খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড

নিউজ ডেস্ক: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর আসামিদের দশ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ রায় দেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ২টায় আদালতে পৌঁছান খালেদা জিয়া। এর আগে বেলা পৌনে ১২টায় রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে খালেদা জিয়া রওনা হন। তার গাড়ি বহর হাতিরঝিল হয়ে মগবাজারের দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ শত শত নেতাকর্মী বের হয়ে আসেন। তারা খালেদা জিয়ার গাড়ি ঘিরে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে গাড়ি বহর কিছুক্ষণ থেমে থাকলেও পরে ধীরে ধীরে গাড়ি চলতে থাকে।

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে থাকা বিএনপি নেতাকর্মীরা কাকরাইল পৌঁছলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল ছুড়ে মারলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তাদের লক্ষ্য করে টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ সেখান থেকে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মামলার প্রধান আসামি। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়াও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার আসামি সাবেক এমপি কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। মামলার শুরু থেকেই তিন আসামি তারেক রহমান, ড. কামাল সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক।

এতিমখানার জন্য বিদেশ থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ৩ জুলাই বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান রায় ঘোষণা করবেন বলে দিন ধার্য রয়েছে।

মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সৌদি আরব থেকে এতিমদের জন্য আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ১৩ মাস তদন্ত শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে চার্জ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ২৩৬ কার্যদিবসে ৩২ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ, ২৮ কার্যদিবসে আসামিপক্ষের আত্মপক্ষ সমর্থন ও ১৬ কার্যদিবসে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়। বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে নিম্ন আদালতের বিচারকাজ শেষ হয়।