পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারে উত্তপ্ত রুশ-মার্কিন সম্পর্ক

নিউজ ডেস্: ৬০ রুশ কূটনীতিক বহিষ্কারের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে। বন্ধ ঘোষণা করেছে সেন্ট পিটার্সবার্গে মার্কিন কনস্যুলেটের কার্যক্রম। এর আগে ২৬ মার্চ ৬০ রুশ কূটনৈতিক বহিষ্কার এবং সিয়াটেলে রুশ কনস্যুলেট বন্ধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। জার্মানি, ফ্রান্স, কানাডা থেকে ইউক্রেন, হাঙ্গেরি, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর বেশকিছু দেশ রুশ কূটনেতিক বহিষ্কারের দেশের তালিকায় যুক্ত হয়। ফলে সারা বিশ্বের সাথে রাশিয়ার এক প্রকার স্নায়ুযুদ্ধ আরম্ভ হয়েছে।

রুশ কূটনীতিকদের বিভিন্ন দেশ থেকে বহিষ্কারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই বাজে চাল খেলছেন বলে অভিযোগ ছিল রাশিয়ার। উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে রুশ পররাষ্ট্রমনত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছিলেন, ‘স্ক্রিপলের বিষয়টি’ দেখিয়ে দিল পশ্চিমের এই প্রবল ব্ল্যাকমেইলের মুখে ‘আধুনিক বিশ্ব এবং আধুনিক ইউরোপে প্রকৃত অর্থেই স্বাধীন এমন খুব অল্পসংখ্যক দেশই টিকে আছে।’ সংবাদ সংস্থা তাসের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘যখন একজন-দুজন কূটনীতিককে সংশ্লিষ্ট দেশ ছাড়তে বলা হয়েছে, তখন আমাদের কানে ফিসফিসিয়ে এসেছে তাদের অক্ষমতা প্রকাশ, দুঃখ প্রকাশ। আমরা নিশ্চিত, এটা প্রচণ্ড চাপ আর প্রবল ব্ল্যাকমেইলের ফসল, যা কি না আন্তর্জাতিক দুনিয়াতে ওয়াশিংটনের মুখ্য হাতিয়ার।’ তিনি আরও বলেন, এই একই পরিস্থিতি যেমন ঘটেছে স্ক্রিপলের বিষয়ে, তেমনই প্যালেস্তিনীয় সমস্যায়, যেখান প্যালেস্তিনীয়দের সরাসরি বলা হয়, ‘আমরা তোমাদের কোনো অর্থই দেব না, যতক্ষণ না তোমরা আমাদের সূত্রকে মেনে নিচ্ছ।’ সোজা কথায়, আমাদের কথা শোনো, অর্থ নিয়ে যাও।

রুশ কূটনৈতিকদের বহিষ্কারের ব্যাপারে পশ্চিমের সমালোচনা করে লাভরভ বলেন, পশ্চিমের দেশগুলির এই সিদ্ধান্ত আসলে ‘শাসক অভিজাতদের মনোভাবের প্রতিফলন, যেখানে অবজ্ঞা করা হয়ে থাকে সাধারণ মানুষের মতামতকে।’ যেমন দেখা গিয়েছে জার্মান দৈনিক দাই ওয়েল্টের জনমত সমীক্ষায়, লাভরভ বলেছেন, ‘রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত কি না, প্রশ্নের জবাবে ৮০ শতাংশের বেশি বলেছেন: না।’ গণতন্ত্রের এই অনুশীলনই আমাদের করা উচিত বলে জানিয়েছেন রুশ বিদেশমন্ত্রী।
ক্রোয়েশিয়া, চেক সাধারণতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, হাঙ্গেরি, ইতালি, লাতভিয়া, লিথুয়ানিয়া, নেদারল্যান্ড, পোল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, রোমানিয়া, স্পেন, সুইডেন– ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১৭টি দেশ ব্রিটেনের পাশে দাঁড়িয়ে রুশ কূটনীতিকদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিলেও, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১০টি দেশ এখনও লন্ডনের পাশে দাঁড়ানোর ‘সৌজন্য’ দেখায়নি, রুশ কূটনীতিকদের বহিষ্কার থেকে বিরত থেকেছে।

এই দশটি দেশ হলো: অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, সাইপ্রাস, গ্রিস, লুক্সেমবুর্গ, মালটা, পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া এবং স্লোভেনিয়া। এরমধ্যে অস্ট্রিয়া, স্লোভেনিয়া, বুলগেরিয়া এবং সাইপ্রাস ইতিমধ্যেই বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে তারা রুশ কূটনীতিকদের বহিষ্কার করবে না। তুরস্ক বলেছে, তারাও কোনো পদক্ষেপ নেবে না, সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘তুরস্ক ও রাশিয়ার মধ্যে ইতিবাচক ও সুসম্পর্ক রয়েছে।’

এদিকে ‘ঠাণ্ডা যুদ্ধের মানসিকতা পরিত্যাগ’ করার জন্য দেশগুলির কাছে আরজি জানিয়েছে চীন। ‘সংঘাতের পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে ওঠে, এমন কোনো পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট দেশগুলির এড়িয়ে যাওয়া উচিত’ বলে মন্তব্য করেছেন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র হুয়া চুনইং।