মোবাইল ফোনের প্যাকেজের নামে ভাওতাবাজি বন্ধ করুন: বিএমআইইউএস

স্টাফ রিপোর্টার: ১৮ জানুয়ারী ২০১৮ বৃহস্পতিবার মনিসিংহ-ফরহাদ স্মৃতি ট্রাস্ট, মনিসিংহ সড়ক, পুরানা পল্টন ঢাকায় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট অফার/প্যাকেজের নামে ভাওতাবাজি এবং ভোক্তাদের প্রতি অবিচার বন্ধের দাবীতে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন, লতিফুল বারী হামিম চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মোবাইল এন্ড ইন্টারনেট ইউজার্স সোসাইটি (বিএমআইইউএস)।

সভায় চেয়ারম্যান বলেন, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে অপারেটর/প্রভাইডাররা ব্যবহারকারীদের সহায়তার নামে বিভিন্ন প্যাকেজ ব্যবহারের কথা বলে বলছে, তা নিয়ে সকালের মধ্যে প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে। রাত বারটার পর থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত কম রেট কথা বলার যে অফার, এই অফারের দ্বারা আমরা কর্পোরেটদের কোনো উপকারে আসে না। ছাত্র-ছাত্রীরা রাত জেগে এই অধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করছে। এজন্য পড়ার সময় পাঠ্যবই ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক বিষয়ে মনোসংযোগ করতে পারছে না। সঠিক সময়ে ক্লাস যেতে পারছেনা। পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় ঘটছে।

তিনি আরো বলেন, প্রযুক্তি নির্ভর এই যুগে ছাত্রদের আচার- আচরণ, লা্ইফস্টাইল, রুচি ও মুল্যবোধের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে। এ পরিবর্তন নিয়ে সমাজের বিজ্ঞবানদের ও পরিবারের কর্তা ব্যক্তিদের এখনি সচেতন হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় বর্তমান প্রজন্মের একটা বড় অংশকে আমরা বিপদগামী/বিভ্রান্ত হতে দেখব।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৪ কোটি সিম/নাম্বার ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিটা নাম্বারে কথা বলার সময় কল ড্রেপের মাধ্যমে ব্যবহারকারী আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। উচ্চ আদালতের রায়ে ভোক্তাদের এই অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা বলা হলেও এখনো তা ঝুলে আছে। টেলিকম অপারেটররা নতুন কোনো বিনিয়োগ করছেনা। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেয়ারমার্কেটে অন্তভূক্তি/আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা না করে ভোক্তা, গ্রাহক ও সরকারকে বিপুল অংকের অার্থিক সুবধা থেকে বঞ্চিত করছে। 

ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, পুজিবাদের ধর্ম অধিক লাভ করা। আর তার জন্য ওরা যদি ইচ্ছে করে যুদ্ধ করার প্রযোজন। তাহলে তাই করতে পিছপা হয় না। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়ে যা্চ্ছে। আর এই লুটের বিষয়টা রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের নজরেও এখনো আসেনি। বাংলাদেশ সরকার প্রতিদিন বঞ্চিত হচ্ছে বিরাট অংকের লভ্যাংশ থেকে। আমরা আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে এই বিষয় গুলো সরকারের নজরে আনব, প্যাকেজ সংখ্যা কমানোর কথা বলব।  

খান সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আগামী কিছু দিনের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাই ও ফোরজি মোবাইল সেবা চালু হবে। আমরা আশা করি ফোরজি চালুর মাধ্যমে আরো দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা পাব। দেশে ও বিদেশের যোগাযোগ আরো সহজতর হবে। এমত অবস্থায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস আদালতসহ সকল ক্ষেত্রে ফেইজবুকের চার্জ ফ্রি করার দাবি জানাচ্ছি।

কবি লিলি হক বলেন, ডিজিটাল জগত তথা ফেইজবুক ইন্টারনেট কবি সাহিত্যিক তথা সৃষ্টিশীল মানুষের জন্য বিশাল অবরিত ক্ষেত্র। এ প্রযুক্তিকে সুস্থ ও সচেতন ভাবে ব্যবহার করতে হবে। এর অপব্যবহার জাতির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। মোবাইল ইন্টারনেট ও ফেইজবুকের মাধ্যমে পণ্যগ্রাফি বন্ধ করতে হবে।  

মতবিনিময় সভায়- আইয়ুব খান ফারুক, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, মিনহাজ উদ্দীন আহম্মেদ সেলিম, সানোয়ার হোসেন সামছী, মোহাম্দ হোসাইন ফাহমী, এলিজা রহমান, এজাজ রহমান, প্রিন্স মাহমুদ, মাহাবুবুর রহমান, তাজুল ইসলাম সবুজ, সোহেল আল- মাহামুদ প্রমুখ মতামত ব্যক্ত করেন।