তারল্য সংকট : বেশি ভুগছে ইসলামী ব্যাংকগুলো

নিউজ ডেস্ক : এই মুহূর্তে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে ভুগলেও তারচেয়ে বেশি সমস্যায় ভুগছে ইসলামী ব্যাংকগুলো। আমানতের চেয়ে ঋণের প্রবৃদ্ধি বেশি হওয়ায় ব্যাংকখাতে আর উদ্বৃত্ত তারল্য নেই।
 
সূত্র মতে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কয়েকটি তারল্য সংকটে ভুগলেও তারচেয়ে বেশি সমস্যায় ভুগছে ইসলামী ব্যাংকগুলো। ঋণ বিতরণ আশংকাজনকহারে বেড়ে যাওয়ায় এক সময় উদ্বৃত্ত তারল্যের ছড়াছড়ি থাকলেও তা এখন আর নেই। বিশ্লেষকরা এর নেপথ্য কারণ হিসেবে দেখছে, অর্থমন্ত্রণালয়ের নীতিগত দুর্বলতাকে। একইসাথে তারা শংকিত বেসরকারিখাতের ঋণের সুদ হার বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও।
 
বাংলাদেশে সোনালী ব্যাংকের পর সবচেয়ে বড় ব্যাংক হচ্ছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। নভেম্বরের মাঝামাঝি এই ব্যাংকটির ঋণ আমানত অনুপাত ছিল সাড়ে ৯০ শতাংশ। ওই সময়ে ব্যাংকটির আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ২১ শতাংশ আর ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ। একই অবস্থা বাকি সব ইসলামী ব্যাংক ও বিভিন্ন ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখাগুলোতেও। শংকার বিষয় হলো সার্বিকভাবে ইসলামী ব্যাংকগুলোর আমানতের প্রবৃদ্ধি যেখানে ১৩ দশমিক ৮৭ ভাগ সেখানে ঋণের প্রবৃদ্ধি ৩৩ দশমিক ৯৫ ভাগ।
 
সূত্র মতে, ইসলামী ব্যাংকগুলোতে এই মুহূর্তে নগদ টাকার প্রভাব এতই প্রকট যে, এখন তাদের হিসাবে আর উদ্বৃত্ত তারল্য খুব একটা নেই। গত ৬ ফেব্রুয়ারি প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বাংলাদেশ ব্যাংক হিসাবে যেখানে উদ্বৃত্ত ছিল এক হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা, সেখানে ইসলামী ব্যাংকগুলোর হিসাবে ছিল মাত্র ৩১৩ কোটি টাকা। এজন্য বিশ্লেষকরা সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানতের সুদ হারে নিয়ে সরকারের নীতিগত দুর্বলতাকে দায়ী করছেন। ঋণ চাহিদা বাড়াকে উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি হিসেবেই দেখছেন তারা।
 
ব্যাংক ঋণের সুদ হার বেড়ে গিয়ে উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ারও আশংকা করছেন তারা। তারল্য ব্যবস্থাপনায় সরকার এখনই মনোযোগী না হলে আর্থিকখাতে লাগামহীন বিশৃঙ্খলার আশংকা করছেন তারা। অবশ্য সার্বিকভাবে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।