ত্রিপুরায় মন্ত্রী হলেন যারা

নিউজ ডেস্ক : ২৫ বছরের লাল দুর্গের অবসান ঘটিয়ে ত্রিপুরায় প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করেছে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি। 

বিভিন্ন দিক থেকে পিছিয়ে থাকা ত্রিপুরা রাজ্যকে গেরুয়া রঙে রাঙানোর নেতৃত্ব দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি বিপ্লব কুমার দেব। 

শুক্রবার (০৯ মার্চ) দুপুরে রাজ্যের রাজধানী আগরতলার আসাম রাইফেলস ময়দানে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল তথাগত রায়। 

আর উপ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন রাজ্য বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা যিষ্ণু দেব বর্মণ। 

এছাড়া মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিজেপি নেতা এন সি দেববর্মা, রতন লাল নাথ, সুদীপ রায় বর্মণ, প্রাণজিত সিংহ রায়, মনোজ কান্তি দেব, মেবার কুমার জমাতিয়া, শান্তনা চাকমা প্রমুখ।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছিলেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ, প্রবীণ নেতা লাল কৃষ্ণ আদভানি, মুরলি মনোহর যোশী, উত্তরপূর্ব উন্নয়ন মন্ত্রকের মন্ত্রী জীতেন্দ্র সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, আসামের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা, সদ্য সাবেক হওয়া ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার প্রমুখ।

এছাড়া গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুব্বানি, নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেফিও রিও, আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল, রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী বসুন্দরা রাজসহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপি থেকে নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রীরা ছিলেন শপথ অনুষ্ঠানে।  

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ত্রিপুরা বিধানসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাজ্যের বনমালীপুর আসন থেকে অংশ নিয়ে বিজয়ী হন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিপ্লব কুমার। তার নেতৃত্বে বিজেপি বিধানসভার ৬০টি আসনের মধ্যে ৪৩টি আসনে জয় পেয়েছে। আর ভরাডুবি হয়েছে মানিক সরকারের নেতৃত্বাধীন সিপিএম-এর।
 
গত ৩ মার্চ সেভেন সিস্টার্সের তিন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়। এরপর থেকেই দেশটির গণমাধ্যম বিপ্লব দেবকে ত্রিপুরার ভাবী মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও বিজেপি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় ৬ মার্চ। 

২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারি ত্রিপুরা রাজ্য বিজেপির দায়িত্ব পান বিপ্লব দেব। তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ওই সময় বিপ্লব দেব ১৫ বছর দিল্লিতে অবস্থান করেন; তখন সেখানে একটি ব্যায়ামাগারের প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেন তিনি।

বিপ্লব দেব ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারে থাকা দলটির সবচেয়ে কম বয়সী রাজ্য সভাপতি। এই যুবনেতা মাত্র দুই বছরের মাথায় ২৫ বছরের বাম শাসনের পতন ঘটিয়ে লাল থেকে গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে দিলেন বিভিন্নভাবে পিছিয়ে থাকা ত্রিপুরাকে।