সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ট্রাম্প জামাতা সখ্যতা

নিউজ ডেস্ক: সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জেরার্ড কুশনারের। আর তা এতটাই প্রগাঢ় যে জেরার্ড কুশনার নাকি যুবরাজের পকেটেই থাকেন। এমন তথ্য জানিয়েছে খোদ মার্কিন গণমাধ্যম ইন্টারসেপ্ট।

সংবাদ সংস্থাটির দাবি, সৌদি আরবের উত্তারাধিকারী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গর্ব ভরে বলেছেন, যখন তিনি তার বিরোধীদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছিলেন তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকা ট্রাম্পের স্বামী তার পকেটে ছিল।

তিনি অারও জানান, ট্রাম্পের জামাতা জেরার্ড কুশনারই তাকে তার বিরোধীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছিল। কোন কোন সৌদি যুবরাজরা তার প্রতি অনুগত সে ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য তাকে সরবরাহ করেন কুশনার।

মোহাম্মদ বিন সালমান নাকি একবার আবুধাবির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানকে বলেছিলেন, ‘কুশনার আমার পকেটে ছিল।’

তবে কুশনারের আইনজীবি এই খবরকে ভুয়া এবং হাস্যকর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। এই দাবির কোনো ভিত্তি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত নভেম্বরে দুর্নীতির অভিযোগে বিরোধী পক্ষের ডজন খানেক সৌদি যুবরাজ, ব্যবসায়ী এবং সিনিয়র কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করের মোহাম্মদ বিন সালমান। এরপর বিলাসবহুল হোটেল রিটজ কার্লটনকে কারাগারে রুপান্তরিত করেন সেখানেই তাদের বন্দি করেন সৌদি আরবের রাজ সিংহাসনের জন্য মনোনীত উত্তরাধিকারী এই যুবরাজ। যিনি তার বাবা বর্তমান রাজা সালমানের পর সৌদি আরবের রাজা হবেন।

পরে ওই আটকৃতদের হাজার হাজার কোটি টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ইন্টারসেপ্ট আরো জানায়, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট দপ্তর হোয়াইট হাউস কুশনারকে মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের অত্যন্ত গোপনীয় তথ্যসমূহ জানার যে অধিকার দেওয়া হয়েছিল তা প্রত্যাহার করে নেয়। তার এক সপ্তাহ পরই সৌদি যুবরাজের এই দাবি প্রকাশ্যে এল।

ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, ইসরায়েল এবং মেক্সিকোও নাকিও গোপনে বৈঠক করেছে কীভাবে কুশনারকে ব্যবহার করা যায়।

বলা হয় ট্রাম্পের ক্ষমতায় বসার পর থেকেই কুশনারের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আর গত অক্টোবরে সৌদির আরব ভ্রমণের সময় কুশনার ও যুবরাজ মোহাম্মদের মধ্যে গোপন বৈঠক হয়। আর নভেম্বরেই যুবরাজ মোহাম্মদ বিরোধীদের ওপর সাঁড়াশি অভিযান চালান।

৩৭ বছর বয়সী কুশনারের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের আরো অনেকেরই ক্ষোভ রয়েছে বলে জানা গেছে, যাদের একজন হোয়াইট হাউসের চিফ অফ স্টাফ জন কেলি।

জন কেলি নাকি কুশনার এবং স্ত্রী ইভানকা ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পথ খুঁজছেন। প্রসঙ্গত, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এখন দুই সপ্তাহের এক সফরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন।