স্বাধীনতাকে আরো অর্থবহ করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেন, বিবেককে বিকিয়ে দেবে না। লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতাকে আরো অর্থবহ করতে তোমাদের অবদান রাখতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের অবিনাশী চেতনা, দেশপ্রেম হোক তোমাদের চলার পথের পাথেয়।

শিক্ষাজীবন শেষ করার পর বাস্তব জীবনের আসল সংগ্রাম এখন থেকেই শুরু। এই সনদ সেই সংগ্রামে অবতীর্ণ হবার স্বীকৃতিপত্র। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সাইন্সেস (সিভাসু) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য এবং রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জলবায়ূ পরিবর্তনের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার নেতিবাচক প্রভাব আমাদের কৃষিতে পড়তে শুরু করেছে। অপরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলছে। কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের অব্যাহত অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে জলবায়ূ পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় গবেষক ও বিজ্ঞানীদের নতুন নতুন জাত ও পদ্ধতি আবিস্কারে মনযোগী হতে হবে।

বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এই বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। বঙ্গোপসাগরে যে ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার জলসীমা বাংলাদেশ জয় করেছে, গবেষণার মধ্য দিয়ে সেখানকার মৎস্যসম্পদের উন্নয়নে এই বিশ্ববিদ্যালয় ভূমিকা রাখবে বলেও আশা রাষ্ট্রপতির।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য ছাত্র-শিক্ষকের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উপর জোর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেছেন, শিক্ষকদের হতে হবে স্নেহপ্রবণ ও অভিভাবকতুল্য।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ আজ সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল সময় অতিক্রম করছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তরুণদের সুশিক্ষিত ও দক্ষ মানব সম্পদে রূপান্তরিত করার গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে।

সমাবর্তনে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল মান্নান। সমাবর্তন বক্তা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমিরেটাস ড.এ কে আজাদ চৌধুরী। এছাড়া সিভাসু’র উপাচার্য ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য, দক্ষ প্রাণী চিকিৎসক তৈরি করতে ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষে নগরীর ওয়ারল্যাস কলোনি এলাকায় প্রতিষ্ঠা হয় চট্টগ্রাম সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ।

১৯৯৬ সালের জানুয়ারি মাসে ৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু হয় কলেজটির। তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে ছিল এই কলেজ। ২০০৬ সালে এই কলেজকে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তর করে তৎকালীন সরকার।
পরবর্তীতে সরকার এক অধ্যাদেশের মাধ্যমে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সাইন্সেস ইউনিভার্সিটি (সিভাসু) প্রতিষ্ঠা করে। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভেটেরিনারি মেডিসিন, ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং মৎস্যবিজ্ঞান নামে তিনটি অনুষদ দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার যুগপূর্তিতে এসে হয়েছে প্রথম সমাবর্তন।

প্রিন্স, ঢাকা