চট্টগ্রামে পিইসি পরীক্ষায় পাসের হার ৯৬.১৭% ইবতেদায়ীতে ৯০.২৯%

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় চট্টগ্রামে পাসের হার ৯৬ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় পাসের হার ৯০ দশমিক ২৯ শতাংশ। পিইসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ হাজার ১১৫ জন এবং ইবতেদায়ীতে ৪৭০ জন। বিগত ২০১৬ সালে পিইসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৬ জন।

কৃতকার্য হয়েছিল ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৯৫৩ জন। পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় পিইসিতে এবার পাসের হার কিছুটা কমলেও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে সাড়ে ৭ গুণের অধিক। ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় গতবার ও এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় সমান। গতকাল ৩০ ডিসেম্বর শনিবার দুপুর ২টায় প্রকাশিত ফলাফল সম্পর্কে এ তথ্য জানান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা।

তিনি জানান, এবছর পিইসিতে নগরীর ৬টি সহ চট্টগ্রামের ২০ শিক্ষা থানা/ উপজেলার মোট ৩ হাজার ৭৯৪টি স্কুলের ১ লাখ ৪৭ হাজার ৯৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৪২ হাজার ২৬৪ জন। পাসের হার ৯৬.১৭ শতাংশ। ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় নগরীসহ ২০ শিক্ষা থানা/ উপজেলা থেকে মোট ২৩ হাজার ১১৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তন্মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ২০ হাজার ৮১৭ জন। পাসের হার ৯০ দশমিক ২৯ শতাংশ। গত ১৯ নভেম্বর থেকে চট্টগ্রামসহ সারাদেশে একযোগে পিইসি ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২০১৭ শুরু হয়ে ২৬ নভেম্বর শেষ হয়।

নাসরিন সুলতানা জানান, পিইসি পরীক্ষার ফলাফলে এবার বাঁশখালীতে মোট ৯ হাজার ৩৯৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৯ হাজার ৩৬২ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭১২ জন এবং পাসের হার ৯৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ। রাউজানে মোট ৬ হাজার ৯৯২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬ হাজার ৩০৪ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৭৪ জন এবং পাসের হার ৯৮ দশমিক ৬২ শতাংশ।

স্বদ্বীপে ৫ হাজার ৮৮৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫ হাজার ৫০৯ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৮৩ জন এবং পাসের হার ৯৩ দশমিক ৬১ শতাংশ। ফটিকছড়িতে মোট ১০ হাজার ৩৭১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৯ হাজার ৮৭৬ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৫১ জন এবং পাসের হার ৯৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। পটিয়ায় মোট ১০ হাজার ৭৪৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১০ হাজার ৩৯৫ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৩২ জন এবং পাসের হার ৯৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।

আনোয়ারায় মোট ৫ হাজার ৯৭২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫ হাজার ৭৬৬জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৫৭ জন এবং পাসের হার ৯৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ। বোয়ালখালীতে মোট ৪ হাজার ৫৬৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৪ হাজার ৩১১ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৪ জন এবং পাসের হার ৯৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ। লোহাগাড়ায় মোট ৫ হাজার ৮১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫ হাজার ৬০৪ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৩ জন এবং পাসের হার ৯৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

ডবলমুরিংয়ে মোট ৯ হাজার ৫৫৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৮ হাজার ৭৬৫ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮৪৩ জন এবং পাসের হার ৯১ দশমিক ৭৪ শতাংশ। চন্দনাইশে মোট ৪ হাজার ১৮৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৪ হাজার ১০৯ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৫২ জন এবং পাসের হার ৯৮ দশমিক ০৯ শতাংশ। হাটহাজারীতে মোট ৭ হাজার ৯৩৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৭ হাজার ৭০৬ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৫৪ জন এবং পাসের হার ৯৭ দশমিক ১১ শতাংশ।

রাঙ্গুনিয়ায় মোট ৬ হাজার ৯২২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬ হাজার ৮৭৮ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৩৭ জন এবং পাসের হার ৯৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ। মিরসরাইয়ে মোট ৭ হাজার ২৭০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৭ হাজার ১৫৭ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬১ জন এবং পাসের হার ৯৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। সীতাকুÐে মোট ৭ হাজার ৯৩০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৭ হাজার ৩৯২ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫১৮ জন এবং পাসের হার ৯৩ দশমিক ২২ শতাংশ।

পাহাড়তলীতে মোট ৬ হাজার ৪৬৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬ হাজার ৩৪৬ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৭৬০ জন এবং পাসের হার ৯৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। বন্দরে মোট ৭ হাজার ৫৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬ হাজার ৬০০ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১১৪ জন এবং পাসের হার ৯৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। পাঁচলাইশে মোট ৮ হাজার ৬৯৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৮ হাজার ৫০৯ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭০৯ জন এবং পাসের হার ৯৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

চান্দগাঁওয়ে মোট ৮ হাজার ২৬৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৭ হাজার ৫০৮ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৪৯ জন এবং পাসের হার ৯০ দশমিক ৮৬ শতাংশ। কোতোয়ালীতে মোট ৬ হাজার ৮৬৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৬ হাজার ৬১৯ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৯০ জন এবং পাসের হার ৯৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। সাতকানিয়ায় মোট ৭ হাজার ৬৪৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৭ হাজার ৫৪৮ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৭৫ জন এবং পাসের হার ৯৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

পিইসির ফলাফলে মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে বাঁশখালী ১ম (৯৯.৬৪), রাঙ্গুনিয়া ২য় (৯৯.৩৬), সাতকানিয়া ৩য় (৯৮.৭৪), রাউজান ৪র্থ (৯৮.৬২), মিরসরাই ৫ম (৯৮.৪৫), পাহাড়তলী ৬ষ্ঠ (৯৮.১৬), চন্দনাইশ ৭ম (৯৮.০৯), পাঁচলাইশ ৮ম (৯৭.৮৫), হাটহাজারী ৯ম (৯৭.১১) এবং পটিয়া ১০ম স্থানে (৯৬.৭১) রয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাসরিন সুলতানা পিইসির ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে আরো ভালো ফলাফল অর্জনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রিন্স, ঢাকা