জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পালের অনন্য দৃষ্টান্ত

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের ফারাজীপাড়া গ্রামের মাঠে কৃষি জমিতে দিন মজুরের কাজ করছিলেন চার বিধবা গোলেনুর, কবিতন, আমেনা ও মরিয়ম।

এমন সময় সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় একটি প্রশিক্ষণ শেষে সড়ক পথে গাইবান্ধা ফিরছিলেন জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল। হঠাৎ গাড়ির জানালা দিয়ে চোখ পড়লো ফসলের মাঠে। মাঠে ফসলি জমিতে কাজ করছিলেন চার নারী শ্রমিক। ফসলের মাঠটি রাস্তা থেকে একটু দূরে হলেও নারী শ্রমিকের সাথে দেখা ও কথা বলার কৌতুহল জাগে তাঁর। এরপর গাড়ী থামিয়ে আইল দিয়ে কিছু দূর পায়ে হেঁটে নারী শ্রমিকদের কাছে গিয়ে পৌঁছান তিনি।

নিজেকে জেলা প্রশাসক হিসাবে পরিচয় দিয়ে কথা বলেন তাদের সাথে। কথা বলে জানতে পারেন নারী ও পুরুষ শ্রমিকের পারিশ্রমিকের বৈষম্যের কথা। এক প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, একই কাজ করা সত্ত্বেও পুরুষ শ্রমিকরা পান ৩ ‘শ থেকে সাড়ে ৩ ‘শ টাকা আর আমরা পাই ২ ‘শ টাকা! এমন পারিশ্রমের তফাৎ শুনে তিনি বলেন, কেন পুরুষরা বেশি পান? জবাবে তারা বলেন “তারা তো পুরুষ”।

এরপর জেলা প্রশাসক তাদের সাথে পরিবার, সন্তানদের লেখা-পড়া, সন্তানদের বাল্যবিয়ে না দেয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। এছাড়া প্রত্যেককে বিধবা ভাতা দেওয়ার আশ্বাস এবং কোন প্রকার অসুবিধা হলে তার সাথে যোগাযোগ করার জন্য নিজের ভিজিটিং কার্ড দিয়ে সেখান থেকে বিদায় নেন।

এদিকে জেলা প্রশাসক গৌতম চন্দ্র পাল জমিতে এসে তাদের সাথে কথা বলায় আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন এবং বিষয়টি গ্রামের সকলকে বলা বলি করতে থাকেন। মূহুর্তেই বিষয়টি গ্রামে আলোরন সৃষ্টি করে। তারা আরও বলেন এমন জেলা প্রশাসক যদি প্রত্যেক জেলায় থাকতো তাহলে আমাদের দেশের ও দেশের মানুষের এত দুঃখ-কষ্ট থাকতো না। তারা সকলে জেলা প্রশাসকের দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

প্রিন্স, ঢাকা