ফেরা

এম.এস প্রিন্স

এখানকার যে পরিবেশ
কারো জন্যে আঁধার কালো গগনে মেঘ মেঘ
আর যত হৃদয় উল্লাসে শূন্যে তারকা।
এরি মাঝে কেমনে থাকা সম্ভব? কিই বা আর!
বিদ্যাশিক্ষায় ব্রত হয়ে গুরু জনের যে দক্ষিণা পেলাম তা-
সবার তরে আমরা মানুষ সবাই সমান।
এতো দেখি শুধু দক্ষিণাই বাস্তবে আর।
সেই ভালো চলি করুণ সীমানা ছেড়ে দূর দিগন্তে
যেখান আছে মুক্ত স্বাধীন সূর্যের কিরণ।
হয় যদি সে কপল। নাই বা হলে কেউ পথের সঙ্গি ও থাক্
ঠিকানা হবে কোথা আমি জানিনা
শুধু জানি আমাকে যেতে হবে বহু দূর।
আবছায়া ঘন কালো আঁধার হতে আলোর আশে
চলছি তাই আমি এক অজানা পথে।
নেই পিছুটান। কত শহর নগর জন সমুদ্র পেরিয়ে
ঠাঁই নিলাম শেষে নির্জন এক পাহাড়ে।
না আছে কোনো জন-মানব, না আছে কোনো আবাদি জমি
সবুজ সবুজ বৃক্ষ আর বৃক্ষ এরি মাঝে কিছু কিছু ফলাদি।
হয়ত বাস আমার, তবে সর্প জোঁক বাঘ আরো যত বন্য
ভয়ে ভয়ে তবু সতত চলি খোদার দয়ায়।
এমনি ভাবে দিনকে দিন মাসকে মাস পেরিয়ে একযুগ
অতপর কথা বলার সঙ্গি হলো পাহাড়ী এক মেয়ে।
আঁধার ঘরে যেমনেই হোক সে জ্যোতি চন্দ্রই।
কিভাবে কপলে মিলল তা জানি না-
তবে সে বুঝি আমার ভাগ্যচক্র।
একা ছিলাম বেশ ছিলাম
সবুজ বৃক্ষশাখার ডগা আর ফলাদি ক্ষুধা নিবারনে সম্বল
এলো যে তারে কেমনে? বিছানাই বা কোথা দিব!
রজনী কাটে আমার বৃক্ষতলে।
আসি নাই খেতে বা থাকতে
বহু কাল ধরে জানি আছ তুমি এই নির্জন পাহাড়ে
খানিক সময়ের জন্যে হলেও আসছি সঙ্গত্ত্ব দিতে তোমারে।
হয়ত মেয়ে তবে সাধারণ নয়
নয়ত আমি আছি এখানে সে জানে কেমনে?
কিই বা তার গূঢ় রহস্য আমি জানি না।
তুমি ছিলে যেথা
এই ধরা তরে তোমার পূর্ণ স্বাধীনতা সেথা।
তবে কেন এখানে বাস করে গায়ে লাগায়ে গরম বায়ু
জগৎ জীবনে জীবন কাহিনী আপন হাতে করেছ দুয়ো।
এ কথা বলে চলে গেল
যাবার কালে আবার গেল যা বলে-
এই গগন তলে যত আর
দিনে দিনে আরো গভীরে গিয়ে বন্ধ করবে দুনিয়ার দ্বার।
তবে তুমি আছ যত কাল
তোমার ধরা তুমিই সাজাও না আশে অন্যের হাল।
কোন দিগন্তে পলায়ন করল এলই বা কোথা হতে জানিনা।
তবে যা বলে গেল জীবনে সত্য সত্য।
নয়ত যে আশেই হোকনা আসা, পেলামটা কী?
অন্ধকার কাহিনী তো জীবনকে ঘিরেই আছে
সেই ভালো ফিরে চলি তার কথানুসারে পূর্ব নীড়ে।
জীবন সায়াহেৃ হলেও জগতে জীবন যাত্রা পথের
আনন্দ দেবতা কিছু না কিছু সহায়ক হবে।