিনব্যাপী ৩৭তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার অনুষ্ঠানে ধর্ম দেশনা দেন বনভান্তের প্রধান শিষ্য ভদন্ত শ্রীমৎ নন্দপাল মহাস্থবির। দুপুরে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে অংশ নেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজারো পুণ্যার্থী।