ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতার উপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত

নিউজ ডেস্ক : সম্প্রতি রাজধানীর ইএমকে সেন্টারে হাউ টু বি এ মায়েস্ট্রো অব ফ্রিল্যান্স জার্নালিজমে শীর্ষক একটি মাস্টারমাইন্ড সেশন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্যোক্তা সাংবাদিক এবং র’দিয়া আইএনসির কর্ণধার রবিউস সামস অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এবং রাইটার্স পয়েন্টের এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সম্পাদক মহিন উদ্দিন মিজান – রিসোর্স পারসোন হিসেবে বক্তৃতা প্রদান করেন।

 

বাংলাদেশে এই ধরনের প্রথম কার্যক্রমটি ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী যারা ফ্রিল্যান্স কন্ট্রিবিউটর /কলামিস্ট / ফিচার লেখক হতে চান তাদের জন্য আয়োজন করা হয়। অনলাইনে নিবন্ধনকৃত ৬০ জন এই ফ্রি কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। বিশিষ্ট বক্তা এবং লেখক রবিউস সামস তার ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতার আলোকে জানান কিভাবে সুন্দর সুন্দর টপিক খুঁজে বের করা যায় এবং নিজের লেখা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের উপযোগী করে তোলা যায়। রবিউস সামস বলেন, সম্ভাবনাময় তারুণ্য স্বাধীন সাংবাদিকতা বা ফ্রিল্যান্স জার্নালিজমের মাধ্যমে বাড়তি আয়ের সুযোগ নিতে পারে। প্রচলিত ধরনের নিয়মিত সাংবাদিকতার বাইরে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে ক্যারিয়ার হিসেবেও নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। উদ্যমী তরুণদের জন্য গণমাধ্যমে কাজ করা একধরনের এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ। কর্মশালায় অংশ নেওয়া তরুণদের মধ্যে অনেকেই সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী না হলেও স্বাধীন সাংবাদিক হিসেবে গণমাধ্যমে কাজ করতে আগ্রহী। উদ্যমী তরুণদের নিয়ে আয়োজিত এ কর্মশালায় পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল ডিজিটাল ব্রিজ, রকমারিডটকমসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। মূল সেশনে আলোচক রবিউস সামস বলেন, ‘স্বাধীন সাংবাদিকতার মাধ্যমে তরুণরা ক্যারিয়ার গঠন করতে পারে, অন্যান্য পেশার পাশাপাশি বাড়তি আয় করতে পারে। তাছাড়া ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সাংবাদিকতা করা যেতে পারে। এজন্য গণমাধ্যমের মৌলিক ধারণার পাশাপাশি পাঠকদের মনোভাব ও প্রত্যাশার বিষয়ে ধারণা অর্জন করতে হবে।’ আলোচকরা আরও বলেন, অন্যান্য দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা একটি বড় শিল্প। অনেকেই স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করে অর্থ আয় করে। তাদের লেখনীর জন্য গণমাধ্যমগুলো সম্মানী দেয়। আমাদের দেশে কিছু কিছু গণমাধ্যম সম্মানী দিলেও অনেকে লেখালেখিকে স্বেচ্ছাসেবা হিসেবে গণ্য করছেন। এ সংস্কৃতির বদল প্রয়োজন। তাহলে নাগরিক সাংবাদিকতার মতো সর্বজনীন হতে পারবে এ খাত। আলোচক মহিন উদ্দিন মিজান বলেন, ‘আমরা সবাই নানা বিষয়ে ভাবলেও সবাই লেখক হয়ে ওঠে না। তবে লেখক হয়ে ওঠার জন্য নিয়মিত প্রচেষ্টা থাকা জরুরি। মূলধারার প্রতিবেদনের বাইরেও ফিচার, কলাম ও মতামত লেখার মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতা শুরু করতে পারে যেকোনো আগ্রহী তরুণ।’

কর্মশালার বক্তারা বলেন, শুধু শব্দ বা ব্যাকরণ জানলেই ভালো লেখা যায়, ব্যাপারটি সত্য নয়। বরং কোনো কিছু লেখার জন্য বর্ণনা, বাক্য, শব্দ ও অনুচ্ছেদ বিন্যাসে মনোযোগ দেওয়া উচিত। তার সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন তথ্য-উপত্তের দিকে। তথ্য-উপাত্ত না থাকলে যেকোনো লেখা সামাজিক মাধ্যমের অভিমত হলেও গণমাধ্যমে প্রকাশযোগ্য হয় না। এছাড়া শুরুতে অনেকে নানা বিষয়ে লেখার চেষ্টা করেন। বিশেষজ্ঞরা তাদের সুনির্দিষ্ট একটি বিষয়ে আগ্রহ নিয়ে অধ্যয়ন ও লেখালেখির পরামর্শ দেন কর্মশালায়।বিজনেস রিপোর্টার এবং রাইটার্স পয়েন্টের সম্পাদক  মহিন উদ্দিন মিজান ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতার — সত্যিকার অর্থ এবং লেখায় ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যতা সংজ্ঞায়িত করেন।  মূল বক্তব্যে তিনি তুলে ধরেন যে, কিভাবে একজন প্রবন্ধ বা গল্প লেখার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করবে যা দ্বারা সম্পাদক ও পাঠকের হৃদয়  জয় করে নেয়া যায়। এছাড়া অনুষ্ঠানটি আয়োজনে  সহযোগীদের ভূমিকা তাদের প্রতিনিধিগন তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি র’দিয়া আইএনসি এর একটি সহযোগী উদ্যোগ।সহযোগীতা করেছে ইএমকে সেন্টার। রবিউস সামস জানান, র’দিয়া দেশে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতা প্রসারে এই মাস্টারমাইন্ড সেশন সিরিজ সামনের দিনগুলোতে ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করবে। অন্যান্য পার্টনার হিসেবে ছিল ডিজিটাল ব্রিজ, রকমারি ডট কম, রাইটার্স পয়েন্ট, নিউজফিডপিআর, সফটবিন এবং অন্যান্য।