শাহেদের নামে এখনো মামলা নিতে গড়িমসি!

নিউজ ডেস্ক: হাসপাতালের পাশেই থানা। তারপরও রিজেন্টের বিরুদ্ধে এতদিন মামলা হয়নি কেন? ভুক্তভোগীরা বলছেন অভিযোগ নেয়া তো দূরের কথা, থানা থেকে বের হওয়ার আগেই খবর চলে যেত শাহেদের কাছে। দেয়া হতো হুমকিধামকি। এখনো মামলা নিতে উত্তরা পশ্চিম থানা গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উত্তরা পশ্চিম থানার পাশের গলির রিজেন্ট হাসপাতালে র‌্যাবের অভিযানের পর একের পর এক বেরিয়ে আসছে শাহেদের নানা অপকর্মের তথ্য। মামলাও করছেন কেউ কেউ। প্রশ্ন হচ্ছে ২০১৮ সালে এক সরকারি কর্মকর্তার দায়ের করা মামলা ছাড়া আর কোন মামলা কেন নেই থানাটিতে?

এ প্রশ্নের উত্তর মিলবে ২০১৬ সালে রিজেন্ট গ্রুপের কাছে প্রায় কুড়ি লাখ টাকা সমমূল্যের ৩৮টি এসি সরবরাহ করে ধরা খাওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানের অভিজ্ঞতায়।

শাহেদের দেয়া ২ লাখ টাকার চেকের বিপরীতে ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে না পেরে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করতে গিয়ে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে।

তিনি বলেন, ‘আমি থানায় যখন এটা বলবো তার আগে শাহেদ কাছ থেকে জেনে গেছে আমি মামলা করতে গেছি। অনেকবার আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। বলেছে টাকা নিতে আসলে তোমাকে মেরে তোমার লাশ গুম করে ফেলবো।’

গ্রেফতারের পরও উত্তরা পশ্চিম থানায় শাহেদের ভূত রয়ে গেছে কিনা সে প্রশ্ন উঠেছে মামলা করতে আসা দুই ভুক্তভোগীর অভিজ্ঞতায়। গোয়েন্দা পুলিশের কাছে ১০ দিনের রিমান্ডে আছে শাহেদ। তারপরও অদৃশ্য শক্তির ভয়ের তটস্থ এক ভুক্তভোগী জানালেন দশ লাখ টাকার প্রতারণার মামলা পুলিশ নিয়েছে, তবে অনেক ঘুরিয়ে।

সিলেটের ছাতকের একজন পাথর ব্যবসায়ী ইখলাস খান জানালেন, তার প্রায় ২ কোটি টাকার প্রতারণার মামলা থানা নিয়েছে, তবে তিনি ঘুরেছেন এক সপ্তাহ।

ডিএমপির উত্তরা জোনের ডিসি নাভিদ কামাল শৈবাল বলেন, যাচাই বাছাইয়ের পর যে কোন অভিযোগই পুলিশ গ্রহণ করছে।

শাহেদের বিরুদ্ধে মেট্রোরেলের শ্রমিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ৭৬টি ভুয়া করোনা রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগে মামলা করেছে। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলার সংখ্যা ১৩টি।