গ্যাসের রাইজারে বাজ পড়ে আগুন লেগে ৫জন নিহত

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের গোলাপগঞ্জে গভীর রাতে গ্যাসের রাইজারে বাজ পড়ে আগুন লেগে একই পরিবারের তিনজনসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এসময় আরো ২/৩জন আহত হয়েছেন। আহত তিনজনের মধ্যে একজন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। ঘটনার সময় নিহত ও আহতরা ঘুমে ছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়,গতকাল শনিবার রাত আড়াইটার সময় উপজেলার লক্ষণাবন্দ ইউপির ক্লাববাজার টিলা বাড়ী এলাকায় লয়লু মিয়ার কলোনীতে হালকা বৃষ্টি চলাকালিন সময়ে ওই কলোনির গ্যাসের রাইজারে বাজ পড়ে। সাথে সাথে আগুনের লেলিহান শিখা কলোনির দুটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় নিহত আহতরা ঘুমে ছিলেন। নিহত ও আহত দু’একজনের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলেও আগুনের লেলিহান শিখা ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

পরে গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিসের লোকদের খবর দেয়া হলে রাত সাড়ে ৩টায় ঘটনাস্থলে সিলেটের আলমপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছায় এবং প্রায় ৩০মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এসময় দুই’বছরের শিশুসহ পাঁচজনের লাশ উদ্ধার ও আহত ২/৩ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে। পুলিশ নিহত পাঁচজনের লাশ থানায় নিয়ে আসে ও আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার খবর পেয়ে রবিবার সকাল ৯টায় উপস্থিত হন সিলেটের পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান। এছাড়া র‌্যা-৯,পুলিশের বিশেষ শাখার বিভিন্ন সংস্থার গোয়েন্দা পুলিশও ঘটনার মোটিভ উদ্ধার করে। ঘটনার পর লাশ জ্বলার গন্ধে আকাশ বাতাশ ভারী হয়ে উঠে। নিহতের লাশ থানায় পৌছার পর শতশত লোক ভীড় করেন লাশ দেখার জন্য।

নিহতরা হলেন,লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের ফেনরচক গ্রামের মসকন্দর আলীর স্ত্রী বেবু বেগম (২২), একই ইউপির নোয়াই দক্ষিণভাগ গ্রামের শাহাব উদ্দিনের পুত্র ইয়া উদ্দিন (১৬),একই পরিবারের মৃত ইসরাইল আলীর পুত্র সেবুল আহমদ (১৭),বাবুল মিয়ার স্ত্রী তাহমিনা বেগম (৩০), নিহত তাহমিনার দুই’বছরের শিশু সন্তান (তাহসিন)।

আহতরা হলেন,নিহত তাহমিনার স্বামী বাবুল মিয়া (৫০) ও পনাইরচকের মছকন্দও আলী (২৩)। এব্যাপারে সিলেট ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক তনাই বিশ্বাসের সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান,প্রায় ৩০মিনিটি চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেবানো সম্ভব হয়। নিহত ও আহতদের উদ্ধারের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি একেএম ফজলুল হক শিবলীর সাথে আলাপ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,পরিবারে অনুরোধে ময়না তদন্ত ছাড়াই নিহতদের লাশ স্বনদেন কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। স্বজনরা জানিয়েছেন আহত একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

প্রিন্স, ঢাকা