নিহত ডিবির ওসি কালীগঞ্জের সন্তান

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের সন্তান ও গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক রাজধানী ঢাকার মিরপুরের পীরেরবাগে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে ড়িয়ে নিজেই নিহত হয়েছে। নিহত গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক জালাল উদ্দিনের(৪৮) গ্রামের বাড়িতে এলাকার মানুষ জড় হচ্ছে এবং শোকের মাতম চলছে। নিহত পুলিশ কর্মকর্তার বাড়ি ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ উপজেলার ভোলপাড়া গ্রামে। সে ওই গ্রামের মৃত বিশারত মন্ডল ও মা আয়েশা খাতুনের ছেলে।

নিহত জালাল উদ্দীন ৫ ভাই এবং দুই বোনের মধ্যে সেজো ছেলে (তিন নম্বর)। নিহত জালালের দুই মেয়ে রয়েছে। তার বড় মেয়ে তৃপ্তি ঢাকা ভিকারুন্নেছা নুন স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং ছোট মেয়ে তুর্জা একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। সোমবার রাত ১১ টার দিকে খবর পর ঢাকার মিরপুরের পীরেরবাগের ৩ তলা একটি বাড়িতে একদল সন্ত্রাসী অবৈধ অস্ত্রসহ মিটিং করছে। পরে রাত ২ টার দিকে তিনি একদল ফোর্স নিয়ে অভিজানে যায়। প্রথমে পুলিশ সদস্যদের নিচে রেখে তিনি ৩ তলায় গেলে সন্ত্রাসীরা ওসি জালাল কে দেখতে পেয়ে গুলি করে, পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।

ওসি জালালের মাথায় গুলি লেগে নিহত হয়, রাতেই পুলিশ সদস্যরা স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষনা করেন। তার মৃত্যুর পরে পুলশের পক্ষ থেকে ঢাকায় বসবাসরত পরিবার ও তার গ্রামের বাড়ি কালীগঞ্জে খবর দেওয়া হয়। মঙ্গলবার ভোর রাতে গ্রামের বাড়ি থেকে পরিবারের লোকজন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। মঙ্গলবার সকালে জালালের মৃত্যুর খবর প্রচার হলে এক দিকে বাড়িতে শোকের মাতম ও এলাকার মানুষ খবর পেয়ে বাড়িতে ভীড় জমাতে থাকে। এদিকে নিহত জালাল উদ্দীনের বৃদ্ধ মা নিহত ছেলে ছবি নিয়ে বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন আর বলছেন আমার ছেলের সাথে আর দেখা হবে না। আমাকে না বলে আমার জালাল আমার আগে চলে গেল। মায়ের কান্না কেউ থামাতে পারছ না।

নিহত জালাল উদ্দিন কালীগঞ্জের গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতেন ছোট বেলা থেকে জালাল ছিল মেধাবী ছাত্র ছিল ছিল। চাকরীতে যোগ দেওয়ার পর কৃতিত্বের সাথে দ্বায়িত্ব পালন করার স্বীকৃতি স্বরুপ জালাল রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পেয়েছেন। কালীগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান খান জানান, আমাকে এখনো অফিসিয়ালি কিছু জানানো হয়নি। তবে নিহত কর্মকর্তার সব ধরনের প্রক্রিয়া শেষ করে গ্রামের বাড়িতে পাঠানো সময় হয়তো আমাকে জানাবে। সাধারনত পুলিশ প্রশাসনের এমন দূর্ঘটনা ঘটলে তাদের বিষয়ে অফিসিয়াল অনেক কিছু কাজ শেষ করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় ।

প্রিন্স, ঢাকা