বিসিবির প্রতি কোহলির আহ্বান

নিউজ ডেস্ক:   ভারতের বিপক্ষে এই সিরিজে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের পর মাঠের খেলার পাশাপাশি দেশটির টেস্ট কাঠামো নিয়েই প্রচুর আলোচনা হচ্ছে। এই আলোচনায় যোগ দিলেন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলিও। তিনি সাকিব-তামিম ছাড়া বাংলাদেশের এই পারফরম্যান্সে নিন্দা করার কিছুই দেখছেন না। তবে তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট ভালো করতে গেলে দেশটির ক্রিকেট বোর্ডকে আগে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ দুই টেস্টেই জঘন্য ক্রিকেট খেলেছে। এর জন্য কোহলি প্রথমত মনে করছেন, সাকিব ও তামিমের না থাকাটা খুব প্রভাব ফেলেছে। তিনি এই তরুণ দলটার পাশেই রইলেন, ‘প্রথমত তাদের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় দুজন ছিল না। সাকিব খেলেনি। তামিমও ছিল না। এরপর মুশফিক তো একাই ছিল। মাহমুদউল্লাহও ছিল। কিন্তু আপনি দুজন মাত্র খেলোয়াড় দিয়ে একটা দলকে সামনে ঠেলে দিতে পারেন না। এই দলের বাকিরা একেবারেই তরুণ। তারা অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। আমি আগেও বলেছি, ওরা যত টেস্ট ক্রিকেট খেলবে, তত বেশি শিখবে। আপনি আজ দুটো টেস্ট খেললেন, এরপর দেড় বছর পর আবার খেলতে নামলেন, তাহলে আপনি বুঝতেই পারবেন না যে, চাপের মুখে ঠিক কী করতে হবে।’

কোহলি মনে করেন, বাংলাদেশ দলটার স্কিলে ঘাটতি নেই। এই দলটার সমস্যা শুধু তারা টেস্টের মতো কঠিন পরিস্থিতিতে খুব কম খেলে। আর সেটাকেই মূল দুর্বলতা বলছেন তিনি, ‘আমি মনে করি, তাদের স্কিল আছে। তারা আন্তর্জাতিক স্তরে খেলছে, কারণ তারা এখানে খেলার জন্য যথেষ্ট যোগ্য। কিন্তু ওদের জন্য এই ধরনের ম্যাচ পরিস্থিতিতে নিয়মিত খেলা জরুরি। ওদের এই পরিস্থিতিতে খেলেই বুঝতে হবে, এখান থেকে কীভাবে বের হওয়া যায়। ওদের বোর্ড আর খেলোয়াড়দের এটা বুঝতে হবে যে, আমি কী বোঝাতে চাচ্ছি। আর একমাত্র এভাবেই ওরা সামনে এগোতে পারে।’

ভারতের এই অধিনায়ক বলছেন, বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে হলে তাদের বোর্ডকে ভিন্নভাবে ভাবতে হবে। টেস্ট ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়াতে না পারলে এই ফরম্যাটে ভালো করা কঠিন হবে বলে বিশ্বসেরা এই ব্যাটসম্যান মনে করেন, ‘আসলে খেলোয়াড়দের ভূমিকা তো একটা স্তর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। বোর্ড কীভাবে এসব সামলাচ্ছে, তার ওপরই সব নির্ভর করে। আমি জানি না, বাংলাদেশ বোর্ড টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে কীভাবে আলোচনা করে। তারা এটাকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কী করে বা কতটা গুরুত্ব দেয়, জানি না। তবে এটা আমি বলতে পারি যে, আপনার টেস্ট ক্রিকেটে শক্তিটা তৈরি হবে আপনার আর্থিক কাঠামো থেকে।

টেস্ট ক্রিকেটারদের খুব ভালো অর্থনৈতিক মানে রাখা না যায়, তাহলে তাদের প্রেরণা এক সময় নষ্ট হয়ে যাবে। আপনার চোখের সামনে একজন ২০ ওভারের খেলা খেলে, ৪ ওভার বল করে আপনার চেয়ে ১০ গুণ বেশি আয় করবে, এটা হতে পারে না। শেষ পর্যন্ত এটা ক্রিকেটারদের জীবিকা।’