কাঠমান্ডুতে মর্গের সামনে স্বজনদের ভিড়

নিউজ ডেস্ক:  উৎকণ্ঠার পর তীব্র কষ্ট নিয়ে এখন প্রিয়জনের লাশটি পাওয়ার জন্য কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ টিচিং হাসপাতালের মর্গের সামনে অপেক্ষা করছেন স্বজনেরা। প্রিয়জনের নাম লেখা প্ল্যাকার্ড বুকে বেঁধে দাঁড়িয়ে আছেন অনেকে।

ইউএস-বাংলার ওই ফ্লাইটের কো-পাইলট পৃথুলা রশীদের নানা এম এ মান্নান অপেক্ষায় আছেন মর্গের সামনে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি না কবে লাশ পাব।’ এমনই এক স্বজন উর্মিলা প্রধান। তিনি সিলেটের রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ছাত্রী শ্রেতা থাপার মা। মেয়ের নামের প্ল্যাকার্ড বুকে নিয়ে অবিরাম কাঁদছেন তিনি। কাঁদতে কাঁদতেই বললেন, ‘আমি মেয়ের জন্য এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করছিলাম। বিমানটা নামল দেখলাম, বিমানটায় আগুন ধরল তা-ও দেখলাম। জানি না, কবে মেয়েটির লাশ পাব।’ নিহত আলীমুজ্জামানের আত্মীয় ফারুক আহমেদ বললেন, ‘মরদেহ কবে ফিরে পাব বুঝতে পারছি না।’

পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সহকারি প্রধান উম্মে সালমা ও নাজিয়া আফরিন চৌধুরীর লাশ নিতে গতকাল সরকারের দুই জন প্রতিনিধি কাঠমান্ডুতে পৌঁছেন। তারা বলেন, ‘আমরা লাশ নিতে এসেছি। শনাক্ত করার পর লাশ নিয়ে বাংলাদেশে চলে যাব।’

বিমানটির ক্রু খাজা শফির বোন বাসিমাহ সাইফুল্লাহ বলেছেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সব লাশের ফরেনসিক টেস্টের পর আমরা লাশগুলো দেখতে পারবো। যেগুলো শনাক্ত করা যাবে (মুখ দেখে চেনা), সেগুলো আগে ছেড়ে দেবে। তবে মাঝপথে কাউকে লাশ দেখতে দেবে না।’ স্বজনদের দাবি, যাদের মুখ দেখে শনাক্ত করা সম্ভব তাদের দেখার অনুমতি দেওয়া হোক। সাইফুল্লাহর মন্তব্য, ‘স্বজনদের আনাই হয়েছে লাশ শনাক্তকরণের জন্য। কিন্তু এখানে (হাসপাতাল) আমাদের একটি ফরম ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা এখনও কোনও লাশ দেখতে পারিনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একই কথা- সবার ফরেনসিক টেস্ট শেষ হলে দেখতে দেওয়া হবে।’

মেডিকেল কলেজ টিচিং হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত ২২ জনের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। মরদেহ শনাক্ত করার পর দেশে কীভাবে পাঠানো হবে তা নিয়ে নেপাল ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। ৮ টি লাশ আছে তাদের মুখ মন্ডল দেখে ছবি মিলিয়ে সনাক্ত করা সম্ভব। ১৪ জনকে চেনার কোনো উপায়ই নেই। তবে তাদের মধ্যে কয়জন বাংলাদেশি তা বলেনি ফরেনসিকের কর্মকর্তারা।

ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রিজেন শ্রেষ্ঠা বলেন, বিভিন্ন মিডিয়ায় যাই আসুক আমরা ৪৯টি মরদেহ পেয়েছি। শনিবারের মধ্যে ময়নাতদন্ত শেষ হবে আশা করি। যাদেরকে চিহ্নিত করা যাবে না তাদের ডিএনএ টেস্ট হবে। আন্তর্জাতিক নিয়ম ফলো করা হচ্ছে তাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ার আগে কোনো মরদেহ হস্তান্তর হবে না।