আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি: মওদুদ

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, আগামী নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। এর সঙ্গে সঙ্গে বেগম জিয়ার মুক্তি আমাদের এক নম্বর এজেন্ডা। দুই নম্বর হচ্ছে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি। আর তিন নম্বর হচ্ছে সেই নির্বাচনকে অবাধ-নিরপেক্ষ করার জন্য আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া, সেই আন্দোলনে দেশের মানুষকে সম্পৃক্ত করা।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও বর্তমান বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ এসব কথা বলেন। গোলটেবিল বৈঠকটি আয়োজন করে ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট।

মওদুদ বলেন, খালেদা জিয়া একজন নারী, তারওপর অসুস্থ ও বয়স্ক। এমন অনেকের ক্ষেত্রে আদালত নমনীয়ভাবে জামিন দেবেন, এটা আমাদের আইনের বিধান। আর ৫ বছর সাজা আইনের ভাষায়ও লঘুদণ্ড। খালেদা জিয়া না হয়ে অন্য যে কারও ক্ষেত্রে আবেদন ফাইল হলেই বিনা প্রশ্নে জামিন দিয়ে দেয়া হতো। সরকার বেগম জিয়াকে ভয় পান বলেই এটা করা হয়েছে। কিন্তু সরকার যতই তার মুক্তিকে বিলম্বিত করার চেষ্টা করুক না কেন, তিনি মুক্ত হয়ে ফিরে আসবেন।

তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়া জেলখানায় আছেন। একটা মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট মামলায় তাকে সাজা দেয়া হয়েছে। হাইকোর্ট জামিন দিলেন, আপিল বিভাগ তা স্থগিত করে দিলেন। এটা নজিরবিহীন একটা ঘটনা। একটা অন্তর্বর্তীকালীন জামিন যদি হাইকোর্ট দেন, পরে সেটা আপিল বিভাগ স্থগিত করবেন এটা দেশের মানুষ একেবারেই প্রত্যাশা করে না। অনেক ফাঁসির আসামি ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরাও তো জামিন পায়।

মওদুদ আহমদ আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে বলেন, খালেদা জিয়াকে করাবন্দি রেখে নির্বাচনের নীলনকশা তৈরি করবেন বলে যে স্বপ্ন দেখছেন, সেটা বাংলাদেশের মাটিতে হতে দেয়া হবে না। বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া বাংলাদেশে আগামীতে কোনও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। আপনারা যদি তাকে কারাবন্দি রেখে নির্বাচন করবেন বলে ভেবে থাকেন, তাহলে বড় রাজনৈতিক ভুল পরিকল্পনা করেছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে জনসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন অভিযোগ করে মওদুদ বলেন, কেউ বেশি বেশি মিথ্যা বললে অন্যের সত্য কথাকেও তার কাছে মিথ্যা মনে হয়। প্রধানমন্ত্রী যে মিথ্যা কথা বলেছেন, সে কারণে মহাসচিবের ভোট আরও বেড়ে গেছে।

ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ, নিপুন রায় চৌধুরী, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া প্রমুখ।