বাক্সে বসে খাওয়া, সঙ্গে চাঁদের আলো

নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর উঁচু উঁচু ভবন ছাপিয়ে চাঁদ উপভোগ করা সবার হয়ে ওঠে না। নগরে অনেকে রেস্তোরাঁ সে সুযোগ করে দিলেও আসমানের চাঁদ জমিনে বসে দেখা আর সঙ্গে খাওয়ার জন্য মেট্রো কিচেনসের পরিবেশটাই অন্য রকম। সঙ্গে আছে পণ্যবাহী কনটেইনার বা বাক্সে বসে খাওয়ার ব্যবস্থা।

রাজধানীতে এখন রেস্তোরাঁ ছাড়া গলি পাওয়া দুষ্কর। তাই নতুন যাঁরা এ ব্যবসায় নামতে ইচ্ছুক, তাঁদের চিন্তাই থাকে নিজেদের ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আবদুস সোবহান ঢালী রোডের পাশে বেশ অনেকটা জায়গাজুড়ে করা হয়েছে মেট্রো কিচেনস। ঢুকতে প্রথমেই চোখে পড়বে ছোট ছোট আকৃতির বাক্স। তাঁর মধ্যে চেয়ার পাতা। ভালো করে খেয়াল করলেই বোঝা যাবে এগুলো মালবাহী কনটেইনার। হাতের ডানে ও বাঁয়ে ৫টি করে মোট ১০টি কনটেইনার।

মেট্রো কিচেনসের মাঝের জায়গা পুরোটা খোলা। অনেকগুলো চেয়ার-টেবিল বসানো। বর্গাকৃতির এ জায়গার দোতলাতেও বসার জায়গা আছে। সম্প্রতি ঘুরে দেখা যায়, এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংখ্যাই বেশি। আড্ডা আর গল্পের আসরে খাওয়াদাওয়াতে কিছুটা আলসে ভাব। তাড়াহুড়ো নেই। কেউ কেউ ল্যাপটপ নিয়ে বসে কাজ করছেন। কেউবা ক্লাসের লেকচারটিই বন্ধুর কাছে থেকে আবার বুঝে নিচ্ছেন। সঙ্গে হয়তো কোনো খাবার। অফিসের বা ব্যবসায়িক কাজটুকুও খাওয়ার ফাঁকে সেরে নিচ্ছেন অনেকে।

মেট্রো কিচেনসের উদ্যোক্তা মাহফুজ হাসান ও তাঁর বন্ধু রাসেল আহমেদ। মাহফুজ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, গত বছরের ১৪ জুলাই এটা চালু হয়। কনটেইনার রেস্তোরাঁর অনুপ্রেরণা পেয়েছেন নিউজিল্যান্ডের এ রকম এক রেস্তোরাঁ দেখে। মেট্রো কিচেনসের একেকটি কনটেইনারে ১৮ জন বসতে পারবে।

কনটেইনার প্রসঙ্গে রাসেল আহমেদ বললেন, ‘ভিন্ন কিছু করতে চেয়েছি। কেউ দেখে যেন ‘ওয়াও’ বলে।’ তিনি আরও বলেন, দুপুরে ও সন্ধ্যার পরে এটা জমে ওঠে।

মেট্রো কিচেনসের বিশেষত্ব নিয়ে মাহফুজের বক্তব্য, এখানে বাইরে বসে খোলা আকাশের নিচে চাঁদ উপভোগ করতে করতে খাওয়া যাবে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ। শিশুদের জন্যও এক পাশে খেলার জায়গা আছে।

চায়নিজ, ইন্ডিয়ান, থাই, ইতালিয়ান, মঙ্গোলিয়ানসহ বাইরের খাবারের আধিক্য। শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে বেশির ভাগ প্যাকেজ খাবার ১০০ থেকে ২০০ টাকায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন দামের খাবার রয়েছে। বেলা ১১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত খোলা। গাড়ি নিয়ে যেতে চাইলে পার্কিং-সুবিধাও পাওয়া যাবে।

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থী তাসনিম তাবাসসুম ও শাশ্বত শ্রেয়া ক্লাস শেষে খেতে এসেছেন। তাসনিম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকে এখানেই আসি। খাবার ভালোই আর দামটাও তুলনামূলক কম।’ আর পরিবেশটা খোলামেলা হওয়ায় শাশ্বতর এখানে খেতে ভালো লাগে।