কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যে নজর দেয়া উচিত

সুমন দত্ত: কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকরা মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা না পেলে উৎপাদনশীলতায় প্রভাব পড়ে। তাই কর্মক্ষেত্রে এবং পরিবারে মানসিক স্বাস্থ্যে সবার নজর দেয়া উচিত।

শনিবার বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২০ উদযাপন উপলক্ষে “কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য: বিনিয়োগ করুন” শীর্ষক সেমিনারে জাতীয় প্রেসক্লাবে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠান আয়োজনে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলস, সাজেদা ফাউন্ডেশনের এবং এ্যাম্বেসী অব দ্যা কিংডম অব দ্যা নেদারল্যান্ডস, এসএনভি নেদারল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ওয়ার্কিং উইথ উইমেন-টু প্রজেক্ট) সহযোগিতা করে।

সাজিদা ফাউন্ডেশন এর সিনিয়র ম্যানেজার ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলোজিস্ট রুবিনা জাহান বলেন, কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকরা মানসিক শান্তি না পেলে উৎপাদনশীলতায় প্রভাব পড়ে। দেশের ১৭% প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের মানসিক সমস্যা রয়েছে, যার বেশিরভাগ নারী। ৯২% মানুষ মানসিক সমস্যায় ভোগেন, তবে তারা কোনো চিকিৎসা নেন না। অবসাদ এর মত মানসিক সমস্যা হয় চাকরি হীনতায়।

বিলস এর মহাসচিব ও নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম খান বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য শুধু শ্রমজীবী মানুষের জন্যই নয়, সকলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিনিয়ত শ্রমজীবী মানুষেরা নানাবিধ মানসিক সমস্যায় ভোগেন। তিনি বলেন, শ্রমিকরা যে পরিবেশে কাজ করে এবং বাস করে তাতে মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়াটা অস্বাভাবিক নয়। কর্মক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ ও সহকর্মীদের খারাপ আচরণ, যৌন নিপীড়ন, কুঅভ্যাস ইত্যাদি দমন না করা গেলে শ্রমিকের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলবে।

মনের বন্ধু’র প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও তৈাহিদা শিপ্রা বলেন, কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিতে মনোযোগী হওয়ার এখনই সময়। কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, হতাশা ইত্যাদি এগুলো মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব পেলে। এজন্য কর্মক্ষেত্র আরও বেশী মানসিক স্বাস্থ্য বান্ধব হওয়া প্রয়োজন।

ইনোভেশন ফর ওয়েলবিইং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এবং মেন্টাল হেলথ ফার্স্ট এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি লিডার মনিরা রহমান বলেন, মানসিক সমস্যা শুধুমাত্র ডক্টর বা সাইক্রিয়েটিস্ট ট্রিটমেন্ট করবে তাই নয়, একটি মাল্টি স্টেকহোল্ডার এপ্রোচ দরকার। যে সমস্যাটি প্রাথমিক পর্যায়ে আছে, যা শুধুমাত্র লাইফ স্টাইল পরিবর্তন করলেই সম্ভব।

বিজিএমইএ এর হেলথ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হানিফুর রহমান লোটাস বলেন, যারা তৈরি পোশাক শিল্পের মাধ্যমে পৃথিবীর প্রথম সারির স্ট্যান্ডার্ড পোশাক তৈরি করেন, সেই শ্রমজীবীরা বেশীরভাগই থাকেন বস্তিতে এবং তাদের বেশীরভাগেরই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। শুধু মেশিন এর সাথেই নয়, শ্রমিককে পরিবারের সাথে, আত্মীয়-স্বজনের সাথে, সমাজের সাথে, যাওয়া আসার পথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে যেতে হয়। এক্ষেত্রে মালিকরা নিজস্ব দায়বোধ থেকে শ্রমিকের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যা সমাধানে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

ফকির এ্যাপারেলস লিঃ এর সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (এইচআরএসি) মনজুরুল করিম বলেন, আমি এসএনভি’র সহযোগিতায় ইউসেপ বাংলাদেশ ও সাজিদা ফাউন্ডেশন এর যৌথ উদ্যোগে ‘ওয়ার্কপ্লেস ওয়েলবিইং মেনেজম্যান্ট’ বিষয়ক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলাম। আমরা দেখেছি, নারী শ্রমিক তার পরিবারের জন্য দুশ্চিন্তায় থাকে। তাই পরিবারের দুশ্চিন্তা তাদের কর্মক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলে।

সমাপনী বক্তব্যে এসএনভি নেদারল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন এর ইনক্লুসিভ বিজনেস এডভাইজার জামাল উদ্দিন বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য শুধু শ্রমিক বা মালিকের ইস্যু না, এটি জাতীয় ইস্যু। কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি শারীরিক স্বাস্থ্যের তুলনায় কম গুরুত্ব পেয়ে যাচ্ছে।

ঢাকানিউজ২৪ডটকম