পিতার অনুস্মরণে ছেলের আত্মাহুতি

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের দাঁড়াচৌ গ্রামের ব্যবসায়ী আবাদ মিয়া স্ত্রীর সাথে কলহের জের ধরে ২০০০ সালে বিষ পান করে আত্মাহুতি দেয়। এঘটনার ১৭ বছর পর পারিবারিক কলহের জের ধরে একই পথ বেছে নিলেন তাঁর ছেলে মিজানুর রহমান (৩৩)। শুক্রবার (২৬ জানুয়ারী) বিকেল সাড়ে ৪টায় নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ ফাঁসিতে ঝুলানো অবস্থায় ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। শনিবার (২৭ জানুয়ারী) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে তাঁর লাশ পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিজানুর রহমান বিবাহিত। তিনি এক সন্তানের জনক। তিনি দুবাই প্রবাসী ছিলেন। ৫ মাসের ছুটি কাটিয়ে আগামী ৩০ জানুয়ারী দুবাইয়ের কর্মস্থলে ফেরার কথা ছিল তাঁর। এরই মধ্যে স্ত্রী ও মায়ের মধ্যে বিবাদ থাকায় তাঁর স্ত্রী বাপের বাড়ী চলে যায়। এসব কারনে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য চাপ দেয় তাঁর মা। কিন্তু সে ডিভোর্স দেয়না। এনিয়ে মিজান স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য গ্রাম্য শালিস বসায়। শালিসেও তাঁর মা তাঁর স্ত্রীকে আনতে রাজি হয় না। ফলে মা-ছেলের মধ্যে ঝড়গা লেগেই ছিল। এমতাবস্থায় মিজান চরম বিষাদে ভূগতে থাকে।

নিহতের মা নুরজাহান ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার দুপুরে গ্রামের দোকান থেকে চা খেয়ে বাড়ী যায় মিজান। জুম্মার নামাজের পর ঘরের ভেতর তাঁর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পায় পরিবারের লোকজন। এরপর পুলিশকে খবর পাঠালে নাঙ্গলকোট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজিম উদ্দিন একদল পুলিশ নিয়ে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তবে নিহত মিজান পূর্ব থেকে মানসিক বিষাদগ্রস্থ ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে তাঁর চিকিৎসা চলছে বলে জানায় নাজিমের মা নুরজাহান বেগম। এবং এ কারনেই নাজিম গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছিল বলেও দাবী তাঁর।

নাঙ্গলকোট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আশ্রাফুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। শনিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে তাঁর লাশ পাঠানো হবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রিন্স, ঢাকা