কারাগারে গয়েশ্বর, রিমান্ডে ৫৫ নেতাকর্মী

নিউজ ডেস্ক:  নাশকতার অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনের রমনা থানার একটি মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একই মামলায় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ ইসলাম অমি ৩ দিনের এবং অপর ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার রমনা থানার ওই মামলায় ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদুল হাসান শুনানি শেষে কারাগারে এবং এই রিমান্ড মঞ্জুরের আদেশ দেন।

এদিকে রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকায় পুলিশের প্রিজন ভ্যানে হামলা ও ছাত্রদলের দুই কর্মীসহ তিন জনকে ছিনিয়ে নেয়ায় শাগবাগ থানার বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরও দুই মামলায় ১৮ জন নেতাকর্মীর একই বিচারক ২ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এদিকে রমনা থানার আরেক মামলায় বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনিছুর রহমান খোকনের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন একই আদালত। অন্যদিকে চকবাজার থানার বিএনপি নেতা শফিক উদ্দিন আহম্মেদ জুয়েলের রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন একই আদালত।

রমনা থানার ২ দিনের রিমান্ডে যাওয়া অপর ৩৫ জন আসামি হলেন, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ ইসলাম অমি, মহিলা দলের সাবেক সভাপতি পেয়ারা মোস্তফা (৬০), মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেহানা সুলতানা আরজু (৪৫) কেন্দ্রীয় মহিলা দলের নেত্রী শারমিন আক্তার মুন্নি (৩৫), চকুয়া থানা বিএনপির সদস্য মো. মোজাম্মেল হক লিটন(৪৭), মো. আলম (৩৯), মো. ইমরান মিয়া (৩০), শেরেবাংলানগর থানার ২৮ নং ওয়ার্ডের ছাত্র দলের সদস্য সালাহ উদ্দিন (২৯), রামপুরা থানার কৃষক দলের সভাপতি আসাদুজ্জামান আরিশ (৫০), তুরাগ থানার বিএনপির কর্মী মো. কবির হোসেন (৩৮), মো. খোকন সরকার (৫২), ছাত্রদল সদস্য মো. ইমরান হোসেন (২৭), শ্রমিক দল সদস্য রফিকুল ইসলাম মনু (৪৪), ছাত্র দল সদস্য মো. ফাইজুল ইসলাম নোমান (৩৪), বিএনপি কর্মী মো. শরিফ (৩৮), ভাণ্ডারিয়া থানা বিএনটির সদন্য, সাইফুল হক (৩৮), পল্টন থানা বিএনপি নেতা গাজী হাবিব হাসান (৪৫), পল্লবী থানা বিএনপি নেতা মো. সাইদুর রহমান (৫১), উত্তরা পূর্ব থানার বিএনপির সহ-সভাপতি মো. শাহ আলম (৫২), চকবাজার থানার বিএনপির নেতা মো. আব্দুল্লাহ নূর (৪০), ফরিদগঞ্জ থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ইসমাইল তালুকদার খোকন (৪৮), কামরাঙ্গীরচর থানার শ্রমীক দলের আহ্বয়ক মো, জসিম মিয়া (৩৮), শ্রমিক নেতা আমজাদ হোসেন (৩০), কামরাঙ্গচর থানা শ্রমিক দলের সদস্য মো. আলম মিয়া (৪০), রাজনগর উপজেলা ছাত্র দলের যুগ্ম সম্পাদক মো. রুবেল আহমেদ (৩০), ঢাকা মহানগর ছাত্র দল পশ্চিমের সদস্য মো. মানা (২৯), উত্তরা পূর্ব থানার বিএনপির সদস্য মো. মাহবুব খান (৩৪), উক্তরা পূর্ব থানার শ্রমিক দলের সদস্য মো. সুজন মিয়া (২৮), বংশাল থানা ছাত্র দল নেতা সৈকত রহমান (১৮), ছাত্র দল কর্মী মো. নাঈম হোসেন (২৯), চকুয়া থানা ছাত্র দলের সহ-সভাপতি মো. বোরহান উদ্দিন (৩৫), ছাত্র দল সদস্য নুবয়াত আল মাহামুদ ইনু (৩৬), চকুয়া থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজ আহমেদ (৩৮) ও ওয়ারি থানা বিএনপি কর্মী মীর মাহামুদুর রহমান (৪৫)।

এর আগে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় রমনা থানার ইন্সপেক্টর মো, সফিকুল ইসলাম আসামি গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে রিমান্ড আবেদন ছাড়াই কারাগারে আটক রাখার এবং রিমান্ডকৃত ৩৭ আসামির ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শিহাব উদ্দিন, সালমা হাই টুনি বিরুদ্ধে দশ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। আসামিপক্ষে সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার, মহসিন মিয়া, ইকবাল হোসেন প্রমুখ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের শুনানি করেন। আর গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের জামিনের আবেদন করেন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকায় পুলিশের প্রিজন ভ্যানে হামলা ও ছাত্রদলের দুই কর্মীসহ তিন নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় শাহবাগ ২ মামলা এবং রমনা থানাধীন পরিবাগ এলাকায় নাশকাতার অভিযোগে রমনা থানায় একটি মামলা করে পুলিশ।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রহিদুল ইসলাম ও এসআই চম্পক বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় পৃথক দুটি মামলা এবং রমনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহিবুল্লাহ রমনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ওই ঘটনার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশানে পুলিশ প্লাজার সামনে এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে তার শান্তিনগরের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।