মুরাদনগরে হিন্দু বাড়িঘরে হামলার নিন্দা ভিএইচপি বাংলাদেশের

সুমন দত্ত: বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ম অবমাননার মিথ্যা মামলায় হিন্দু শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বাংলাদেশ(ভিএইচপি)।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতি পাঠের মাধ্যমে এই নিন্দা প্রকাশ করেন। এদিন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সহদেব চন্দ্র বৈদ্য, অফিস সম্পাদক বাদল কৃষ্ণ সাহা,সুবির কান্তি সাহা,ঢাকা বিভাগের সমন্বয়কারী জয়ধর শ্রবন। এছাড়া সংগঠনের বাইরে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সভায় আমন্ত্রিত বাংলাদেশে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও ঢাবি অধ্যাপক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক।

কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, দেশ স্বাধীন হয়েছে ৫০ বছর। কিন্তু থেমে নেই হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর জুলুম নির্যাতন। রাষ্ট্রের সর্বত্র হিন্দুরা উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। ধর্মান্ধতা এক শ্রেণির মানুষকে মূর্খ করে রেখেছে। এদের কাছে বিচার বিবেক মূল্যহীন। উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে হিন্দুদের বাড়ি ঘরে হামলা অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালাচ্ছে।

সম্প্রতি কুমিল্লার মুরাদনগরে কয়েকটি হিন্দু বাড়িতে জঙ্গি গোষ্ঠী হামলা ও লুটপাট চালায়। শত শত জঙ্গি হামলা চালালেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে মাত্র কয়েকজন সন্ত্রাসী। বাকীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। উল্টো হামলায় আক্রান্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের শঙ্কর দেবনাথ ও রনি দেব কে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে। এসব ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তাদের নিঃশর্ত মুক্তি চায় পরিষদ। এছাড়া যেসব বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। দাঙ্গাকারীদের গ্রেফতার করতে হবে।

এছাড়া দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বেশ কয়েকজনকে শিক্ষার্থীকে ইসলাম ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে বহিষ্কার ও গ্রেফতার করা হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এসব ঘটনার নিন্দা করে এবং অবিলম্বে তাদের মামলা প্রত্যাহার ও ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেবার দাবি জানায়।

ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক বলেন, এক সময় বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের খবর প্রকাশ হতো না। এখন হয়। এটাই বড় প্রাপ্তি। নিম চন্দ্রের এই মন্তব্যে একজন সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেন এতে তারা খুশি কিনা। জবাবে তিনি বলেন এটা কি ধরনের প্রশ্ন। তখন তাকে উপস্থিত সাংবাদিকরা মনে করিয়ে দেন কুমিল্লার মুরাদ নগরের ঘটনা বাংলাদেশের কোনো মিডিয়া প্রথমে নিউজ করেনি। সবাই ফেসবুকের মাধ্যমে ভিডিও ও ছবি দেখে এই সংবাদ পায়। এখন এ বিষয়ে একাধিক নিউজ হচ্ছে। এই সত্যটা তাদের বলা উচিত ছিল।

সভায় উপস্থিত সংগঠনের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্য প্রশ্ন করা হয়েছিল, ১৯৯৫-৯৬ সালের আওয়ামী লীগের শাসন আমলে রাজাকার শিরোমণি গোলাম আযমের ছেলেকে জাহাঙ্গীর নগর ইউনিভার্সিটি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তখন ভারত সরকার গোলাম আযমের ছেলে কে স্কলারশিপ দিয়ে ভারতের আলীগড়ে লেখা পড়ার ব্যবস্থা করে দেয়। বাংলাদেশে যেসব হিন্দু শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে তাদেরকে ভারত সরকার স্কলারশিপ দিয়ে সেদেশে লেখাপড়া চালিয়ে যাবার সুযোগ করে দেবে কি না। এর উত্তরে সংগঠনের সম্পাদক কপিল কৃষ্ণ বলেন, এটা ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত আমরা এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম