পছন্দের মন্ত্রণালয়ের আহ্বান জানালেও নির্বাচনে আসেনি বিএনপি: বাণিজ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: বর্তমান সংসদে বিএনপির অভাব অনুভব করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেছেন, গত নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় বিএনপির যেমন ক্ষতি হয়েছে, তেমনি গণতন্ত্রও কিছুটা আলো হারিয়েছে। কেননা, বিএনপি সংসদে থাকলে তারা গণতান্ত্রিক ধারায় থাকত।

সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারত। তবে এ জন্য বিএনপিকেই দুষছেন তিনি। একই সঙ্গে বিএনপির উপস্থিতিতে আগামী সংসদ আরও প্রাণবন্ত এবং কার্যকর হবে বলেও বিশ্বাস করেন আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্য। তিনি আগামী এক বছরে বর্তমান সংসদ আরও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন।

তোফায়েল আহমেদ বর্তমান সংসদের চতুর্থ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি সংসদে সরকারের সমালোচনা করছে; প্রশংসাও করছে। কিন্তু বিরোধী দলে থাকাকালে বিএনপি কোনো কিছুতেই সরকারের ইতিবাচক দিক দেখতে পায়নি। তারা ঢালাওভাবে সরকারের সমালোচনা করত। সুযোগ পেলেই অশালীন বক্তব্য দিয়ে সংসদকে অস্থির ও অশান্ত করে তুলত। দুই বিরোধী দলের মধ্যে এখানেই পার্থক্য।

বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান তোফায়েল আহমেদের দৃষ্টিতে, বর্তমান সংসদ অনেক বেশি কার্যকর। এই সংসদে বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সুন্দরভাবেই সংসদের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুসহ গঠনমূলক আলোচনার দিক থেকেও অনেক এগিয়ে রয়েছে বর্তমান সংসদ। বিরোধী দল জাতীয় পার্টির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের সদস্যরাও বাজেটের সমালোচনা করেছেন। এ কারণে বাজেটে পরিবর্তনও এসেছে। নিঃসন্দেহে এটা ইতিবাচক দিক। এটাই গণতান্ত্রিক রীতিনীতি।

জাতীয় পার্টির একই সঙ্গে সরকারের মন্ত্রী ও সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এমন উদাহরণ রয়েছে। তার দাবি, এরই মধ্যে আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃতি পেয়েছে বর্তমান সংসদ। বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশের এমপিরা স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারপারসন এবং ঢাকা-৯ আসনের এমপি সাবের হোসেন চৌধুরীকে ইন্টারপার্লামেন্টারি ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত করেছেন।

বর্ষীয়ান এই রাজনীতিকের মূল্যায়ন, সব দলের নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকলে সংসদ সম্পূর্ণ কার্যকর হয়। কিন্তু এটাও ভাবতে হবে, কোন দল নির্বাচনে আসবে কিংবা আসবে না- সেটা ওই নির্দিষ্ট দলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। সব দলের অংশগ্রহণে কার্যকর সংসদ চায় আওয়ামী লীগ। এ জন্য বিএনপিসহ সব দল আগামী নির্বাচনে আসুক- এটাই আওয়ামী লীগের প্রত্যাশা। তবে কোনো দল তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনে না এলেও নির্বাচন হবে।

এ প্রসঙ্গে গত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী বিএনপির নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে আওয়ামী লীগের এই নীতিনির্ধারক নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শতভাগ আন্তরিকতা ও শতচেষ্টার পরও বিএনপি গত নির্বাচনে আসেনি। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকালীন সরকারে থাকার পাশাপাশি পছন্দের মন্ত্রণালয় নেওয়ার আহ্বান জানালেও তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

ওই সময়ে নির্বাচন বানচাল করে তৃতীয় শক্তিকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আনার জন্য খুন-খারাবির রাজনীতি করেছে বিএনপি। তথাকথিত আন্দোলনের নামে হরতাল-অবরোধ ডেকে অরাজকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। পুলিশ এবং প্রিসাইডিং অফিসারও খুন করেছে তারা। তবুও বিএনপি ওই নির্বাচন বানচাল করতে পারেনি। জনগণের স্বতঃস্ম্ফূর্ত প্রতিরোধের মুখে অবাধ নির্বাচন হয়েছে।

তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, কেউ কেউ সুযোগ পেলেই বর্তমান সংসদের সমালোচনা করে। কিন্তু তারা ভুলে যান, গত সংসদে বিএনপির সদস্যরা প্রায় সময় কোনো কারণ ছাড়াই সম্পূর্ণ অসংসদীয় ভাষায় তির্যক মন্তব্য করতেন। এখন সেই পরিবেশ নেই। এ কারণে বর্তমান সংসদ অনেক বেশি কার্যকর হয়েছে। এ সংসদেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনেক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন বন্ধ করে দিলেও সংসদে দাঁড়িয়ে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন। বহুল আলোচিত সেই পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে তোফায়েল আহমেদ আরও বলেছেন, বিশ্বনেতারা বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির প্রশংসা করছেন। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে বাংলাদেশকে অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। হরতাল ও অবরোধের নামে জ্বালাও-পোড়াওয়ের বৈরী বাস্তবতা নেই। সব মিলিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তার দক্ষ, গতিশীল ও সৃজনশীল নেতৃত্ব দিয়ে সব বাধা ডিঙিয়ে বিশ্বসভায় বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

প্রিয় মাতৃভূমির মধ্যললাটে এখন নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশের গৌরব টিকা। সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের বিস্ময়কর উত্থান। অথচ এ বিষয়গুলোও ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছে না বিএনপি। মিয়ানমার থেকে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয়, খাদ্য সহায়তাসহ নানা উদ্যোগ নেওয়ায় বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের প্রতি মমত্ববোধ, মানবিকতা, মহানুভবতা ও উদার দৃষ্টিভঙ্গির জন্য যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম চ্যানেল ফোর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মানবতার মা’ অভিধায় অভিহিত করেছে।

সাক্ষাৎকারে সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও তুলে ধরেন তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণ ও মেট্রোরেলের কাজ শুরুসহ একাধিক বড় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন হওয়ায় সার্বিক অর্থনীতির উন্নয়ন ধারা বেগবান হয়েছে। রাজধানীর দৃশ্যপট বদলে যাচ্ছে। গ্রামের মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা বেড়েছে। নারী ও যুবশক্তির নবঅভ্যুদয় ঘটছে। সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

আইনের শাসন সুসংহত ও সমুন্নত হয়েছে। জাতি এখন ২০৪১ সালের মধ্যে বিশ্বসভায় উন্নত দেশের মর্যাদায় অভিষিক্ত হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে সরকার অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে।

সব মিলিয়ে বর্তমান সরকারের সময়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তোফায়েল আহমেদ। তার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আরও এগিয়ে যাবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে দিনবদলের অঙ্গীকারে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির কলুষমুক্ত ন্যায়ভিত্তিক সুন্দর এবং উন্নয়নের পথে দ্রুত অগ্রসরমান আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তিনি বলেন, উন্নয়নের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশজুড়ে এখন দৃশ্যমান উন্নয়নের ছড়াছড়ি। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আবারও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে আসবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। সেইসঙ্গে বিএনপি আগামী নির্বাচনে আসবে বলেও মনে করেন তোফায়েল আহমেদ।