সে দিনের সেই গল্পে আমি আজো বিভোর

এম.এম প্রিন্স

বয়সে তরুণ, সূর্যোদয় হবে
এমন সময় মেঘাচ্ছন্নে আকাশ কাকের ডিম
কুলান ছাড়েনি কোনো পাখি।
ঝড়ে আকাশ ভেঙ্গে যেন গায়ে না পড়ে-
এজন্যে উপরের দিকে ঠ্যাং ফিরে ঘুমঘোরে বাবুই।
তবে শিশিরে ভেজা সবুজ তৃণের সোনালি রোদের-
কিরণের মতোই আমি সুখি
যদি তুফান হয় আম কুঁড়াব- এজন্যে আম্র গাছের তলে।

অগ্নি কোণ থেকে আসা বাতাসে গাছে গাছে বোঁ বোঁ সোঁ সোঁ শব্দ
বুঝি সব ভেঙ্গে মরুর রূপে সাজবে
এখানে জন্মাবে আরেকটা নতুন পৃথিবী- কিন্তু না
গল্পটা আমার গৃহ উঠান আঙ্গিনায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে-
আর সঙ্গিতের ছোঁয়ায়।
থেমে গেল আমার আম কুঁড়ানো।
অপরূপ রূপময় সুন্দও, এ-সময় বুঝি আকাশ থেকেই নেমে এলো
এই আম্র তল নানা কারুকার্যে তাজমহল তাঁর স্পর্শে।
কিন্তু কে দেখে তার এই নানান আর হাঁটা চলাচল-
এখানে সব মাতোয়ারা
মনে হয় ধরা তলে আমার জন্যে সে উপহার-
খোদা বানিয়েছে তাই তারে সে মত।
আম কুঁড়াচ্ছে আর একে পর এক রাখছে আমারি ব্যাগে
কিন্তু অবাক নয়নে আমি শুধু তার পানে।
এলোচুলে বাতাসে কী ঢেউ- মনো হরীণির চোখ
আরো যত সব মন কাড়ার এক নীলাভ তাণ্ডব।
হার মেনে যাবে বোধ-করি মুনালিসাও।

সে সময় জীবন থেকে ত্যাগ করে গিয়ে আজ বায়ান্নটি-
বসন্তে পদার্পন আমার
তবু আমি সে দিনের সেই গল্পে বিভোর আজো।
ঘটমান সে সময়ের কাহিনী পর্বত শৃঙ্গের মতো দৃশ্যমান
তাই তাকে খোঁজে ফিরি বারবার।
কারণ সে সময় আম কুঁড়ানোর ফাকে- ‘ কুড়ে দিলাম তোমায়
যেন তুষার শীতল হয় মন।’ বলেই চলে গেল।
কত শহর নগর গ্রামকে গ্রাম খোঁজে ফিরলাম কিন্তু পেলাম না
পেলাম না আম ভর্তি ব্যাগটাও।
তুষার শীতলও হলো না মন আমার
বরং তার শূন্যতায় জন্ম নিল হাহাকারের রূপধারার গল্প।
যে গল্পের সূচনা লগ্নে কেটেছিল আমার এক দেখার জন্যে
এক দাঁড়ানোতে এক দিন এক রাত।
কিন্তু ঝড় তুফানে কোথায় বা কী! সে খেয়াল ছিল না
ছিল না ধ্যান দিবস-রজনী কেমনে গেল কেটে?
আমি শুধু রূপ রহস্যে মশগুল। যেখানে ছিল আমার নতুন পৃথিবী
যার আশে আজো আমার দিন সাজে সবুজে।