রোববার দুপুর ২টায় গণপদযাত্রা

নিউজ ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে আগামী রোববার সারা দেশে ‘গণপদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করবে আন্দোলনকারীরা।

পূর্বঘোষিত দুপুর ১২টার পরিবর্তে আগামীকাল (রোববার) দুপুর ২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে এ গণপদযাত্রা শুরু করবে তারা।

শনিবার বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন রাইজিংবিডিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে গণপদযাত্রা কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে দুপুর ১২টার কথা বলা হলেও সংগত কারণে সেটি ২টায় করা হয়েছে।

এদিকে গত ১ এপ্রিল থেকে আজ (৭ এপ্রিল) পর্যন্ত ‘কোটা সংস্কার সচেতনতা সপ্তাহ’ পালন করছেন তারা।

হাসান আল মামুন বলেন, ‘আমরা সারা দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে দেড় মাস ধরে অহিংস আন্দোলন করছি। এই আন্দোলনের তীব্রতা শহর থেকে গ্রাম, ছাত্র থেকে সাধারণ মানুষের কানে পৌঁছে গেলেও বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতির যৌক্তিক সংস্কারের পক্ষে এখনো পর্যন্ত সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে কোনো বক্তব্য পাচ্ছি না।

গত সোমবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ নিশ্চিতকরণ ও নিয়োগকৃতদের তথ্য প্রেরণ প্রসঙ্গে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। তবে সেটাকে ধোঁয়াশাপূর্ণ ও অস্পষ্ট দাবি করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্র।

পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোটায় প্রার্থী না পাওয়া গেলে তা মেধায় পূরণ করা হবে, কিন্তু গত সোমবার একটি মন্ত্রণালয় থেকে কোটাবিষয়ক ধোঁয়াশাপূর্ণ ও অস্পষ্ট পরিপত্র জারি করা হয়েছে, যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কোটা শিথিল ঘোষণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে আমাদের মনে হয়।

কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে প্রায় দেড় মাস ধরে আন্দোলনে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শাহবাগে বিক্ষোভ করেন শত শত শিক্ষার্থী। এরপর ১৪ মার্চ আন্দোলনকারীরা ৫ দফা দাবি নিয়ে স্মারকলিপি দিতে সচিবালয় অভিমুখে যেতে চাইলে পুলিশি ধরপাকড় ও আটকের শিকার হন তিনজন। তাদের ছাড়াতে থানায় গেলে আরো পঞ্চাশ জনকে আটক করে পুলিশ। দিনভর বিক্ষোভ আর উত্তেজনার পর রাতে পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয়। এরপর আরো বেশ কয়েকটি কর্মসূচি পালন করে আন্দোলনকারীরা।

তাদের পাঁচ দফা দাবি হচ্ছে- সরকারি নিয়োগে কোটার পরিমাণ ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, কোটার যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্যপদে মেধায় নিয়োগ, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অভিন্ন বয়সসীমা, নিয়োগ পরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার না করা।