শেকড়ের সন্ধানে ইএসডিও’র পৌষ মেলা ও পিঠা উৎসব

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: নতুন প্রজন্মকে শেকড়সন্ধানী ও অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতিতে উদ্বুদ্ধ করতে ইকো সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) আয়োজন করেছে দ্বিতীয় পৌষ মেলা ও নবম লোকায়ন পিঠা উৎসব। যার সহযোগীতায় ছিল পল­ী কর্ম সহায়ন ফাউন্ডেশন (পিএকএসএফ)। রোববার, ৭ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও জেলা শহর থেকে তিন কিলোমিটার উত্তরে পূর্ব আকচায় অবস্থিত লোকায়ন জীবন বৈচিত্র্য জাদুঘরে ওই মেলার আয়োজন করা হয়।

উৎসবে ছিল নতুন চালের হরেক রকমের পিঠার সমাহার। শিশুদের জন্য ছিল চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা। তীব্র শীত উপেক্ষা করে ঠাকুরগাঁও জেলার বিশিষ্ট জনের সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে দেওয়া নিজেদের বক্তব্যে গ্রামীন বাংলার ঐতিহ্য সংরক্ষন শেকড়ের সন্ধ্যান করার তাগিদ দেন বক্তাতারা।

অনুষ্ঠানে ছিল বর্ণাঢ্য আলপনা ও সাজসজ্জা। বিকেলে লোকজ জীবনের কন্ঠ স্মরণ করিয়ে দেন এমন ভাওয়াইয়া গানের প্রতিযোগীতা দিয়ে উৎসবের শুরু হয়। বেশ দরদ ভরা কন্ঠে গান গেয়ে উৎসবকে মানিয়ে রাথেন প্রতিযোগীরা। একই সঙ্গে চলে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতা। যেখানে শিশুরা রঙের শোভায় রাঙিয়ে তোলে ফুল, পাখি, গাছ ও প্রকৃতি। সঙ্গে ছিল দেশীয় নৃত্য প্রতিযোগীতা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব রাম চন্দ্র দাস। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইকো সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্কুল ফিডিং প্রোগ্রাম প্রকল্পের কর্মকর্তা ফরহাদ আলম, স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব রাম চন্দ্র দাসের পত্নী মিতু রানী, ঠাকুরগাঁও জেলার জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়ালের পত‌্নী এলিজা শারমিন, ঠাকুরগাঁও জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জহুরুল ইসলামের পত্নী শাহনাজ পারভীন, সাবেক অধ্যক্ষ মনোতোষ কুমার দে, ঠাকুরগাঁও সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আখতারুজ্জামান প্রমুখ। সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন ইএসডিও’র পরিচালক প্রশাসন সেলিমা আখতার। এ ছাড়াও ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন স্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও ইএসডিও’র কর্মকর্তাবৃন্দ উৎসবে উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রতিযোগী শিক্ষার্থী ও অন্যান্যদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব রাম চন্দ্র দাস বলেন, আমরা ধীরে ধীরে শেকড় থেকে সরতে বসেছি। আজকে অনেকেই শেকড়কে অস্বীকার করে। কিন্তু আমাদের শেকড়ের কাছেই থাকা উচিত। এ জন্য গ্রামীন ঐহিত্যকে ধারণ করা দরকার। এই পৌষ মেলা ও পিঠা উৎসব আমাদের শেকড়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি আরো বলেন, শুদ্ধ সাংস্কৃতিক চর্চাই আমাদের পরিচয়। পিঠা সেই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি অংশ। তিনি এমন একটি মনমুগ্ধকর অনুষ্ঠানের জন্য ইএসডিও’র নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামানকে ধন্যবাদ জানান।

স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইকো সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান বলেন, আজকে যথার্থ দিনেই এই পৌষ মেলা ও পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমরা আমাদের উৎসবে গ্রামীন মানুষের জীবনকে ফুটিয়ে তুলে শেকড়ের সন্ধান করি।

প্রিন্স, ঢাকা