অবৈধ ইটভাটা মালিকদের দৌরাত্মে অতীষ্ট এলাকাবাসী

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে অবৈধ ইটভাটা মালিকদের দৌরাত্মে চরমভাবে অতীষ্ট হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। ইটভাটা মালিকদের বেপরোয়া সরকারী বিধি বর্হিভূত কর্মকান্ডে দৌলতপুর প্রশাসনের নিশ্চুপ ও নিরব ভূমিকা পালন করায় তারা ধরাকে সরাজ্ঞান করে চলেছে।

তারা নিজেদের তৈরী করা মনগড়া নিয়মের বেড়াজালে ফেলে দৌলতপুরের সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ঠকিয়ে এবং সরকারী বা বেসরকারী সম্পদ বিনষ্ট করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি বা উদর পূর্তিতে রয়েছে নিরন্তর ব্যস্ত। সরকারী বা পরিবেশ অধিদপ্তরের বিধি না মেনে দৌলতপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নের জনবসতিপূর্ন এলাকায় বা বাড়ির আঙিনায়, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমনকি ফসলের মাঠে যত্রতত্রভাবে ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি স্বরূপ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলায় অবৈধ স্থায়ী বা অস্থায়ী এমনকি নিষিদ্ধ ড্রাম চিমনির ২৪টি ইটভাটা রয়েছে। যার কোনটিরই অনুমোদন নেই তারপরও অজ্ঞাত কারনে দৌলতপুর প্রশান নিরব রয়েছে।

অবৈধ এসব ইটভাটাগুলিতে ইট পুড়ানোর জন্য কয়লা ব্যবহার করার কথা থাকলেও প্রতিটি ভাটাতে অবাঁধে জ্বালানী কাঠ পুড়িয়ে পরিবেশকে ফেলে হচ্ছে চরম হুমকির মুখে এবং সবুজ বেষ্টনীকে করা হচ্ছে নির্বিচারে ধ্বংশ। এছাড়াও যত্রতত্র স্থানে মাটি কেটে ড্রাম ট্রাকে তা বহন করে বিভিন্ন ইট ভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। আর ভারী ড্রাম ট্রাকে মাটি সরবরাহের ফলে রাস্তা ভেঙ্গে খানা খন্দকে পরিণত হয়ে সাধারণের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

ইট ভাটায় এসব ভারী যানবহন চলাচলে চকদৌলতপুর সড়কের কালভার্ট ব্রীজ ভেঙ্গে চলাচলের অযোগ্য হয়ে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জনদূর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। একই কারনে জনদূর্ভোগ চরমভাবে বেড়েছে মানিকদিয়ার-সাদীপুর সড়কের বেহাল দশার ফলে। আর এমন চিত্র দৌলতপুরের সর্বত্রই।

দৌলতপুর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায়, দৌলতপুর হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায়, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মহিলা কলেজ ভবনের গা ঘেষে এমনকি সবুজ ফসলের মাঠে ও বাড়ির আঙিনায় এসব অবৈধ ইট ভাটা গড়ে উঠলেও চলতি মৌসুমসহ বিগত কয়েক মৌসুমে অজ্ঞাত কারনে কোন ভাটাতেই দৌলতপুর প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হয়নি। ফলে ইট ভাটা মালিকরা নাকে সরিশার তেল আর কানে তুলো দিয়ে কুম্ভকর্নের মত প্রশান ভীতি এড়িয়ে নির্বিগ্নে অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

শুধু তাই-ই নয়, মেঘের ডাক শুনে বা বৃষ্টির কয়েকটি ফোটা মাটিতে পড়ার আগেই ইট ভাটা মালিকরা ইট প্রতি এক থেকে দু’টাকা ইচ্ছেমত বাড়িয়ে দেয় যা নিয়ন্ত্রনহীন। যাকে বলে মগের মূল-ুক। অবশ্য ইট ভাটা মালিকদের এসব বাঁধাহীন কর্মকান্ডে প্রশাসন বাঁধ না সাধার কারনও অঢের। মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস, শহীদ দিবস, বাঙ্গালীর প্রাণের উৎসব ১লা বৈশাখ উদযাপন উৎসবসহ বিভিন্ন উৎসব নাকি ইট ভাটা মালিকদের অর্থেই হয়ে থাকে।

যা ইট ভাটা মালিকদের দাবি। যদিও সংশি¬ষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে জেলার অন্যান্য উপজেলার ইট ভাটাগুলিতে একাধিকবার প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হলেও দৌলতপুর প্রশাসনের দৌলতপুরের কোন ইট ভাটায় একটি অভিযানও পরিচালিত হয়নি এ অভিযোগটি নিশ্চয় অস্বীকার্য নয়।

তাই দৌলতপুরের এসব অবৈধ ইট ভাটা মালিকদের অনৈতিক ও অবৈধ কর্মকান্ড নিরোধে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ জরুরী হয়ে পড়েছে বলে ভূক্তভোগী দৌলতপুর বাসীর একান্ত দাবী।

প্রিন্স, ঢাকা