উচ্চশিক্ষা অর্জনকারীরা দেশের সম্পদ: শিক্ষামন্ত্রী

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: আজ সোমবার থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হওয়া এইচএসসি ও উচ্চ মাধ্যমিক সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে সকলের সহযোগিতা চেয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, মানুষের সাধ্যের মধ্যে আমরা পরীক্ষার সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল রোববার দুপুরে চিটাগাং ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) প্রথম সমাবর্তন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে নগরীর হল টোয়েন্টিফোরে সিআইইউর প্রথম সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি হিসেবে ১৮০ জন ডিগ্রিধারীদের ডিগ্রি প্রদান করেন তিনি।

সমাবর্তনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, যে সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার পরিবেশ ও নির্ধারিত শর্তপূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তারা সফল হতে পারেনি। যে সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যারা নিজস্ব ক্যাম্পাসে এখনো যাননি, যারা একাধিক ক্যাম্পাসে পাঠদান চালাচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষকে দেশের বাস্তবতা, আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনা রেখে শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও টিউশন ফিসহ সকল প্রকার ব্যয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখতে হবে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাক্ষেত্রে নতুনমাত্রা যোগ করেছে উল্লেখ শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও নতুন জ্ঞান অনুসন্ধান করতে হবে। নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে হবে। যাতে জাতির মৌলিক ও বিশেষ সমস্যাগুলোর সমাধান দিতে পারে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার পরিবেশ এবং গুণগতমান বৃদ্ধির জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এ জন্য বিষয় যাচাই, শিক্ষাক্রম উন্নয়ন, শিক্ষাদানের পদ্ধতি অব্যাহতভাবে উন্নত ও যুগোপযোগী করতে হবে।

গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উচ্চশিক্ষা অর্জনকারীরা দেশের সম্পদ। অনেক সাধনা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে এ অর্জন। অনেক ধাপ পেরিয়ে আপনারা এ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সমাজকে আলোকিত করতে এ অর্জনকে কাজে লাগাতে হবে। আদর্শ শিক্ষায় নৈতিক শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। দেশপ্রেম ও সততার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। শিক্ষা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনে সীমা নেই। দেশকে এগিয়ে নিতে সকল গ্র্যাজুয়েটদের এগিয়ে আসতে হবে।

বর্তমান সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ে গুণগতমান ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, নারীশিক্ষায় বাংলাদেশের অর্জন সারাবিশ্বে প্রশংসা অর্জন করেছে। এক্ষেত্রে আমরা সার্কভুক্ত সবদেশের চেয়ে এগিয়ে আছি। প্রাথমিক পর্যায়ে ছাত্রীর হার ৫১ শতাংশ ও ছাত্রের হার ৪৯ শতাংশ। মাধ্যমিক পর্যায়ে ছাত্রীর হার ৫৩ শতাংশ ও ছাত্রের হার ৪৭ শতাংশ। ২০২১ সালের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ও ২০২৪ সালের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভর্তির ক্ষেত্রে জেন্ডার সমতা অর্জনে সক্ষম হবে। সমাবর্তনে বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক আবদুল মান্নান। সমাবর্তন বক্তা ছিলেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আইইবির প্রেসিডেন্ট ড. এ মাজিদ খান।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিআইইউর বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান তৌহিদ সামাদ, ইউএসটিসিডিটির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহফুজুল হক চৌধুরী, সিআইইউর ব্যবসা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এম এম নুরুল আবসার, প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল হক খান, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার আঞ্জুমান বানু লিমা প্রমুখ।

প্রিন্স, ঢাকা