চুরির আনন্দ মেলা

গৌরীপুর প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের কলতাপাড়া বাজারে চুরির হিড়িক পড়েছে। বাজারটিতে রাতে নিরাপত্তার জন্য পাহাড়াদার ও টহল ব্যবস্থা না থাকায় গত নয় মাসে প্রায় অর্ধশতাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিবাগত রাতেও বাজারের একটি দোকানের পাকা দেয়াল ভেঙে নগদ টাকা ও মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে দুবৃর্ত্তরা।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারের পিছনের দিক অরক্ষিত থাকায় সেদিক দিয়েই চুরিগুলো সংগঠিত হচ্ছে। চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকা ক্ষতি হলেও ভুক্তভোগীরা আইনি জটিলতার কারণে কেউ মামলা করেনি। ফলে চোরের দল বেপরোয়া হয়ে দ্বিগুণ উৎ্সাহে চুরি করে যাচ্ছে।

জানা গেছে, উপজেলা সদর থেকে মাত্র পাঁচ কিেিলামিটার দূরে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশেই গড়ে উঠেছে কলতাপাড়া বাজার। শিল্প-কারখানা সমৃদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ এই বাজারটিতে স্কুল, কলেজ, ব্যাংক, এনজিও, ফ্যাক্টরি সহ ছোট-বড় প্রায় দুই শতাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থাকলেও এখানে রাতের নিরাপত্তার জন্য কোনো পাহাড়াদার কিংবা টহল ব্যবস্থা নেই।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই বাজারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চুরি সংগঠিত হচ্ছে। স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা জানান, পাহাড়াদার থাকার পরও বাজারের বিভিন্ন দোকানে চুরির সংগঠিত হওয়ায় নয় মাস আগে পাহাড়াদার বাদ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে বাজারের নিরাপত্তার জন্য ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময় বাজার কামটি গঠন ও পাহাড়াদার ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে সেটা গঠন করা সম্ভব হয়নি।

বাজারের ব্যবসায়ী আশরাফুল হক বলেন, গত শুক্রবার রাতে দুবৃর্ত্তরা আমার প্রতিষ্ঠানের পিছনের অংশের পাকা দেয়াল ভেঙে নগদ টাকা, মালামাল ও হিসাবের খাতা চুরি করে নিয়ে যায়। আমার ধারণা বাকির খাতা লুট করতেই দুবৃর্ত্তরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। কারণ খাতায় গ্রাহকদের সাথে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার হিসাব-নিকাশ রয়েছে।

বাজারের ব্যবসায়ী ওবায়দুল্লাহ বলেন, পাহাড়াদার না থাকায় ব্যবসায়ীক নিরাপত্তা নিয়ে আমরা শঙ্কিত। ৮/১০ দিন আগে চোরের দল আমার দোকানের বৈদ্যুতি মিটার নিয়ে গেছে।

বাজারের ব্যবসায়ী সাইদুল ইসলাম বলেন, ডৌহাখলা ইউনিয়নের ছোট বাজারগুলোতেও রাতে নিরাপত্তার জন্য পাহাড়াদারের ব্যবস্থা আছে।কিন্তু কলতাপাড়ার শিল্প এলাকার একটা বাজারে পাহাড়াদার না থাকাটা দুঃখজনক। পাহাড়াদার না থাকায় গত কয়েক মাসে আমাদের আতœীয়-স্বজনের ৬/৭টি দোকানে চুরি সংগঠিত হয়েছে।

ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল হক সরকার বলেন,কলতাপাড়াবাজার কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তীতে বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বাজার কমিটি গঠনের জন্য আমি একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও ব্যবসায়ীকদের ঐক্যবদ্ধ মনোভাব না থাকায় সেটা করতে পারিনি। তবে আবারো উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার আহম্মদ বলেন, শুক্রবার রাতে কলতাপাড়া বাজারে চুরির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পাশাপাশি বাজারের প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তার জন্য রাতে পুলিশ টহল ব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রিন্স, ঢাকা