আতশবাজি ফুটিয়ে উৎসবে মেতেছিল রাশিয়া

নিউজ ডেস্ক:   ঘরের মাঠে মহারণ। তার ওপর নিজ দেশ যদি এমন চমক দেখায়, তাহলে রাতভর উৎসব না করে পারে রাশিয়া! লুঝনিকি স্টেডিয়াম, কানায় কানায় পূর্ণ পুরো গ্যালারি। রঙ-বেরঙের পোস্টার, ব্যানার আর প্ল্যাকার্ড হাতে হাজির হাজার হাজার রুশ সমর্থক। বাদ যায়নি ছোট্ট শিশুটিও। কেউ মায়ের হাত ধরে, কেউ বাবার কাঁধে চড়ে এসেছিল প্রিয় দলকে উৎসাহ জোগাতে। সাহস দিতে। করতালি দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দিতে। মাঠে নামার আগে হয়তো রাশিয়ার সেসব দর্শকও ভাবেনি বিধাতা দিনশেষে তাদের এই সাজ, এই হাসিটা বাঁধিয়ে রাখবে। ফেভারিটদের তকমা নিয়ে লড়াইয়ে নামা স্পেনকে এভাবে কাঁদতে দেখবে। না ভাবলেও এখন থেকে বোধ হয় ভাববেন। স্বপ্ন দেখবেন রাশিয়াকে নিয়ে।

নির্ধারিত সময়ের খেলা যখন ১-১ সমতায়, তখনও চওড়া হাসি ছিল স্প্যানিশদের মুখে। ইউরোপ থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসার ছবিই চোখে ভাসছিল তাদের। কিন্তু পেনাল্টিযুদ্ধে যখন হারের তেতো স্বাদ গিলতে হলো, তখন অনেকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। ভেবেছিলেন, একি হলো! এটা আসলেই সত্যি দেখছি! আসপাসের পেনাল্টি মিসের পরপরই স্টেডিয়ামজুড়ে চলে উৎসব। একপাশটা তখন পুরো হতবিহ্বল। লুঝনিকির জায়ান্ট স্ট্ক্রিনে ফলাফলটা দেখছেন আর চোখ দিয়ে টপটপ করে পড়ছে পানি। বিষাদমাখা এই প্রতিচ্ছবির মাঝে একমুহূর্তও বন্ধ হয়নি রাশিয়ানদের উচ্ছ্বাস, হৈচৈ। আনন্দ-উল্লাসে মাতিয়ে রাখেন অনেকটা সময়।

ম্যাচশেষে বাড়ি ফেরার পথেও চলে উদযাপন। যেন সোনার হরিণ হাতে পেয়েছেন তারা। কেবল মস্কো নয়, রাশিয়ার প্রতিটি শহরে নাচ, গান আর আতশবাজি ফুটিয়ে উৎসবে শামিল হয় ভিনদেশিরাও। রাশিয়া, রাশিয়া স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে অলিগলি। দারুণ অর্জনে চুপ থাকতে পারেননি দেশটির প্রেসিডেন্ট ভদ্মাদিমির পুতিন। ব্যস্ততার কারণে মাঠে আসতে না পারলেও ফুটবল দলকে জানিয়েছেন অভিনন্দন।

এমন বাঁধভাঙা উৎসব হওয়াটাই স্বাভাবিক। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙার পর রুশরা যে মাত্র চারবার বিশ্বকাপে ওঠার সুযোগ পায়। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্জন এরই মধ্যে হাতে এসে ধরা দিয়েছে- কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট হাতে পাওয়া। এর আগে তিনবার বিশ্বকাপে খেললেও গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়েছে তারা। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ৩২ দলের মধ্যে ২৪তম হয়েছিল রাশিয়া। এবার ঠিক তার উল্টো। পেছনের সব প্রাপ্তি ছাপিয়ে এক লাফে কোয়ার্টার ফাইনাল। যাত্রাটাও হয়েছে দুর্দান্ত। গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের মধ্যে টানা দুই জয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে রাশিয়া। এরপর হয়তো অনেকেই ভেবেছিল, শক্তিশালী স্পেনের কাছে পাত্তাই পাবে না দলটি। তাদের সেই ভাবনা ধুলোয় মিশিয়ে ডেনিশ চেরিশেভ-আলেকজান্ডার গোলোভিনরা ঠিকই চলে গেল শেষ আটের মঞ্চে।