কনস্টেবলের টাকার পাহাড়!

জাহিদ-ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার, বহুল আলোচিত এক পুলিশ কনস্টেবল নাম তার বদরুল হাসান তালুকদার ওরফে বাচ্চু (ড্রাইভার)। কনস্টেবল পদে চাকরি করেও ১৫০০০/টাকা বেতনে ছেলে-মেয়েকে ইংলিশ মিডিয়াম প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যলয়ে পড়িয়েছে। দুই স্ত্রীকে আলাদা-আলাদা ঢাকায় বাড়ী তৈরী করে দিয়েছে।গ্রামে চার তলা বিশিষ্ঠ্য ১তলা ফ্লাট নির্মান করেছে,১৫০০ শতাংশ জমি ক্রয় করেছে।কয়েকটি কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করেছে।”আনান্দ পুলিশ কল্যাণ সমিতির” সাড়ে ১৫,শতাংশ জমি ক্রয় করেছে।

নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যাংকে গড়ে তুলেছে টাকার পাহড়! ১৯৮৩ সালে ৮ম শ্রেণী পাশের যোগ্যতা নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করলেও অধিকাংশ সময় কাটিয়েছে মেডিকাল ছুটির নামে অপকর্ম করে।গত ১৫ নভেম্বর, দৈনিক কালের কন্ঠের শিরোনাম ছিল “কনস্টেবলের এতো টাকা”। এই শিরোনামে “৭১”টিভির “৭১জার্নালে” আসে এই ক্ষমতাধর পুলিশ কনস্টেবলের সম্পদের বিবরণের আলাউদ্দীনের আশ্চার্য প্রদীপের রহস্য!

কনস্টেবল বদরুল হাসান বাচ্চু তালুকদারের বিরুদ্ধে নানা অপকর্মের যেমন, খুন-হত্যা, হত্যার হুমকি, ভূমি দখল, চাকরি বানিজ্য, বদলি বানিজ্য, সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন মামলাবাজি, দূর্নীতির অভিযোগসহ নানা অপকর্মের তদন্ত শুরু হয়েছে।বাচ্চুর মাইজহাটী গ্রামের লোকজন অভিযোগ করে বলেন, বাচ্চু এলাকায় এলে ভয়ে এলাকায় পুরুষ শুন্য হয়ে যায়।সে তার বাহিনী নিয়ে তার মতামতের বিরোধী লোক গুলোর বাসায় যায় এবং মহিলাদের শাসিয়ে দেয় যে, তার কথার বাইরে গেলে, মৃত নাজমুল হেসেন ওরফে নুরুল ইসলামের ভাগ্য বরণ করতে হবে!

উল্লেখ্য এই নুরুল ইসলাম(৬৫),বাচ্চুর বিরুদ্দে দায়ের করা একটি মামলার হওয়ার কারনে তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিচ্ছিলো বাচ্চু  এবং তার বাহিনীর ক্যাডারেরা। অবশেষে নুরুল ইসলাম থানায় সাধারন ডায়েরী এবং আদালতে বাচ্চু,তার সহোদর দুই ভাই হিরা, রতন এবং তার বাহিনীর বিরুদ্দে জীবন রক্ষার জন্য মামলা করলেও শেষ পর্যন্ত জীবন তার জীবন রক্ষা হয়নি।গত বছরে ২৪ শে,সেপ্টেম্বর প্রকাশ্যে বাচ্চুর ভাই এবংবাহিনী কে মাথায় রক্তাক্ত জখম করে,সারা শরীরে বেধড় আঘাত করে, হাত, পা, ভেঙ্গে ফেলে।মুমুষু অবস্হায় ময়মনসিংহ মেডিকেলে নিলে, অক্টোবরের মাসের ৪,তাং এ মৃত্যুবরন করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার ঘনিষ্ঠ একজন এ প্রতিনিধিদের কাছে বলেন যে, বাচ্চু কনস্টেবল সাদা রং এর একটি প্রাইভেট কার নিয়ে বেশ কয়দিন আগে এলাকায় ঢুকেন এবং তার বিরুদ্দে অভিযোগের তদন্তে ঢাকা থেকে লোক আসবে বলে জানায়। গত বুধবার বিকাল ৩ ঘটিকার সময়ে তদন্তকারী দল গৌরীপুর থানা হয়ে বাচ্চুর বাড়ী মাইজহাটী গ্রামে যান,সেখানে বাচ্চু স্থানীয় বাজারে কৌশলে অবস্থান করেন এবং বিভিন্ন গ্রামের যেমন- বাট্রা, কুল্লা, শিমরাইল, ঈশ্বরগন্জ, হতে বাচ্চুর পক্ষের  লোক দিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন বলে বাচ্চুর অত্যাচারের ভুক্তোভোগীরা অভিযোগ করেন।তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক সালাহ উদ্দীন আরশেদ বলেন, অভিযোগ কারীর কেউ তার সামনে আসেনি, তিনি বাচ্চুর উপস্থিতির কথা অস্বীকার করেন, এছাড়া বাচ্চুর বিরুদ্দে কেউ সরে জমিনে অভিযোগ করেনি বলে জানায়। এ দিকে জি,বি,জি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের বাংলার সহকারী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, বাচ্চু এলাকায় উপস্থিত থেকে, তার পক্ষের  ভাড়াটিয়া লোকদের স্বাক্ষী দিয়ে তদন্ত করেছে। তিনি আরও বলেন তদন্ত সঠিক করতে হলে মাইজহাটী গ্রামের স্বাক্ষী কিনা সেটা আগে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে তদন্তকারীকে নিশ্চিত হতে হবে।

এলাকায় এসে ভয়-ভীতি দেখিয়ে জন শুন্য করে অন্য গ্রামের ভাড়াটে লোক দিয়ে নিরপক্ষ তদন্ত হতে পারে না। তিনি আরও বলেন তদন্তের নামে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রহসন করেছে। অভিযোগকারীর মধ্যে আমিও ছিলাম আমাকে ডাকা হয়নি কেন? নিশ্চয় এক তরফা তদন্ত করা হবে বলে আমাকে ডাকা হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে 

অনেকে বলেন এটা একটা সাজানো তদন্ত যা বাচ্চুর ইচ্ছায় হয়েছে। এক তরফা তদন্তের জন্য প্রকৃত পক্ষে  ভুক্তভোগীরা আরও অত্যাচারের স্বীকার হবে।আর অপরাধী আরও অপরাধ করার সাহস পাবে। ভুক্তোভোগীরা বলেন, নিরপক্ষ তদন্তের জন্য প্রয়োজনে আবারও পুলিশ হেডকোয়াটার সিকিউরিটি সেলে আবেদন করব।