কনস্টেবলের এত দাপট!

জাহিদ ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: এই সেই,ক্ষমতাধর কোটিপতি পুলিশ কনস্টেবল বদরুল হাসান তালুকদার ওরফে বাচ্চু ড্রাইভার। ক্ষমতাধর এই পুলিশ কনস্টেবলের জন্ম ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মাইজহাটী গ্রামে। ইংরেজী অংকে কাঁচা, তাই লেখা পড়ায় বেশি দূর আগাতে না পারলেও জীবনের অংকে পুরো-পুরী গোল্ডেন প্লাস। তিন ভাই, চার বোন, বাবা নেই। অভাব অনটনের মাঝে ভাই বোনদের আঁচলে আগলে ধরে মা চালাচ্ছিল সংসার।

আর তাই মায়ের দু:খ ও নিজের জীবনের হাল পরিবর্তন করতে ২৫ শে সেপ্টেম্বর ১৯৮৩ সালে যোগ দেন বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল (ড্রাইভার)পদে বাচ্ছু।

পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিয়ে ১৫ (পনের হাজার) টাকা বেতনে তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। লোক মুখে শুনা যায় যে, আত্নীয়তার সূত্র ধরে পৌঁছে যান পুলিশের ঊর্ধতন কর্মকর্তার ড্রাইভার পদে। বি,এন,পি হ্মমতায় থাকায় ঊর্ধতন ঐ কর্মকর্তার সু-নজরে এলে তার ভাগ্যের দ্বার খুলে যায়, তাকে আর পুলিশ হেডকোয়াটারের বাইরে যেতে হয়নি। এমন কি পত্র-পত্রিকায় লেখা-লেখি হলেও অনড় ছিলেন।

২০১৬ সালের ১লা ফেব্রুয়ারী মাসে শেরপুর হতে নারায়ণগঞ্জ বদলি করা হলেও সেখানে যোগ দেননি। বিশ্বস্ত একাধিক সূত্রে জানা যায়, বার বার বদলির নির্দেশ আসলেও তার বদলি আর হয় না। বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগ দানের পর হতে এখন পর্যন্ত অধিকাংশ সময় সে মেডিকেল ছুটিতে থেকে নানা ধরনের অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন বলে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ আছে। হ্মমতার বরপূত্র এ পুলিশ কনস্টেবলের অপকর্মের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষের ৪৩টি অভিযোগ বিভিন্ন সরকারি- বেসরকারি দপ্তরে দিলেও কোন সুফল পাওয়া যায়নি।

কারন তার ইশারায় আর অলৌকিক শক্তির কাছে সবাই নিরুপায়। ভুক্তভোগীরা জানান তার বিরুদ্ধে যে তদন্ত গুলো হয়, সে কৌশলে উপস্থিতিত থেকে তার পছন্দের লোক দিয়ে তদন্ত করান এবং তার অত্যাচারের স্বীকার মানুষ গুলোকে মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করে অন্য গ্রামের ভাড়াটে স্বাহ্মী দিয়ে। তার বাহিনীর বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুললেই নেমে আসে শারীরিকভাবে প্রহার, হত্যা বা হত্যার- হুমকি এবং মিথ্যা মামলাসহ ব্যাপক হয়রানি। তার এই হয়রানির স্বীকার ১৯৭১সালের রণাঙ্গনের বীর সৈনিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান মো:সিরাজুল ইসলাম সিরাজ( ৮৫)।

মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ বলেন, আমি সহকারী অধ্যাপক মো:নজরুল ইসলামের একটি মামলায় বাচ্চুর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারনে, সে তার লোকজন দিয়ে আমাকে ভূঁয়া-মুক্তিযোদ্ধা বানানোর পাঁয়তারা করে, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন সেক্টরে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা কল্পনা প্রসুত অভিযোগ দায়ের করে ব্যাপক হয়রানি করেন। জৈনক রাসেল মিয়া বলেন, প্রফেসার নজরুল ইসলামের বাবা মারা গেলে তারা বাচ্চুর বাহিনীর দায়ের করা মামলার কারণে তার বাবাকে কবর দিতে, এমনকি শেষ দেখার সুযোগ পর্যন্ত পাননি। এমন অবস্থায় আমি কবর খনন করতে আসলে বাচ্চু আমাকে কবর খনন করতে নিষেধ করে বলেন, নজরুলের বাবার লাশ শেয়াল-কুকুরে খাবে!

বাতাসে গন্ধ ছড়াবে আর আমি দেখে আনান্দ পাব। তার বাবার কবর খনন করা যাবে না। রাসেল বলেন আমি বাচ্চুর কথা না শুনে নজরুলের বাবার কবর খনন করি। বাচ্চু আমাকে বলে রাসেল আমার কথা না শুনলে এর পরিনাম ভালো হবে না।

এর কিছুদিন পর বাচ্চু আমাকে রাত প্রায় একটার সময়ে ঘুমন্ত অবস্থায় গৌরীপুর থানা ম্যানেজ করে ইয়াবা গাঁজা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়, আর পুলিশ আমার এই মামলায় বিভিন্ন গ্রামের মানুষকে স্বাহ্মী দেয়। বদরুল হাসান বাচ্চু তার বাহিনী দিয়ে, তার বিরুদ্দে দায়ের করা মামলা স্বাহ্মী জৈনক নাজমুল হোসেন ওরফে নুরুল ইসলামকে হত্যা পর্যন্ত করায় বলে, অভিযোগ আছে। ক্ষমতাধর এই পুলিশ কনস্টেবলের হ্মমতার প্রভাব এতোটাই বেশি যে, থানায় প্রভাব দেখি তার বিরোধী লোক গুলোর উপর ১৮-২০টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।

যা বাস্তবে কোন নাটক, সিনেমার-ফিল্মের খল অভিনেতার চরিত্রকেও হার মানাবে।

বদরুল হাসান বাচ্চু এক অডিও বার্তায় তার হ্মমতার দম্ভোক্তি করে বলেন, ময়মনসিংহের এসপি, এএসপি, গৌরীপুরের সার্কেল, ওসি সবাই তাকে চিনেন। তিনি আরও বলেন, এসপি অফিসে তাঁর বিরুদ্ধে নোটিশ করতে কে কে যায়? অফিস থেকে তাঁকে ফোন করে জানায়। এসপি অফিসে তাঁর বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করলে এসব অভিযোগ পস্রাব করে ভাঁসিয়ে দিই বলেও দম্ভোক্তি করতে দ্বিধাবোধ করেন না।

এছাড়াও এখানে, সহকারী অধ্যাপক মো:নজরুল ইসলাম গংদের ক্রসফায়ারের পরিকল্পনার অংশ হিসাবে একাধিক মামলা দায়ের করেন বলেও এই অডিও বার্তায় তার ভাই স্বীকারোক্তি দেন।

তাইতো, ১৫ পনের হাজার টাকা বেতনে চাকরি করলেও গ্রামে এখন ১৫০০ (পনের শত)শতাংশ জমির মালিক। দূটি সুন্দরী স্ত্রী, তাদের থাকার জন্য ঢাকায় আলাদা ফ্লাট। ছেলে মেয়ের পড়াশুনার জন্য বিলাস-বহুল প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়।

গ্রামে অত্যাধুনিক মৌজাইক পাথরে বাঁধাই করা আধুনিক সভ্যতার নিদর্শন সরুপ ৪র্থ তলা বিশিষ্ঠ্য (এক তলা কম্পিলিট) বাড়ি। এছাড়াও তার বিভন্ন জায়গায় বাড়ি, গাড়ি, মার্কেট আছে বলে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার ঘনিষ্ঠ জনেরা জনান। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের সাথে বাংলাদেশ পুলিশের ভুমিকা অগ্রগণ্য হিসাবে বিবেচিত। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রহ্মায় এবং জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস দমনে পুলিশের ভুমিকা বহি:বিশ্বে প্রসংশার দাবিদার।

কিন্তু গুটি কয়েক পুলিশ সদস্যের কারণে বাংলাদেশ পুলিশের সূর্যসন্তানের ইতিহাস আজ ম্লানো হওয়ার পথে। তাই বাংলাদেশ পুলিশের গৌরাবান্বিত ইতিহাস ফিরে আনতে এখনই শক্ত হাতে বিপদগামী পুলিশ সদস্যের নিয়ন্ত্রন করতে হবে।

প্রিন্স, ঢাকা