বাংলাদেশ-ভারতের মৈত্রী নাট্যোৎসবের উদ্বোধন

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী নাট্যোৎসব ২০১৮-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিরার রাতে রাবি নাট্যকলা বিভাগের আয়োজনে ও ভারতীয় হাই কমিশনের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এ উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।

নাট্যোৎসবের উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান । উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা, বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক খুবই বিশেষ একটি সম্পর্ক। আমাদের রয়েছে একই ইতিহাস। গান, নাচ, নাটকসহ সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড দু’দেশকে এক গভীর বন্ধনে আবদ্ধ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এক ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠকের পর সেই সম্পর্ক আরো গভীর হয়েছে। সুসময় ও দুঃসময়ে ভারত সবসময়ই বাংলাদেশের পাশে থাকবে।’

রাবি উপাচার্য অধ্যাপক এম. আব্দুস সোবহান বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের সেতুবন্ধন ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে বিদ্যমান। দুইটি জাতীর পরস্পরের মধ্যকার শিক্ষা, সাহিত্য, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতি ও মানুষে-মানুষে সম্পর্ক ও সৌহার্দের বন্ধনকে আরও দৃঢ় ও শক্তিশালী করবে এ ধরণের সাংস্কৃতিক আদান প্রদান।’

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক বলেন, ‘বর্তমান সময়ের অগ্রভ্রমণ আটকা পড়ে আছে। যখনই সমাজ অগ্রগতির দিকে ধাবিত হচ্ছে তখনই সমাজের টুটি চেপে ধরতে ধেয়ে আসছে অপশক্তি। এই শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার বিকল্প নেই।’

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী ভারতীয় হাইকমিশনার অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ভারতের রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সোমনাথ সিনহা, বাংলা একাডেমি পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব অধ্যাপক মলয় ভৌমিক, অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহবায়ক ও নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক আরিফ হায়দার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নাট্যকলা বিভাগের সভাপতি ড. আতাউর রহমান প্রমুখ।

এর আগে সন্ধ্যা ৬ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাঈল হোসেন শিরাজী ভবন চত্বরে দু’দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে যৌথভাবে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন রাবি উপাচার্য ও ভারতীয় হাইকমিশনার।

উদ্বোধন শেষে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও উৎসবে অংশগ্রহণকারী নাট্যকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উৎসবের প্রথম দিন ভারতীয় নাট্যকার শ্রুতি বন্দোপাধ্যায়ের ‘জয় জয় ভানু জয় জয়দেব’ মঞ্চস্থ হয়। সপ্তাহব্যাপী এ উৎসবে বাংলাদেশ-ভারতের মোট ১৩টি নাটক মঞ্চস্থ হবে। প্রতিদিন বিকাল ৪টায় শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে এবং সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে নাটকগুলো মঞ্চস্থ হবে। আগামী ৭ এপ্রিল উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠিত হবে।

প্রিন্স, ঢাকা