জয় বাংলা কনসার্টে মাতলেন তরুণেরা

নিউজ ডেস্ক: সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিট। স্টেডিয়ামের বড় রঙিন পর্দায় চলছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাতই মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ। ১৮ মিনিটের সে ভাষণে সাড়া দিলেন স্টেডিয়ামে থাকা প্রায় ৩০ হাজার তরুণ-তরুণী। বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সঙ্গে সমস্বরে তাঁরা বলে উঠলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে ‘জয় বাংলা কনসার্ট ২০১৮ ’-তে দেখা মিলল এমন মুহূর্তের। বিকেল থেকেই রাজধানীর তরুণ প্রজন্ম মেতে থাকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গানসহ আটটি ব্যান্ডের রক ধাঁচের গানে।

বিকেল সাড়ে তিনটায় কনসার্ট শুরু হয় সমবেত সংগীত ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে’ গানটি পরিবেশনের মাধ্যমে। এরপর ব্যান্ড দল ‘পাওয়ার সার্জ’ পরিবেশন করে রক মিউজিকের সঙ্গে ফিউশন ‘মাগো ভাবনা কেন’সহ আরও পাঁচটি গান।

আর্বোভাইরাস গেয়ে শোনায় ‘আমরা করব জয়’, ‘জ্বালো আগুন জ্বালো’, ‘হারিয়ে যাও’ ছাড়া আরও দুটি গান। শূন্য ব্যান্ড শোনায় ‘চলো আজ ফিরে যাই গোধূলির ওপারে’, ‘শোনো জনগণ’, ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’সহ আরও তিনটি গান।

সাতই মার্চের চেতনায় ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের তৈরি ফ্ল্যাশমব ও ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্ল্যাশমব উপস্থাপন করা হয় বড় পর্দায়।

এরপর ব্যান্ড দল নেমেসিস আতশবাজির ঝলক দিয়ে গান শুরু করে। তখন সন্ধ্যা।

স্টেডিয়ামের বড় মঞ্চ থেকে নেমে আসে ধোঁয়া। থাকে লেজার শো। নেমেসিস গায় ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি’।

ব্যান্ড দল ক্রিপটিক ফেইট রক, মেটাল ও ফিউশন ধাঁচের পাঁচটি গান পরিবেশন করে। এরপর ব্যান্ড দল লালন, চিরকুট ও আর্টসেল গান পরিবেশন করে।

আর্বোভাইরাস গেয়ে শোনায় ‘আমরা করব জয়’সংগীত পর্বের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু এবং সাতই মার্চের ভাষণ নিয়ে বেশ কিছু ভিডিও চিত্র উপস্থাপন করা হয়। সাতই মার্চে দেওয়া বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর ইউনেসকো-প্রধানের বক্তব্যের একটি ক্লিপ প্রদর্শন করা হয়।

এবারের জয় বাংলা কনসার্টে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র এবং গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি আর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

গত বছরের ৩০ অক্টোবর ইউনেসকো সাতই মার্চের ভাষণকে ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে ঘোষণা করে। ইয়াং বাংলার সহযোগী হয়ে কনসার্টটি আয়োজন করে সিআরআই। ২০১৫ সাল থেকে নিয়মিতভাবে আয়োজিত হয়ে আসছে কনসার্টটি। আয়োজকেরা ধারণা করছেন, কনসার্টে উপস্থিত ছিল ৩০ হাজারের বেশি মানুষ।