নির্বাচন নিয়ে জনমনে সংশয়-সন্দেহ রয়েছে: পঙ্কজ ভট্টাচার্য

নিউজ ডেস্ক:  আগামী নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও দেশে এখনও এর আবহ, পরিবেশ, লক্ষণ ও পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে না; বরং নির্বাচনকে ঘিরে নানা গুজব-গুঞ্জন ডালপালা মেলছে। আদৌ তা হবে কি-না- জনমনে সেই সংশয়-সন্দেহ দেখা দিয়েছে। অথচ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তিই এখন ক্ষমতাসীন। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী শক্তির কাছ থেকেই যদি নির্বাচনের উপযোগী পরিবেশ ও অধিকার আদায় করতে হয়, তা হলে তা হবে খুবই দুঃখজনক। অথচ জনগণকে সম্ভবত সেই কাজটিই করতে হবে।’

সমকালের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে প্রগতিশীল ও বামপন্থি রাজনীতিক পঙ্কজ ভট্টাচার্য এসব কথা বলেন। ঐক্য-ন্যাপের এই সভাপতি বলেন, ‘রাজনীতিকে রাজনীতিবিদের হাতে ফিরিয়ে এনে জনকল্যাণে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা গেলেই কেবল বর্তমান রাজনৈতিক সংকট থেকে পরিত্রাণ মিলবে।’ অন্যান্য গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে তারা সেই চেষ্টায়ই নিয়োজিত রয়েছেন বলে জানান তিনি। সাক্ষাৎকারে বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী নির্বাচন ছাড়াও সংলাপ, নির্বাচন সামনে রেখে নানামুখী জোট-মহাজোট গড়ে তোলার উদ্যোগ এবং জনগণের সংকটসহ নানা বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি।

পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, নির্বাচনের জন্য একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে হয়। গণতন্ত্রের পরিসর বাড়াতে হয়। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই পরিসর এখনও খুব সংকুচিত ও সংকীর্ণ। প্রধান বিরোধী দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও শক্তিকে সভা-সমাবেশ ও কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। দেশে এখন কথা বলার স্বাধীনতা এবং পরিবেশও নেই। যেই জনগণ নির্বাচন ও গণতন্ত্রের নিয়ন্তা, সেই জনগণের মধ্যেও এখনও নির্বাচনমুখিনতার সূচনা হয়নি। তিনি প্রশ্ন করেন, জনগণের সংশয় ও অনিশ্চয়তা দূর করতে সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের কি আদৌ কোনো উদ্যোগ রয়েছে?

এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার পন্থা ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রবীণ এই নেতা বলেন, প্রকৃত নির্বাচনী আবহ ও পরিবেশ নিশ্চিত করলেই সব রকমের সংশয়ের অবসান হবে। গণতন্ত্রের স্বার্থেই সব গুজব-গুঞ্জনেরও অবসান ঘটানো প্রয়োজন। নির্বাচনের আগে-পরে দুর্বল সম্প্রদায়ের মানুষ, বিশেষ করে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং আদিবাসীদের ওপর যে নির্যাতন-নিপীড়ন চলে এবং চলছে, সেসবেরও নিঃশেষ হওয়া দরকার।

সংকট নিরসনে সরকারি ও সরকারবিরোধী পক্ষের মধ্যে সংলাপের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, ‘ক্ষমতাসীন পক্ষ বলছে, জামায়াতকে না ছাড়লে বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না। আবার বিএনপিও জামায়াতকে ছাড়বে না। এ অবস্থায় দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপের কোনো সম্ভাবনাও তো দেখি না। তবে আমাদের পরিস্কার কথা, স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী জামায়াতকে নিষিদ্ধ করতে হবে। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতের রায় এবং নির্দেশনাও মানতে হবে। তবে প্রকৃতপক্ষে জামায়াত নিষিদ্ধ হোক কিংবা বিএনপি জামায়াতকে ছাড়ূক- তা আওয়ামী লীগও চায় না। কারণ, তেমন হলেই তো সংলাপের একটি উছিলা তৈরি হয়ে যায়। ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতার বাইরে থাকা দুই পক্ষই আসলে জামায়াত তোষণে ও জামায়াতকে ছাড় দিতে বদ্ধপরিকর।’

সরকারের করণীয় সম্পর্কে ঐক্য-ন্যাপের সভাপতি বলেন, সরকারকে জামায়াত ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব রাজনৈতিক দল ও শক্তির মধ্যে আলোপ-আলোচনা করে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের পথের সব বাধা দূর করতে যতটুকু জাতীয় সমঝোতা দরকার, সেটিও গড়ে তুলতে হবে।

আগামী নির্বাচনকে ঘিরে বিদ্যমান জোট-মহাজোটের বাইরে নতুন নতুন জোট গঠনের উদ্যোগ প্রসঙ্গে পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, ‘জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও ইচ্ছা অনুযায়ী রাজনীতিতে বিভিন্ন জোট গড়ে ওঠে। মুক্তিযুদ্ধের পর কিছু সময় ও অতীতে জনগণের জীবনঘনিষ্ঠ ও কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত সেই ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণে সবাই অভ্যস্ত ছিলাম। 

এখন ১৪ দল, ২০ দল কিংবা জোট-মহাজোটের নামে যে ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণ আমরা দেখতে পাচ্ছি, সেগুলোর সবই আসলে জনবিচ্ছিন্ন ও জনকল্যাণ-বিযুক্ত ক্ষমতাকেন্দ্রিক দলগুলোর ঐক্য তথা সমঝোতা। আবার নির্বাচন সামনে রেখে কৌশলে এ ধরনের জোট-মহাজোটের শক্তি বাড়ানোর প্রচেষ্টাও চলছে। তবে জনগণের প্রত্যাশিত এবং তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের উপযোগী জোট গড়ে উঠুক- সেটিই জনগণের এ মুহূর্তের প্রত্যাশা। জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্য নিয়ে আমরা কিছু একটা করার চেষ্টা করছি। এ ক্ষেত্রে কিছুটা অগ্রগতিও রয়েছে।’

সূত্র: সমকাল ।