কাঁদলেন তালুকদার খালেক

নিউজ ডেস্ক: খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। তিনি বলেন, এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি যে, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। আওয়ামী লীগ ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিশ্বাস করে না। এসবে বিশ্বাস করলে ২০১৩ সালে পরাজিত হতাম না।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় কেডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার এক পর্যায়ে কেঁদে ফেলেন তালুকদার আবদুল খালেক। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার একটা নির্বাচনী এলাকা ছিল। যে এলাকায় পাঁচ বছর, পাঁচ টার্ম আমি তাদের পাশে ছিলাম। এই খুলনায় হেরে গেলে আমি আবার নির্বাচন করব, এটা চাই না। আমার দল, আমার নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। আমার শেষ জীবন খুলনার মানুষের সঙ্গে থাকতে চাই, মানুষের সেবা করতে চাই।’

তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, পাঁচ বছর পর নির্বাচন হয়। নগরবাসী অপেক্ষা করে ভোট দেওয়ার জন্য। এ নির্বাচন নিয়ে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ৩১টি ওয়ার্ডে আনন্দঘন পরিবেশে মানুষ ভোট কেন্দ্রে যাবে ও ভোট দেবে।

‘খুলনায় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা চলছে’ বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর এমন অভিযোগের সমালোচনা করে তালুকদার খালেক বলেন, নজরুল ইসলাম মঞ্জু গত নির্বাচনেও একই কথা বলেছেন। শুরু থেকেই তিনি বলে আসছেন, নির্বাচন অবাধ হবে না, সুষ্ঠু হবে না, কারচুপি হবে। এরপর যখন জিতে যান তখন চুপ হয়ে যান। ভোটের দিন মারামারি হবে এমন আগাম তথ্য উনি (মঞ্জু) কোথায় পেলেন। কয়েকদিন আগেও উনি আমার নেতাদের হুমকি দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের এই মেয়র প্রার্থী বলেন, ‘আমি কারচুপি বা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিশ্বাস করি না। এটা বিএনপির কাজ। ১৯৮৮ সালে জিয়াউর রহমানের সময় আমি মহসিনাবাদ ইউনিয়নের কমিশনার ছিলাম। তখন আমি নিজের ভোট দিতে যেতে পারিনি। গত নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছিল।’

খালেক বলেন, সন্ত্রাসী ও জঙ্গি বিএনপির সৃষ্টি। ২০০১ সালে বিএনপি বাংলা ভাইকে তৈরি করেছিল। আবার তারাই সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছে, বাংলা ভাই মিডিয়ার সৃষ্টি। পরে তারাই বাংলা ভাইকে গ্রেফতার করেছে। এগুলো দেশের মানুষ জানে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খুলনায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে। পুলিশ কোনো দলের কাউকে গ্রেফতার করছে না। সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতাদের গ্রেফতার করছে। আমার দলের অনেক নেতাকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

জনগণ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের ভোটে নির্বাচিত না হলে জবাবদিহি থাকে না। তাই মানুষের ভোটে নির্বাচিত হতে চাই।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম কামাল হোসেন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগসহ মহানগর ও থানা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।