বিশ্বের ৯৩টি দেশে ভ্রমণ করেন লক্ষ্মীপুরের নাজমুন

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: বিশ্বের ৯৩টি দেশ ভ্রমণ করেন ল²ীপুরের নাজমুন নাহার। নাজমুন ১৯৭৯ সালের ১২ ডিসেম্বর সদর উপজেলার হামছাদী ইউনিয়নের গঙ্গাপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। বাবা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আমিন ২০১০ সালে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। মা তাহেরা আমিন। ৩ ভাই এবং ৫ বোনের মধ্যে নাজমুন নাহার সবার ছোট।

নাজমুন নাহার বলেন, নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে, অনেক মানুষ অর্থ উপার্জন করে গাড়ি বাড়ি, দামি জিনিসপত্র ক্রয় করে। কিন্তু আমি তা না করেই উপার্জিত অর্থ দিয়ে বিশ্ব ঘুরেছি। ভ্রমন কালে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছি। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরা ইচ্ছা করলেই অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে আমি সেটাই প্রমাণ করেছি।

পৃথিবীটা আমার অনেক পছন্দের। এটা যখন আমি দেখি তখন মনে হয় এখনো তো পৃথিবীর কিছুই দেখিনি। আমি এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৯৩টি দেশের অসংখ্য স্থান চষে বেড়িয়েছি। বেশিরভাগ দেশই আমি ঘুরে বেড়িয়েছেন একা একা। আমার ইচ্ছা পুরো পৃথিবী ঘুরে বেড়ানোর। পৃথিবীকে কাছ থেকে জানার জন্যই আমি জন্ম নিয়েছি।

ব্যক্তিগত কোন উদ্দেশ্য নেই আমার। ভ্রমন করেছি তা সবার সামনে তুলে ধরতে চাই। মন থেকে খারাপ চিন্তা সরাতে হবে। দেশ ও মানুষের উন্নয়নে ভ‚মিকা রাখতে হবে। ৯৩ টি রাষ্ট্রে ভ্রমন কালে ৩ বার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি তবুও হাল ছাড়েনি যদি ভ্রমনে মৃত্যু হতো তা গ্রহন করতাম।

বিশ্বের ৯৩টি দেশে ভ্রমণ করা নাজমুন লক্ষ্মীপুরের সাংবাদিকদের জানান, রাজশাহী বিশবিদ্যালয়ে পড়ার সময় ২০০০ সালে প্রথম বাংলাদেশের বাইরে আমি যাত্রা শুরু করি ইন্ডিয়ার পাঁচমারিতে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভেঞ্চার প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার জন্য। সেই থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত বিশ্বের নানা দেশ গুরে বেড়েয়েছি।

২০১৬ ও ২০১৭ সালে ঘুরেছি ৩৫টি দেশ। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে ৯৩তম দেশ হিসেবে ভ্রমণ করেছেন নিউজিল্যান্ড। তিনি বলেন ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত মাকে সঙ্গে নিয়ে ১৪টি দেশ ভ্রমণ করেছি ‘আমি যখন অনেক দেশ ভ্রমণ করতে থাকি এবং পৃথিবীর সৌন্দর্য দেখি তখন আমার মাকে খুব মনে পড়তো। মনে হতো আমার মাও যদি ভ্রমণ করতে পারতো। সেই অনুভ‚মি থেকেই আমার মাকে নিয়ে ভ্রমন করা।

খুব শিগগিরই আমি ১০০টি দেশ ভ্রমণ পূর্ণ করবো। আমার ইচ্ছে এ বছরই বাংলাদেশের পতাকাকে ঘুরে বেড়ানো ১০০তম দেশে উত্তোলন করাবো। তিনি বলেন, ‘হৃদয়ে বাংলাদেশ নিয়ে দু-চোখে দেখবো এই বিশ্বকে।’

তিনি আরো বলেন ‘ইন্সপিরেশন গ্লোবাল ফাউন্ডেশন’ নামে একটি উদ্যোগ শুরু করতে যাচ্ছি। এর মাধ্যমে আমি বিভিন্ন স্কুল ও অনাথ আশ্রমে যাবো। বর্ণনা করবো নিজের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা। ‘অসহায় শিশুদের মানুষ খাবার দেয়, নতুন জামা দেয়। কিন্তু আমি তাদের স্বপ্ন দেখাতে চাই। পৃথিবীকে দেখার স্বপ্ন। নিজেকে বড় ভাবার স্বপ্ন।