বন্ধু তোমার জন্যে আমি

এম এস প্রিন্স

তুমি হিন্দু না কি মুসলিম
বৌদ্ধ না কি খ্রিস্টান
না কি মহা-জীবনের সওগাতে
মিশে আছ আর ধর্মে মিলে প্রাণ
জানতে চাই না কিছু; তুমি মানুষ
ধরা তলে এটাই সবচেয়ে বড়ো প্রমাণ।
তুমি কে! কে-ই বা তোমার পিতা মাতা?
ও কথা যদি কারো প্রশ্নে আসে
সে যেন দেখে গিয়ে খোদার আরশে।
বলো তুমি বলো মনে কি শোক তাপ
কেন এত অভিমান?
বলো কাঁটা বিঁধে কেউ ক্ষুন্ন করে-
দিল না কি মান সম্মান!
আমি তো নিদির্ষ্ট করে বলি নাই-
‘পড় তুমি ও পবিত্র পত্র।’
তারি দ্বারে নক কর তুমি পছন্দ যার ছত্র।
চৌ’দিক বন্ধনা করে আমি মসজিদ মন্দির
গির্জার তুলি নিয়ে গড়েছি সাম্য কাবা ঘর;
এখানেও প্রভু তোমার আশে গুনছে কত প্রহর।
যে নামে খুশি ডাক তারে তবু খোল দ্বার
তোমার তরে এই মিনতি মুখ ফিরে নিও না কভু আর।

ঈশা মুসার মত
আরো যত মুনি ঋষি তাদের সমান
জনম ভর গেয়ে গেল একি সত্যের গান
গগন তলে তুমি আমি মানুষ মানুষ
তবে কেন দু’জন দুই কুলে
নিয়তি বলে মেনে নিলাম কেন
সত্যকে দিয়ে পথের ধুলে ঠেলে?
যে স্রষ্টার সৃষ্টি তুমি
সে-ই তো আমারও জগৎ স্বামী।
ধরা তরে আগুন পানি বাতাস
দিয়ে যায় যদি সমানে সমান একি সুখের আবাস
তবে তুমি আমি মানুষ
মানুষে কেন এই ব্যবধান?
কেন-ই বা গেয়ে আর গান
প্রকৃতির থেকে নিশ্চয়
আপনার হাতেই করে চলছি আপন স্বার্থের ক্ষয়।