চাকরিপ্রার্থী নারীর ফাঁদে এমডি!

নিউজ ডেস্ক : ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মের এক এমডি’র সাথে বন্ধুত্ব করে তাকে প্রতারণার জালে ফেলেছে একই কোম্পানীতে চাকরি নিতে আসা এক নারী। পরবর্তীতে পুলিশের হাতে গ্রেফতারও হয়েছে এই প্রতারক নারী।

ঘটনাটি চট্টগ্রামের। নাম রওশন আক্তার। সে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য। এ চক্রের কাজ হচ্ছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি খুঁজতে এসে উক্ত প্রতিষ্ঠানের নামিদামি ব্যক্তিবর্গের সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে তোলা। তারপর সময় সুযোগ বুঝে তাদেরকে ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন কৌশলে মুক্তিপণ আদায় করা।

রওশন আক্তার গত জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রামের হালিশহরের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ভুয়া তথ্য দিয়ে চাকরির জন্য আবেদন করেন। আর তার টোপে পা দেন একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মের এমডি। রওশন আক্তার এমডি’র সাথে ভালো আচরণ করে ফেইসবুক ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরপর তিনি গত ২৩ জানুয়ারি’১৮ এমডি কে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে পরিচয় করে  দিতে চান। অফিসের  গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে নিয়োগ দেওয়ার পূর্বে প্রার্থী সম্পর্কে ভাল করে জানা এবং তার অভিভাকদের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য এমডি তার বাসায় যেতে রাজি হয়। তারপর ঐদিন দুপুরে তাকে কৌশলে নগরীর বেপারীপাড়ার রওশনের বাসায় নিয়ে যান।

এরপরই শুরু হয় ঘটনার, বাসায় প্রবেশ করার কিছুক্ষণ পরেই তিনজন পুরুষ বাসায় প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেন। তারপর এমডি সাহেবকে মারধর করে তার কাছে থাকা অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় তারা। কিছুক্ষণ পর রওশনকে এমডি সাহেবের পাশে বসিয়ে ঐ চক্রের এক সদস্য রনি কিছু অশ্লীল ছবি তুলে নেয়। দুই লক্ষ টাকা না দিলে সেই ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করার হুমকি দেয় তারা। এমডি সাহেব অসহায় হয়ে তার এক বন্ধুর মাধ্যমে প্রতারকদের দেয়া বিকাশ নাম্বারে এক লক্ষ টাকা মুক্তিপণ হিসেবে প্রেরণ করেন। বাকী এক লক্ষ টাকা দ্রুত প্রদানের জন্য তাকে মারধর করে। টাকা না দিলে অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

ভিকটিম ছাড়া পেয়ে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৩ ফেব্রুয়ারি’১৮ ভোরবেলা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ এর একটি টিম বেপারীপাড়ার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক রওশন আক্তারকে গ্রেফতার করেন।

একইদিন এ সংক্রান্তে গ্রেফতারকৃত রওশন ও তার পলাতক তিন সহযোগীসহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে ডবলমুরিং থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

শুধু চাকরিপ্রার্থীই না, চাকরি দাতারাও প্রতারিত হতে পারেন মর্মে সতর্ক করে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে সকলকে এই ব্যাপারে সচেতন থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।