দরিদ্র দেশগুলোতে টিকার সুষ্ঠু বিতরণের প্রতিশ্রুতি

নিউজ ডেস্ক:  সৌদি আরবের আয়োজনে দু’দিনের জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিন রোববার অর্থনৈতিকভাবে দরিদ্র দেশগুলোকে সহজে কভিড-১৯ টিকা পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিশ্বনেতারা। তবে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল। এদিকে বিশ্বনেতাদের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক দরিদ্র দেশগুলোর করোনা ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রায় ২০০ কোটি ডোজ বিতরণ করবে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক দেশগুলোর এবারের সম্মেলনের আয়োজক দেশ সৌদি আরব। মহামারিজনিত পরিস্থিতিতে চলতি বছর সম্মেলনের বৈঠকগুলো অনলাইনেই করতে হয়েছে। খবর বিবিসি, এএফপি ও রয়টার্সের

সম্মেলনে বিশ্বের ধনী দেশগুলো কভিড-১৯ মহামারির কারণে অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও কীভাবে তা দেওয়া হবে, তার বিস্তারিত জানায়নি। অনলাইনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে সব দেশের নেতারা বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের টিকার ন্যায্য বিতরণে প্রতিশ্রুতি দিলেও মেরকেল দরিদ্র দেশগুলোর টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিতে অগ্রগতির পরিমাণ খুবই সামান্য উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক করেছেন। গ্লোবাল ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স গ্যাভির সঙ্গে আলোচনায় তিনি এ প্রসঙ্গটি তোলারও আশ্বাস দিয়েছেন।

জি২০ সম্মেলনে অংশ নেওয়া দেশগুলো কভিড-১৯-এর সম্ভাব্য ভ্যাকসিনগুলোর উৎপাদন এবং ন্যায্য বিতরণে সহযোগিতার পাশাপাশি ভাইরাস শনাক্তকরণে পরীক্ষা ও চিকিৎসায় দ্রুত অর্থ ছাড়েরও আশ্বাস দিয়েছে। সাশ্রয়ী মূল্যে টিকাপ্রাপ্তি ও টিকায় সবার ন্যায়সঙ্গত প্রবেশাধিকার নিশ্চিতে কোনো প্রচেষ্টাই বাদ রাখব না আমরা, সম্মেলন শেষে যৌথ বিবৃতিতে এমনটাই বলেছেন জি২০ দেশগুলোর নেতারা। সৌদি আরবের অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-জাদান পরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জি২০ দেশগুলো একটি বিষয়ে একমত হয়েছে যে, যদি আমরা কোনো দেশকে পেছনে রাখি, তাহলে আমরাও পিছিয়ে পড়ব।

এদিকে ইউনিসেফ দরিদ্র দেশগুলোকে ২০০ কোটি ডোজ টিকা দেওয়ার কথা জানিয়েছে। ভ্যাকসিন বহনের জন্যে তারা এয়ারলাইন্স ও মালামাল বহনকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) করোনা ভ্যাকসিন বণ্টন পরিকল্পনা কোভ্যাক্স-এর অংশ হিসেবে ভ্যাকসিন ও সিরিঞ্জ বিতরণ নিয়ে কাজ করছে ইউনিসেফ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দরিদ্র দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে বুরুন্ডি, আফগানিস্তান, ইয়েমেনসহ অন্যান্য দেশ। ইউনিসেফের সরবরাহ বিভাগের পরিচালক ইতলেভা কাদিলি এক বার্তায় বলেছেন, এই ঐতিহাসিক ও বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্যে যথেষ্ট পরিবহন সক্ষমতা নিশ্চিত করতে অনেক কাজ করতে হবে।