সাবরিনার শিশুতোষ গল্পের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত

ঢাকা প্রতিনিধি: সৃজনশীল লেখালেখি বিষয়ক খ্যাতিমান পরামর্শক সাবরিনা করিমের শিশুতোষ ফিকশন ‘দ্য মুন জাম্পিং’ এর প্রকাশনা উৎসব জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আজ সকাল সাড়ে ১১টায়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী, চিত্রকর, ভাস্কর এবং পাপেটিয়ার জনাব মুস্তাফা মনোয়ার। প্রকাশনা উৎসবে আরো উপস্থিত ছিলেন সাবরিনা করিমের মা শিরিন করিম ও পুত্র ইহাব মুর্শেদ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আশা ইসলাম।

শিশুদের জন্য এ ধরনের অসাধারণ কল্পনাসমৃদ্ধ অনিন্দ্যনীয় কাজ আরো বেশি বেশি হওয়া উচিত দেশে। সৃজনশীল লেখক-শিল্পীদের এক্ষেত্রে আরো বেশি এগিয়ে আসা উচিত। শিশুদের কল্পনাকে উজ্জীবিত করে এ ধরনের কাজ, যা শিশুর বেড়ে ওঠার গতিকে প্রাণবন্ত এবং অবিরাম সৃজনশীল রাখতে সাহায্য করে। মোড়ক উন্মোচনের পর দেয়া বক্তব্যে এসব বলেন শিশুদের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয় পাপেটিয়ার মুস্তাফা মনোয়ার।

স্বাস্থ্যগত কারনে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন উপস্থিত হতে না পারলেও লিখিত বক্তব্যে সাবরিনাকে সাহিত্য জগতে স্বাগত ও একটি সুন্দর বই উপহার দেয়ার জন্যে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সাবরিনার গল্পের নায়ক শিশু বয়সে মায়ের কাছ থেকে শোনা ছড়াটি তার কল্পজগতে গেঁথে নিয়েছে। এছাড়া প্রকৃত বন্ধুত্বের জায়গাটি এই গল্পে চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

স্যামি যখন আরো একটু বড় হলো, সে ভাবল, গরু যে লাফিয়ে চাঁদকে টপকে যেতে পারে এতোকাল বিশ্বাস করে আসা এই গল্প মিথ্যা। আর ঠিক তখনই এক অদ্ভ‚ত ঘটনা ঘটল। তার জানালার বাইরে থেকে ঘরের মধ্যে উঁকি দিল এক কথা-বলা গরু যার পরনে রয়েছে ঝা চকচকে বারমুডা শর্টস এর চোখে নজরকাড়া সানগøাস। নিজেকে সে মু নামে পরিচয় দিয়ে স্যামিকে দাওয়াত দিল কাওর্নিভালে (গরুৎসবে) যোগদানের। সেখানে নাকি তার মুন জাম্পিং নামে এক বিশেষ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার কথা। গরুৎসবে গিয়ে তার পরিচয় হলো মুয়ের বন্ধুরা আর তার প্রধান শত্রæ অক্সির সঙ্গে, যে কিনা কোনোভাবেই চায় না মুন জাম্পিংয়ে অংশ নিক মু এবং তৃতীয়বার বিজয়ী হয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করুক। মুর স্বপ্ন ধ্বংস করার জন্য যে কোনো কিছু করতে সে প্রস্তুত। শেষ পর্যন্ত কী হবে তাহলে? মু কি তার হ্যাটট্রিক পূর্ণ করতে পারবে? এই মহা বিপদের দিনে নতুন বন্ধুকে কি কোনো সাহায্য করতে পারবে স্যামি? অসাধারণ এই গল্প শিশুদের মনকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে এক আনন্দময় কল্পনার ভুবনে। একই সঙ্গে তারা আরো শিখবে বন্ধুত্বের দাম দিতে হয় কীভাবে, আর এও জানবে চলার পথে কোনটা সঠিক আর কোনটা বেঠিক।

সাবরিনা করিম মুরশেদ পেশাগত জীবনেও শিশুদের জন্য সৃজনশীল লেখালেখি বিষয়ক একজন ফ্যাসিলিটেটর। তিনি তার পেশাগত জীবন শুরু করেন মূলধারার একজন সাংবাদিক হিসেবে, কিন্তু পরে সরে আসেন উন্নয়ন কার্যক্রম, বিশেষত শিশু অধিকার খাতে। নয়াদিল্লি থেকে ইরেজি সাহিত্যে পোস্টগ্রাজুয়েট সম্পন্ন করা সাবরিনার সঙ্গে লেখালেখির বন্ধন সেই শৈশব থেকেই। দ্য মুন জাম্পিং শিশুদের জন্য তার প্রথম উপহার। অনলাইনে সাবরিনার সঙ্গে যোগাযোগের ঠিকানা, sabrina.karim.murshed@gmail.com.

দ্য মুন জাম্পিং বইটি বেঙ্গল বই, জ্ঞানকোষ, বই বিচিত্রা সহ বেশ কিছু বইয়ের দোকানে পাওয়া যাবে। এছাড়া এটি অনলাইনে রকমারি.কম (www.rokomari.com) থেকেও কেনা যাবে।